নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও ভক্তিময় পরিবেশের মধ্য দিয়ে হীরাপুরের শশাঙ্ক কালী মন্দিরে শুরু হল শ্রী চণ্ডী মহাযজ্ঞ। যজ্ঞের সূচনা উপলক্ষে সকালে দামোদর নদ থেকে জল সংগ্রহ করে মন্দির থেকে যজ্ঞস্থল পর্যন্ত বের করা হয় বিশাল কলস যাত্রা। এই যাত্রায় অংশ নেন বহু ভক্ত ও স্থানীয় বাসিন্দা। তাঁদের উপস্থিতিতে গোটা এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
আয়োজকদের সূত্রে জানা গিয়েছে, ৩০ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই মহাযজ্ঞ চলবে আগামী ৭ নভেম্বর পর্যন্ত। যজ্ঞকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাধু-সন্ত ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা হীরাপুরে উপস্থিত হয়েছেন। প্রতিদিন পুজো-পাঠ, প্রবচন, রামলীলা-রাসলীলা, নামকীর্তন এবং ভান্ডারার আয়োজন থাকছে।
শ্রী চণ্ডী মহাযজ্ঞের সূচনাকে ঘিরে এদিন সকাল থেকেই শশাঙ্ক কালী মন্দির চত্বরে ভক্তদের সমাগম শুরু হয়। নির্ধারিত ধর্মীয় রীতি মেনে দামোদর নদ থেকে জল সংগ্রহ করা হয়। এরপর সেই জলভর্তি কলস নিয়ে মন্দির থেকে যজ্ঞস্থল পর্যন্ত বের হয় বর্ণাঢ্য কলস যাত্রা।
কলস যাত্রায় বহু ভক্তের অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানকে বিশেষ মাত্রা দেয়। ধর্মীয় আবহ, ভক্তিগীতি এবং জয়ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে যাত্রাপথ। স্থানীয়দের মধ্যেও এই আয়োজনকে ঘিরে উৎসাহ দেখা যায়। মহাযজ্ঞের সূচনাপর্বে ভক্তদের এই উপস্থিতি হীরাপুরের ধর্মীয় ও সামাজিক পরিসরে উৎসবের আবহ তৈরি করেছে।
এই মহাযজ্ঞের মুখ্য আচার্য অযোধ্যার হনুমানগড়ির বাবা সীতারাম দাস। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, হিমালয়, হরিদ্বার, অযোধ্যা, কাশী, মথুরা এবং বৃন্দাবন-সহ দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় স্থান থেকে সাধু-সন্তরা এই যজ্ঞে যোগ দিতে এসেছেন।
বাবা সীতারাম দাস জানান, তাঁর জীবনের এটি ১৬১তম যজ্ঞ। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জায়গায় ধর্মীয় যজ্ঞ ও আধ্যাত্মিক অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তিনি। হীরাপুরের এই আয়োজনেও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি ভক্তদের জন্য নানা কর্মসূচির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৩০ অক্টোবর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিনই নানা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। তার মধ্যে রয়েছে বৃন্দাবন থেকে আসা দলের রামলীলা ও রাসলীলা পরিবেশনা। পাশাপাশি থাকবে বাবা সীতারাম দাসের প্রবচন এবং সংগীতময় ধর্মীয় কথার আসর।
এছাড়াও প্রতিদিন বিশাল ভান্ডারা, অখণ্ড নামকীর্তন এবং সন্ধ্যায় গঙ্গা আরতির আয়োজন করা হয়েছে। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি এই কর্মসূচিগুলি ভক্তদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠবে বলে আশা আয়োজকদের।
মহাযজ্ঞ উপলক্ষে প্রতিদিনই বহু মানুষের সমাগমের সম্ভাবনা রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি আশপাশের এলাকা থেকেও ভক্তরা এই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেন। আয়োজকদের তরফে ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলিকে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্য আচার্য বাবা সীতারাম দাস স্থানীয় বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পালের প্রশংসা করেন। তাঁর দাবি, বিধায়কের উদ্যোগে হীরাপুরের মতো পিছিয়ে পড়া এলাকায় পাকা রাস্তা, পানীয় জল এবং বিদ্যুতের মতো মৌলিক পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ হচ্ছে।
তিনি আরও দাবি করেন, অতীতে কংগ্রেস, সিপিএম এবং তৃণমূলের আমলেও এলাকার এই ধরনের উন্নয়ন হয়নি। যদিও এটি মুখ্য আচার্যের নিজস্ব বক্তব্য ও রাজনৈতিক মূল্যায়ন, সংশ্লিষ্ট উন্নয়নমূলক কাজের পরিসংখ্যান বা তুলনামূলক তথ্য অনুষ্ঠানে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়নি।
মহাযজ্ঞের সূচনাপর্বের পাশাপাশি এদিন সন্ধ্যার অনুষ্ঠান ঘিরেও বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। আয়োজকদের তরফে জানানো হয়েছে, সন্ধ্যার গঙ্গা আরতিতে মুখ্য অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে স্থানীয় বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পালের।
ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি এই মহাযজ্ঞকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মানুষের মধ্যে যে উৎসাহ তৈরি হয়েছে, তা কলস যাত্রার ভিড়েই স্পষ্ট হয়েছে। আগামী ৭ নভেম্বর পর্যন্ত চলা এই আয়োজন হীরাপুরের শশাঙ্ক কালী মন্দির চত্বরকে কেন্দ্র করে ভক্তি, আধ্যাত্মিকতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের এক মিলনক্ষেত্র হয়ে উঠতে চলেছে।
সব মিলিয়ে, শশাঙ্ক কালী মন্দিরে শ্রী চণ্ডী মহাযজ্ঞের সূচনা ঘিরে হীরাপুরে তৈরি হয়েছে উৎসবের আবহ। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাধু-সন্তদের উপস্থিতি, প্রতিদিনের ধর্মীয় কর্মসূচি এবং ভক্তদের অংশগ্রহণে আগামী কয়েক দিন ধরে এই আয়োজন চলবে।