Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে সম্পাদকিয় কলম
BREAKING NEWS
পাঁচলায় গ্রেফতার তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধান, দুর্নীতি ও কাটমানির অভিযোগে জালে সারাফউদ্দিন পুরকাইত   •   হাসপাতালের খাবারের বরাদ্দ বৃদ্ধিতে হাইকোর্টের স্বস্তি, মাথাপিছু ৫৭ থেকে ১১২ টাকা করার পথে আর বাধা নেই   •   রাজ্যে পালিত হবে ‘বই দিবস’, ২ জানুয়ারি সব স্কুলে উদযাপনের নির্দেশ   •   উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী নাবালিকাকে যৌন নির্যাতনের চেষ্টার অভিযোগ, তৃণমূল সদস্যের ভাইপোর বিরুদ্ধে বারুইপুর থানায় অভিযোগ   •   বঙ্গভবনে পৌঁছলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, NCPI-র ২০ সাংসদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক   •   সুন্দরবনের মানুষকে আর ভিনরাজ্যে যেতে হবে না, স্থানীয় কর্মসংস্থানে জোর: সোনারপুরে বৈঠকে পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ

সুন্দরবনের মানুষকে আর ভিনরাজ্যে যেতে হবে না, স্থানীয় কর্মসংস্থানে জোর: সোনারপুরে বৈঠকে পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ

04 Aug 2026
09:21 AM

 

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক : সুন্দরবনের মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, আবাস যোজনার কাজ দ্রুত সম্পূর্ণ করা এবং স্থানীয় স্তরে কর্মসংস্থান বাড়ানোর লক্ষ্যে মঙ্গলবার সোনারপুরে দুই জেলার প্রশাসনিক কর্তাদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করলেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। বৈঠকে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার পঞ্চায়েত দফতরের আধিকারিক, প্রশাসনিক আধিকারিক এবং জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে আবাস যোজনার সমীক্ষার অগ্রগতি, পঞ্চায়েতের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প, সুন্দরবনের দুর্গম এলাকার পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী জানান, সুন্দরবনের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের কারণে এখনও বহু এলাকায় সরকারি প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করা কঠিন। নদী, খাঁড়ি ও বিচ্ছিন্ন দ্বীপে ছড়িয়ে থাকা এই অঞ্চলের ৩০০-রও বেশি পঞ্চায়েতে পৌঁছতে অনেক ক্ষেত্রেই নৌপথই একমাত্র ভরসা। সেই কারণে আবাস যোজনার সমীক্ষার কাজ এখনও সব এলাকায় শেষ করা যায়নি।

দিলীপ ঘোষ জানান, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের আধিকারিক এবং জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে দ্রুত সমীক্ষার কাজ শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর আশা, আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে আবাস যোজনার সমীক্ষা সম্পূর্ণ হবে এবং প্রকৃত উপভোক্তাদের তালিকা চূড়ান্ত করা সম্ভব হবে।

মন্ত্রী বলেন, পঞ্চায়েত ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, আধুনিক ও জনমুখী করে তুলতে সরকার একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। সাধারণ মানুষের ছোটখাটো কাজ যাতে দীর্ঘদিন আটকে না থাকে, তার জন্য প্রশাসনিক পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারি প্রকল্পের সুবিধা দ্রুত মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার ওপরও বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।

বৈঠকে সুন্দরবনের কর্মসংস্থান প্রসঙ্গও উঠে আসে। মন্ত্রী বলেন, প্রতি বছর ঘূর্ণিঝড়, নদীভাঙন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বহু মানুষ জীবিকা হারিয়ে কাজের খোঁজে ভিনরাজ্যে যেতে বাধ্য হন। সেই পরিস্থিতি বদলাতেই স্থানীয় স্তরে কর্মসংস্থান তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পঞ্চায়েতের মাধ্যমে ৩০০-রও বেশি উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যেখানে দক্ষ ও অদক্ষ—উভয় ধরনের শ্রমিকদের কাজের সুযোগ তৈরি হবে।

তিনি আরও দাবি করেন, গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্পে কাজের সুযোগও বাড়ানো হয়েছে। আগে যেখানে ১০০ দিনের কাজ ছিল, বর্তমানে তা ১২৫ দিনে উন্নীত করা হয়েছে বলে তিনি জানান। এর ফলে গ্রামীণ মানুষের আয়ের সুযোগ আরও বাড়বে বলেও তাঁর দাবি।

বৈঠকে সুন্দরবনের প্রত্যন্ত এলাকায় আবাসন, রাস্তা, পানীয় জল, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং জীবিকা সংক্রান্ত প্রকল্পগুলিকে অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার পঞ্চায়েত আধিকারিকদের সঙ্গে পৃথকভাবে বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন মন্ত্রী এবং সমস্যা দ্রুত সমাধানের নির্দেশ দেন।

প্রশাসনিক সূত্রের মতে, সুন্দরবনের মতো ভৌগোলিকভাবে চ্যালেঞ্জপূর্ণ অঞ্চলে উন্নয়ন, আবাসন এবং কর্মসংস্থানকে একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। তবে বৈঠকে মন্ত্রীর করা রাজনৈতিক ও নীতিগত দাবিগুলি সরকারের অবস্থান হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে; সেগুলির স্বাধীন যাচাই এই প্রতিবেদনের পরিসরে করা সম্ভব নয়।

news home ads