নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: দুপুরে অস্বস্তিকর গরম, বাতাসে বজায় থাকছে আর্দ্রতা। বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের অবস্থানের প্রভাবে মেঘপুঞ্জের বিন্যাসে পরিবর্তনের ইঙ্গিত, স্বস্তির অপেক্ষায় দক্ষিণবঙ্গের মানুষ।বর্ষা বিদায় নিয়েছে, কিন্তু দক্ষিণবঙ্গের আকাশ থেকে যেন গরমের দাপট কিছুতেই কমছে না। অক্টোবর মাসের শেষভাগেও দুপুরের দিকে অস্বস্তিকর ভ্যাপসা গরমে নাজেহাল সাধারণ মানুষ। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা পৌঁছে যাচ্ছে ৩৩ থেকে ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি। ফলে ঋতু পরিবর্তনের সময়েও গরমের অনুভূতি থেকে পুরোপুরি মুক্তি মিলছে না। সকাল ও সন্ধ্যার দিকে কিছুটা স্বস্তি অনুভূত হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে গরমের অস্বস্তি।
আবহাওয়ার এই পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, বর্ষা বিদায় নেওয়ার পরেও কেন এমন গরম অনুভূত হচ্ছে? আবহাওয়াবিদ্যার সাধারণ ব্যাখ্যা অনুযায়ী, দিনের তাপমাত্রা বেশি থাকা এবং বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য থাকলে ভ্যাপসা গরমের অনুভূতি বাড়তে পারে। দক্ষিণবঙ্গের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে দেওয়া তথ্যেও উঠে এসেছে তাপমাত্রা ও আপেক্ষিক আর্দ্রতার এই যুগল প্রভাবের কথা।
দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৩–৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছনোর ফলে দুপুরের দিকে গরমের অনুভূতি বাড়ছে। অক্টোবর মাসে সাধারণত বর্ষা-পরবর্তী আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে তাপমাত্রায় ধীরে ধীরে স্বস্তি আসার প্রত্যাশা থাকে। কিন্তু তাপমাত্রা বেশি থাকলে সেই স্বস্তি পেতে দেরি হয়।
বিশেষ করে দুপুরে সরাসরি রোদের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ থাকতে হলে গরম আরও বেশি অনুভূত হতে পারে। রাস্তাঘাটে কাজ করা মানুষ, যাঁদের নিয়মিত বাইরে যাতায়াত করতে হয় এবং খোলা জায়গায় কর্মরত ব্যক্তিরা এই পরিস্থিতিতে বেশি অস্বস্তিতে পড়তে পারেন।
তবে ৩৩–৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা দক্ষিণবঙ্গের সব জেলায় একই রকম রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে জেলাভিত্তিক সর্বশেষ আবহাওয়ার তথ্য প্রয়োজন।
শুধু তাপমাত্রা বেশি থাকাই অস্বস্তির একমাত্র কারণ নয়। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতা বজায় থাকলেও শরীরের গরম সহ্য করার ক্ষমতার উপর প্রভাব পড়তে পারে। আর্দ্রতা বেশি থাকলে ঘাম সহজে বাষ্পীভূত হতে পারে না। ফলে শরীরের স্বাভাবিক শীতল হওয়ার প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় এবং একই তাপমাত্রাতেও বেশি গরম অনুভূত হতে পারে।
দক্ষিণবঙ্গের বর্তমান আবহাওয়া নিয়ে দেওয়া বিবরণে রোদের তীব্রতার পাশাপাশি বাতাসে আর্দ্রতা বজায় থাকার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। এই দুইয়ের প্রভাবে দুপুরের দিকে অস্বস্তি বাড়ছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
এর ফলে সকাল ও সন্ধ্যার তুলনায় দুপুরে বাইরে বেরোনো অনেকের কাছে বেশি কষ্টকর হয়ে উঠতে পারে। পর্যাপ্ত জল পান করা, দীর্ঘক্ষণ সরাসরি রোদে থাকা এড়িয়ে চলা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ছায়ায় বিশ্রাম নেওয়া এই সময়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের অবস্থানের কারণে মেঘপুঞ্জের বিন্যাসে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে বলে দেওয়া আবহাওয়ার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে। বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন অঞ্চলে বায়ুপ্রবাহ এবং আর্দ্রতার পরিবর্তন স্থানীয় আবহাওয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে কোনও ঘূর্ণিঝড়ের উপস্থিতি বা তার গতিপথের সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ও বৃষ্টির সম্পর্ক নিশ্চিতভাবে ব্যাখ্যা করতে হলে সংশ্লিষ্ট আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য প্রয়োজন।
ঘূর্ণিঝড়ের অবস্থান, সম্ভাব্য গতিপথ, মেঘের বিস্তার এবং বাতাসের গতিপ্রকৃতির উপর নির্ভর করে বিভিন্ন অঞ্চলে আবহাওয়ার পরিবর্তন হতে পারে। কোথাও মেঘ বাড়তে পারে, আবার কোথাও রোদের তীব্রতাও বজায় থাকতে পারে। তাই শুধু বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের অবস্থান দেখে দক্ষিণবঙ্গে অবিলম্বে বৃষ্টি বা তাপমাত্রা হ্রাসের পূর্বাভাস দেওয়া যায় না।
দক্ষিণবঙ্গের মানুষের এখন প্রধান প্রশ্ন, কবে কমবে এই অস্বস্তিকর গরম? তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা, বৃষ্টির পরিস্থিতি এবং আর্দ্রতার পরিবর্তন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেতে আগামী কয়েক দিনের সরকারি আবহাওয়ার পূর্বাভাসের দিকে নজর রাখা জরুরি।
মেঘের পরিমাণ বৃদ্ধি বা বৃষ্টিপাতের ফলে কোনও কোনও এলাকায় সাময়িক স্বস্তি আসতে পারে। তবে বৃষ্টি হলেই সব জায়গায় তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। স্থানীয় আবহাওয়া এবং বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণের উপর পরিস্থিতি নির্ভর করবে।
আপাতত দুপুরের গরম থেকে বাঁচতে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং বাইরে কাজ করতে হয় এমন মানুষদের শরীরে জলশূন্যতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত বিশ্রাম নেওয়া প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে, বর্ষা বিদায়ের পরেও দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ায় গরম ও ভ্যাপসা অস্বস্তি বজায় রয়েছে। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৩–৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছনো এবং বাতাসে আর্দ্রতার উপস্থিতি পরিস্থিতিকে আরও অস্বস্তিকর করে তুলছে। এখন নজর আগামী দিনের আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতির দিকে—তাপমাত্রা কমে স্বস্তি ফেরে, নাকি আরও কিছুদিন অক্টোবরের দুপুরে গরমের দাপট সহ্য করতে হয়, সেটাই দেখার।