নয়াদিল্লিতে AITC-র সাংবাদিক বৈঠকে বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষ। বাংলার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলে বিজেপি-নেতৃত্বাধীন সরকারের ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলেন তিনি।
সাগরিকা ঘোষের বক্তব্যে উঠে আসে বাংলায় বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা ও পুলিশি পদক্ষেপের প্রসঙ্গ। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক বিরোধিতাকে দমন করতে প্রশাসনিক ও আইনপ্রয়োগকারী ব্যবস্থাকে ব্যবহার করা হচ্ছে। এর আগেও তিনি কেন্দ্রীয় সংস্থা ও পুলিশের ক্ষমতা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছিলেন।
সম্প্রতি তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কলকাতা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ ঘিরেও রাজনৈতিক চাপানউতোর তৈরি হয়েছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে অভিযোগ করা হয়েছে, যদিও বিজেপি সেই অভিযোগ খারিজ করে আইন সবার জন্য সমান বলে দাবি করেছে।
সাগরিকা ঘোষের বক্তব্যে পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠে আসে। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক বিরোধিতার কারণে নির্দিষ্ট নেতাদের টার্গেট করা হচ্ছে। পাশাপাশি, এই গোটা রাজনৈতিক পরিস্থিতির পিছনে শুভেন্দু অধিকারীর ভূমিকা রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে এই দাবি সাগরিকা ঘোষের রাজনৈতিক অভিযোগ; এর স্বাধীন প্রমাণ বা বিজেপির পক্ষের সমর্থন এই প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠিত নয়।
বিজেপির বিরুদ্ধে সাগরিকা ঘোষের এই আক্রমণ অবশ্য নতুন নয়। এর আগেও তিনি দলবদল, কেন্দ্রীয় সংস্থা ও রাজনৈতিক ক্ষমতার ব্যবহার নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন।
দিল্লির সাংবাদিক বৈঠককে ঘিরে তৃণমূল-বিজেপি রাজনৈতিক সংঘাত যে আরও তীব্র হচ্ছে, সাগরিকা ঘোষের বক্তব্যে তারই প্রতিফলন দেখা গেল। আগামী দিনে বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ আরও জোরালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।