নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: খাবারের নিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য এবং পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে হোটেল-রেস্তোরাঁর বেআইনি নির্মাণ নিয়ে কড়া বার্তা দিলেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও খাদ্যের মানের সঙ্গে কোনওরকম আপস করা যাবে না। তবে দুর্গাপুজোর আগে ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের যাতে অযথা ভোগান্তির মুখে পড়তে না হয়, তার জন্য সুনির্দিষ্ট ও সময়ভিত্তিক প্রশাসনিক নীতি প্রয়োজন।
দিলীপ ঘোষের অভিযোগ, গত ১০-১২ বছরে তারাপীঠ, দিঘা, মন্দারমণি থেকে শুরু করে কলকাতা শহরের বিভিন্ন এলাকায় পঞ্চায়েত বা স্থানীয় প্রশাসনের একাংশের অসাধু লেনদেনের মাধ্যমে নিয়ম না মেনে একের পর এক হোটেল ও অন্যান্য নির্মাণ গড়ে উঠেছে। ঘেঁষাঘেঁষি করে তৈরি এই ধরনের নির্মাণ ভবিষ্যতে বড় বিপদের কারণ হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
তাঁর বক্তব্য, পর্যটনকেন্দ্রগুলির উন্নয়ন করতে গিয়ে প্রাকৃতিক পরিবেশকে কোনওভাবেই ধ্বংস করা যাবে না। বিশেষ করে সমুদ্র ও নদী সংলগ্ন এলাকায় অপরিকল্পিত নির্মাণ পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। পরিবেশ রক্ষায় সতর্ক না হলে ভবিষ্যতে সিকিম বা নেপালের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতে পারে বলেও সতর্ক করেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী।
দিলীপ ঘোষের মতে, শুধু অভিযান চালিয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। জনস্বাস্থ্য, খাদ্যের গুণমান, নির্মাণবিধি এবং পরিবেশ সুরক্ষাকে সামনে রেখে একটি স্থায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। একইসঙ্গে বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা ও স্পষ্ট নীতিমালা থাকা দরকার।
দুর্গাপুজোর মরশুমে রাজ্যের পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম হয়। ফলে প্রশাসনিক পদক্ষেপের সঙ্গে পর্যটন ব্যবসার স্বাভাবিক কার্যক্রমের মধ্যে ভারসাম্য রাখার উপরও জোর দিয়েছেন তিনি। তাঁর বার্তা, নিয়মশৃঙ্খলা বজায় রেখেই নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিবেশবান্ধব পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
খাদ্য নিরাপত্তা থেকে শুরু করে বেআইনি নির্মাণ—সমস্ত ক্ষেত্রেই দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত প্রশাসনিক পদক্ষেপই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে পারে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।