নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাবাকে উদ্দেশ্য করে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ তুলে প্রতিবাদে নামল বিজেপি। সোমবার বিকেলে পশ্চিম বর্ধমানের কাঁকসার পানাগড় বাজারে মিছিল করে বিক্ষোভ দেখান বিজেপি নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা। প্রতিবাদ কর্মসূচির শেষে কংগ্রেস নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গের কুশপুতুল দাহ করেন তাঁরা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পানাগড় বাজার এলাকায় রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়ায়।
বিজেপির অভিযোগ, রাজনৈতিক লড়াইয়ে যুক্তির মাধ্যমে মোকাবিলা করতে না পেরে বিরোধীরা ব্যক্তিগত আক্রমণের পথ বেছে নিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং তাঁর পরিবারকে উদ্দেশ্য করে মন্তব্য করে রাজনৈতিক সৌজন্যের সীমা লঙ্ঘন করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বিজেপি নেতৃত্ব। এই অভিযোগের প্রতিবাদ জানাতেই এদিনের কর্মসূচি বলে জানিয়েছে গেরুয়া শিবির।
সোমবার বিকেলে পানাগড় বাজারের চৌমাথা মোড় থেকে বিজেপির প্রতিবাদ মিছিল শুরু হয়। হাতে প্ল্যাকার্ড ও পোস্টার নিয়ে মিছিলে অংশ নেন দলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা। মিছিলটি পানাগড় বাজারের বিভিন্ন এলাকা পরিক্রমা করে মাছ বাজার পর্যন্ত যায়।
এরপর সেখান থেকে মিছিল ফিরে আসে চৌমাথা মোড়ে। সেখানে জমায়েত হয়ে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বিরুদ্ধে স্লোগান তোলেন বিক্ষোভকারীরা। প্রতিবাদের অংশ হিসেবে তাঁর কুশপুতুল দাহ করা হয়।
বিজেপি কর্মীদের বক্তব্য, দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থাকা প্রধানমন্ত্রীর পরিবারকে নিয়ে এই ধরনের মন্তব্য তাঁরা মেনে নেবেন না। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু সেই বিরোধের জেরে ব্যক্তিগত আক্রমণ করা উচিত নয় বলেই দাবি করেন তাঁরা।
বিক্ষোভে উপস্থিত বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে বিজেপিকে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে বিরোধীরা ব্যক্তিগত আক্রমণের কৌশল নিচ্ছে। কখনও প্রধানমন্ত্রীকে, আবার কখনও তাঁর পরিবারকে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে টেনে এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তাঁরা।
বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য, রাজনৈতিক বিতর্ক হওয়া উচিত নীতি, কর্মসূচি ও জনস্বার্থের বিষয়কে কেন্দ্র করে। কিন্তু ব্যক্তিগত মন্তব্যের মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিবেশকে উত্তপ্ত করা হলে তা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পক্ষে ভালো নয়।
এই অভিযোগকে সামনে রেখেই পানাগড় বাজারে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে বিজেপি। কুশপুতুল দাহের মাধ্যমে কংগ্রেস সভাপতির কথিত মন্তব্যের বিরুদ্ধে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন দলের কর্মী-সমর্থকেরা।
তবে মল্লিকার্জুন খাড়গের বক্তব্যের সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট এবং সংশ্লিষ্ট মন্তব্যের নির্ভুল বিবরণ স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। তাই তাঁকে ঘিরে ওঠা অভিযোগকে বিজেপির বক্তব্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
এদিনের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে শুধু প্রধানমন্ত্রীর পরিবারকে নিয়ে কথিত মন্তব্যের বিরোধিতা নয়, কংগ্রেসের ‘ভোট চুরি’ সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়েও পাল্টা সরব হন বিজেপি নেতৃত্ব।
বিজেপির নেতাদের দাবি, কংগ্রেসের মুখে ভোট চুরির অভিযোগ মানায় না। তাঁদের বক্তব্য, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলেই কংগ্রেসের আমলে নির্বাচন ও ভোটপ্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা বিভিন্ন বিতর্কের প্রসঙ্গ সামনে আসবে। সেই ইতিহাসের কথা উল্লেখ করেই কংগ্রেসের বর্তমান অভিযোগের বিরোধিতা করেন তাঁরা।
বিজেপি নেতৃত্বের এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে এদিনের কর্মসূচিতে রাজনৈতিক তরজা আরও জোরালো হয়। একদিকে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণের অভিযোগ, অন্যদিকে ভোটপ্রক্রিয়া নিয়ে পাল্টাপাল্টি দাবি—সব মিলিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের আবহ তৈরি হয় পানাগড় বাজারে।
উল্লেখ্য, ভোট চুরি সংক্রান্ত অভিযোগ ও তার পাল্টা বক্তব্য রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত বিষয়। এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ঘটনা, নথি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ।
বিজেপির প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, তার জন্য এলাকায় নজরদারি চালায় কাঁকসা থানার পুলিশ। মিছিল ও কুশপুতুল দাহের সময় পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হয়।
পানাগড় বাজার একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার এলাকা হওয়ায় সেখানে রাজনৈতিক জমায়েতের সময় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা জরুরি। সেই কারণেই সতর্ক ছিল পুলিশ প্রশাসন। তবে এদিনের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কোনও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর দেওয়া হয়নি।
প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে মন্তব্যের অভিযোগে বিজেপির এই প্রতিবাদ ফের রাজনৈতিক বক্তব্যের ভাষা ও সৌজন্য নিয়ে বিতর্ক সামনে নিয়ে এসেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে মতবিরোধ গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ হলেও ব্যক্তিগত আক্রমণের অভিযোগ উঠলে তা নিয়ে পাল্টাপাল্টি প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
পানাগড়ের ঘটনাতেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বিজেপি নেতৃত্ব একদিকে কংগ্রেস সভাপতির কথিত মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে, অন্যদিকে কংগ্রেসের ভোট চুরি সংক্রান্ত অভিযোগের জবাব দিয়েছে। ফলে স্থানীয় কর্মসূচির মধ্যেও জাতীয় রাজনীতির একাধিক বিতর্কের ছাপ দেখা গিয়েছে।