বারুইপুরে শিশুর মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনার অভিঘাত এখনও কাটেনি। তার মধ্যেই জয়নগরে এক বৃদ্ধাকে হেনস্থার অভিযোগে এক যুবককে আটকের ঘটনা আবারও রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও নারী নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। একের পর এক এমন ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধ কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়—এমন ধারণা সমাজে তৈরি হলে তা প্রশাসনের জন্যও উদ্বেগের বিষয়। প্রতিটি অভিযোগের দ্রুত তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা এবং ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী দ্রুত ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা নেওয়া হলে তবেই মানুষের আস্থা ফিরে আসতে পারে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা প্রশাসনের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। তবে কোনও ঘটনার তদন্ত সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই প্রশাসনের ভূমিকা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোও উচিত নয়। প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আদালতের বিচার প্রক্রিয়াই প্রকৃত সত্য সামনে আনতে পারে।
একই সঙ্গে সমাজেরও দায়িত্ব রয়েছে। নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা বা হেনস্থার ঘটনা দেখলে তা গোপন না রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দ্রুত জানানো, ভুক্তভোগীর পাশে দাঁড়ানো এবং সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
একটি সভ্য সমাজে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা কোনও রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় হতে পারে না; এটি হওয়া উচিত সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। অপরাধের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার নীতি, দ্রুত বিচার এবং কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা—এই তিনটির সমন্বয়েই মানুষের নিরাপত্তা ও আইনের শাসনের প্রতি আস্থা আরও দৃঢ় হতে পারে।