নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক : দেশে E20 পেট্রোলের ব্যবহার বাড়ানো নিয়ে কেন্দ্র সরকারের নীতির সমালোচনা করেছেন কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। এক বিবৃতিতে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, সাধারণ মানুষের জন্য কেন পেট্রোল পাম্পে E20-এর পাশাপাশি খাঁটি (ইথানলবিহীন) পেট্রোলের বিকল্প রাখা হচ্ছে না।
অধীর রঞ্জন চৌধুরীর দাবি, কোন ধরনের জ্বালানি ব্যবহার করবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার সাধারণ মানুষের থাকা উচিত। তিনি অভিযোগ করেন, E20 পেট্রোল কার্যত মানুষের উপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও দাবি করেন, দুই চাকা ও চার চাকার গাড়িতে ইঞ্জিনের সমস্যা, ফুয়েল লাইনে ব্লকেজ এবং ঘনঘন যান্ত্রিক ত্রুটির অভিযোগ বাড়ছে। এই প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, E20 জ্বালানির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে পর্যাপ্ত ও স্বচ্ছ বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা হয়েছে কি না এবং কেন অটোমোবাইল বিশেষজ্ঞ বা বিজ্ঞানীদের বক্তব্য সামনে আনা হচ্ছে না।
একইসঙ্গে অধীর রঞ্জন চৌধুরী কেন্দ্রের কাছে জানতে চান, বর্তমানে খাঁটি পেট্রোলের প্রকৃত মূল্য কত এবং দেশের কতগুলি পেট্রোল পাম্পে তা পাওয়া যায়। তাঁর অভিযোগ, কর কাঠামো ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি আড়াল করতেই ইথানল মিশ্রিত পেট্রোলের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
তিনি অতীতের সঙ্গে বর্তমানের তুলনাও টেনে আনেন। তাঁর বক্তব্য, ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেশি থাকলেও দেশে পেট্রোলের দাম তুলনামূলক কম ছিল। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কম থাকা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষকে বেশি দামে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
তবে অধীর রঞ্জন চৌধুরীর এই বক্তব্যের বিষয়ে কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এছাড়া E20 পেট্রোলের কারণে ইঞ্জিনের ক্ষতি বা খাঁটি পেট্রোলের দাম ও প্রাপ্যতা সম্পর্কে তাঁর উত্থাপিত দাবিগুলির স্বাধীন যাচাই এই প্রতিবেদনের পরিসরে করা সম্ভব নয়। বিষয়টি নিয়ে সরকারি ও বিশেষজ্ঞ মহলের বক্তব্য প্রকাশিত হলে তা-ও বিবেচনায় নেওয়া হবে।