Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে সম্পাদকিয় কলম
BREAKING NEWS
দীর্ঘ ২০ বছর পর রূপনারায়ণপুর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচন, উৎসাহ ব্যবসায়ী মহলে   •   আসানসোলের চিত্রা মোড়ে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সেবা কেন্দ্রের উদ্বোধন   •   আমতলা-বারুইপুর রোডে বিজেপির অবরোধ, যানজট ও জলমগ্নতা নিয়ে সরব নেতৃত্ব   •   বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজেপি টিচার্স সেলের শিক্ষক সম্মেলন, উপস্থিত দিলীপ ঘোষ   •   আসানসোলে মহিলা ফুটবল টুর্নামেন্টে অগ্নিমিত্রা পাল, মেয়েদের এগিয়ে আসার বার্তা   •   উত্তর দিনাজপুরের গর্ব তুলাইপাঞ্জি, সুগন্ধে-স্বাদে বাংলার ঐতিহ্য

ডায়মন্ড হারবার পুরসভায় জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্রের নথি খতিয়ে দেখতে পুলিশের তল্লাশি, রেজিস্টার ও ডিজিটাল তথ্যভান্ডার পরীক্ষা

23 Jul 2026
10:45 AM

 

নিজস্ব প্রতিনিধি ,জেলার বার্তা ডেস্ক- দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার পুরসভার জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন শাখায় বৃহস্পতিবার সকালে তল্লাশি চালায় ডায়মন্ড হারবার থানার পুলিশ। জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র সংক্রান্ত সরকারি নথি, মূল রেজিস্টার এবং ডিজিটাল তথ্যভান্ডার খতিয়ে দেখতে পুলিশ আধিকারিকদের একটি দল দীর্ঘ সময় ধরে পুরসভায় অবস্থান করে বিভিন্ন নথিপত্র পরীক্ষা করেন। ঘটনাকে ঘিরে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের সরকারি নথিতে কোনও তথ্যগত অসঙ্গতি, অনিয়ম বা রেকর্ডের গরমিল রয়েছে কি না, তা যাচাই করতেই এই তল্লাশি চালানো হয়েছে। তদন্তকারী আধিকারিকরা মূল রেজিস্টার, আবেদনপত্র, শংসাপত্র ইস্যুর নথি, সংশ্লিষ্ট রেকর্ড এবং ডিজিটাল ডেটাবেস পরীক্ষা করেন। পাশাপাশি দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের সঙ্গেও কথা বলে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন অভিযান নয়। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সরকারি তথ্য যাচাইয়ের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি নথির নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দফতরে তথ্য যাচাইয়ের কাজ চলছে। সেই ধারাবাহিকতায় ডায়মন্ড হারবার পুরসভার জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন শাখার নথিও পরীক্ষা করা হচ্ছে।

তদন্তকারীরা বিশেষভাবে খতিয়ে দেখছেন, রেজিস্টারে সংরক্ষিত তথ্য এবং সরকারি ডিজিটাল তথ্যভান্ডারের মধ্যে কোনও অমিল রয়েছে কি না। একই সঙ্গে জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র ইস্যুর ক্ষেত্রে নির্ধারিত সরকারি বিধি ও প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তাও যাচাই করা হচ্ছে। প্রয়োজনে অতীতের রেকর্ডও পরীক্ষা করা হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।

এদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও সামনে এসেছে। ডায়মন্ড হারবার বিজেপি সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক অতনু সাঁতরা দাবি করেন, "এসআইআর (SIR)-এর জন্য জমা দেওয়া জন্ম ও মৃত্যুর তথ্যই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রাজ্যের মুখ্য সচিবের নির্দেশে এই প্রক্রিয়া চলছে। তদন্তে যদি কোনও গরমিল ধরা পড়ে, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

তবে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত ডায়মন্ড হারবার পুরসভার পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। পুরসভার কোনও আধিকারিক প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে চাননি। অন্যদিকে, পুলিশও তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত কিছু জানাতে রাজি নয়। তদন্তকারী সংস্থার বক্তব্য, নথি যাচাইয়ের কাজ চলছে এবং তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো হবে না।

সূত্রের খবর, তল্লাশির সময় একাধিক বছরের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের রেজিস্টার পরীক্ষা করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় কিছু নথির অনুলিপিও সংগ্রহ করেছেন তদন্তকারীরা। ডিজিটাল রেকর্ড এবং ম্যানুয়াল রেজিস্টারের তথ্যের মধ্যে কোনও পার্থক্য রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে আরও নথি সংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।

জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি। স্কুলে ভর্তি, পাসপোর্ট, আধার, ভোটার তালিকা, সম্পত্তি সংক্রান্ত নথি, উত্তরাধিকার এবং বিভিন্ন সরকারি পরিষেবার ক্ষেত্রে এই শংসাপত্রের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ফলে এই ধরনের নথিতে কোনও তথ্যগত অসঙ্গতি থাকলে তা প্রশাসনিক ও আইনি—উভয় ক্ষেত্রেই তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।

তল্লাশির পর ডায়মন্ড হারবার এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। অনেকেই জানতে চাইছেন, তদন্তে কোনও অনিয়ম সামনে আসে কি না। তবে প্রশাসনের বক্তব্য, এটি একটি চলমান তদন্ত। সমস্ত নথি ও তথ্য বিশ্লেষণের পরই প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।

বর্তমানে তদন্ত প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। পুলিশ নথি, রেজিস্টার এবং ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করছে। কোথাও কোনও গরমিল, জালিয়াতি বা নিয়মভঙ্গের প্রমাণ মিললে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আপাতত তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং তার অগ্রগতির দিকেই নজর রয়েছে প্রশাসন, রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের।

news home ads