নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক- পশ্চিমবঙ্গে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের আবহে বর্ধমান থেকে গ্রেফতার হওয়া সন্দেহভাজন জঙ্গি হামিম মণ্ডলকে ঘিরে তদন্তে একের পর এক তথ্য সামনে আসছে বলে দাবি তদন্তকারী সংস্থার। এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতের সম্ভাব্য জঙ্গি যোগাযোগ, আর্থিক লেনদেন এবং একাধিক ব্যক্তিকে দেওয়া হুমকির অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, হামিম মণ্ডলকে বর্ধমানের রেনেসাঁ আবাসনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে বর্ধমান আদালতে পেশ করা হলে আদালত ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয়। জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে গোটা নেটওয়ার্কের তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।
তদন্তে উঠে এসেছে বলে দাবি, ধৃত ব্যক্তি জইশ-ই-মোহাম্মদের সঙ্গে যুক্ত সাজ্জাদ ভাট্টি গোষ্ঠীর লিঙ্কম্যান হিসেবে কাজ করতেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা তাঁর মোবাইল ফোন, ডিজিটাল ডিভাইস, যোগাযোগের নথি এবং আর্থিক লেনদেন পরীক্ষা করছেন।
এছাড়াও অভিযোগ, রাজ্যের এক মন্ত্রী উমেশ রাইকে ফোনে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁর পরিবারের সদস্যকে অপহরণের হুমকি, অর্থ দাবি এবং দলীয় কার্যালয়ে হামলার হুমকিও দেওয়া হয়। এই অভিযোগ পাওয়ার পরই এসটিএফ পৃথক তদন্ত শুরু করে এবং সংশ্লিষ্ট কল রেকর্ড ও ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করছে।
মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা সম্পর্কেও তদন্তকারীরা বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর সফর সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়েছিল। এই দাবির সত্যতা যাচাই করতে নিরাপত্তা সংস্থা একাধিক দিক থেকে তদন্ত চালাচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে সীমান্ত নিরাপত্তা, অনুপ্রবেশ এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছে। তবে এ ধরনের রাজনৈতিক বক্তব্য ও পাল্টা দাবিগুলি পৃথক বিষয়; সেগুলি তদন্তে প্রমাণিত তথ্য হিসেবে বিবেচিত নয়।