নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক- বিশ্ব ম্যানগ্রোভ দিবস উপলক্ষে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়চকের তাজ গঙ্গা কুটিরের রয়্যাল প্যাভিলিয়নে এক সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করল রাজ্য পর্যটন দপ্তর। সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণ, ব্লু কার্বন অর্থনীতির গুরুত্ব এবং পরিবেশবান্ধব পর্যটনের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষা ও স্থানীয় মানুষের ক্ষমতায়নের বার্তা তুলে ধরা হয় এই অনুষ্ঠানে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ, পর্যটন দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী এবং সুন্দরবন উন্নয়ন দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী দীপঙ্কর জানা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পর্যটন ও পরিবেশ সংরক্ষণে যুক্ত বিভিন্ন ব্যক্তি, সংগঠনের প্রতিনিধি এবং প্রশাসনিক আধিকারিকরা।
বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলায় ম্যানগ্রোভ অরণ্যের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উপকূলীয় অঞ্চলকে জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড় এবং নদীভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করার পাশাপাশি ম্যানগ্রোভ বন বিপুল পরিমাণ কার্বন শোষণ করে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই এই প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে সরকার ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে ‘ব্লু কার্বন’ অর্থনীতির গুরুত্বও তুলে ধরা হয়। বক্তারা জানান, ম্যানগ্রোভ বন শুধু পরিবেশ সংরক্ষণেই নয়, টেকসই উন্নয়ন, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং পরিবেশবান্ধব পর্যটনের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের জীবিকা উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পরিবেশবান্ধব পর্যটনের প্রসারে ধারাবাহিকভাবে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও এই ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবেশ সচেতনতা আরও বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা রয়েছে।
অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল ম্যানগ্রোভ সংরক্ষণে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা সুন্দরবনের কয়েকজন ব্যক্তি ও বিভিন্ন সংগঠনকে সংবর্ধনা প্রদান। তাঁদের হাতে সম্মাননা তুলে দিয়ে পরিবেশ রক্ষায় দীর্ঘদিনের কাজের স্বীকৃতি জানানো হয়।
বিশ্ব ম্যানগ্রোভ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান থেকে সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ অরণ্য রক্ষা, পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন এবং স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়। বক্তাদের মতে, ম্যানগ্রোভ সংরক্ষণই উপকূলীয় এলাকার নিরাপত্তা, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ পরিবেশ গড়ে তোলার অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি।