Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে বিনোদন সম্পাদকীয় কলম
BREAKING NEWS
প্রধানমন্ত্রীর বাবাকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের অভিযোগ, পানাগড়ে মল্লিকার্জুন খাড়গের কুশপুতুল দাহ বিজেপির   •   ভিন রাজ্যে দুর্গাপুরের কাঁকসার যুবকের রহস্যমৃত্যু, খুনের অভিযোগ পরিবারের   •   ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর আশঙ্কায় সাগরে সতর্কতা! উপকূলে জোরদার মাইকিং, সমুদ্রে নামায় নিষেধাজ্ঞা   •   ভুবনেশ্বর কুমারের পাশে মর্নে মরকেল, ভারতের তারকা পেসারের প্রত্যাবর্তনে আশাবাদী বোলিং কোচ   •   অস্ট্রেলিয়ার জন্য বড় ধাক্কা! দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে WTC27 নির্ণায়ক টেস্ট থেকে ছিটকে গেলেন স্টিভ স্মিথ   •   নতুন প্রোডাকশন হাউস ‘আলফানিয়ন স্টুডিওজ’-এর জমকালো উদ্বোধন, উপস্থিত মধুরিমা তুলি

কালীপুজো নিয়ে আলোচনাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র আমতলার সিংহির মোড়! বিজেপির যুব মোর্চার সভাপতি তমাল সেনাপতির অনুগামীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী হামলার অভিযোগ

27 Oct 2026
04:41 AM


নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: কালীপুজোকে কেন্দ্র করে বিবাদ, আর সেই বিবাদ থেকেই মারধরের অভিযোগ। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার বিজেপির সাংগঠনিক জেলার আমতলার সিংহির মোড়ে শ্যামাপুজো নিয়ে আলোচনাকে কেন্দ্র করে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় কৃষ্ণ বসাক-সহ একাধিক ব্যক্তি আক্রান্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ। তাঁদের মধ্যে কৃষ্ণ বসাকের দুটি দাঁত ভেঙে গিয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। ঘটনার পর আহতদের আমতলা গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পাশাপাশি, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বিষ্ণুপুর থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গিয়েছে।

পুজোকে কেন্দ্র করে বিবাদের সূত্রপাত

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আমতলার সিংহির মোড়ে দীর্ঘদিন ধরেই শ্যামাপুজোর আয়োজন হয়ে আসছে । ডায়মন্ড হারবার সাংগঠনিক জেলা বিজেপির পার্টি অফিসের সামনেই এই পুজো অনুষ্ঠিত হয় বলে দাবি। পুজোর আয়োজন এবং পরিচালনার অধিকার নিয়ে বিজেপির স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরেই মতবিরোধ চলছিল বলে অভিযোগ।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২২ সালে শ্যামাপুজোকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া কমিটি এবং পুজোর পরিচালনা নিয়ে বিবাদের সূত্রপাত। বিজেপির একাংশের দাবি, এই পুজোর সূচনা হয়েছিল তাদের উদ্যোগেই। ফলে পুজোর ঐতিহ্য এবং কমিটির পরিচালনায় তাদের ভূমিকা রয়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা।

অন্যদিকে, এ বছর একই কমিটির নাম ব্যবহার করে আলাদাভাবে পুজোর আয়োজন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে যুব মোর্চার সভাপতি ও তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে । এই উদ্যোগকে ঘিরেই বিজেপির স্থানীয় নেতা-কর্মীদের একাংশের আপত্তি তৈরি হয়। ধীরে ধীরে সেই আপত্তি থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ।

যুব মোর্চার সভাপতি ও তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ

এই ঘটনায় ডায়মন্ড হারবার সাংগঠনিক জেলা বিজেপির যুব মোর্চার সভাপতি তমাল সেনাপতি এবং তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, কালীপুজো নিয়ে আলোচনা করতে গিয়েই কৃষ্ণ বসাক-সহ কয়েকজনের সঙ্গে তাঁদের বচসা শুরু হয়। এরপর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, হামলার সময় বাস দিয়ে মারধর করা হয়। এই ঘটনায় কৃষ্ণ বসাক-সহ আরও তিন-চারজন আক্রান্ত হন বলে দাবি করা হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে স্থানীয় বুথ সভাপতি কৌশিক পারুইও রয়েছেন বলে অভিযোগকারী পক্ষের বক্তব্য।

কৃষ্ণ বসাকের দুটি দাঁত ভেঙে যাওয়ার অভিযোগ ঘিরে ঘটনাটি আরও গুরুতর আকার নিয়েছে। আহতদের দ্রুত আমতলা গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসার পর ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

বিজেপির অন্দরেই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের অভিযোগ

এই ঘটনাকে ঘিরে বিজেপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলও প্রকাশ্যে এসেছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, শ্যামাপুজোর আয়োজন নিয়ে মতবিরোধের পাশাপাশি রাজনৈতিক অবস্থান এবং সংগঠনের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করেও বিরোধ তৈরি হয়েছে।

বিজেপির একাংশের দাবি, ডায়মন্ড হারবার সাংগঠনিক জেলা পার্টি অফিসের পাশেই জেলা যুব মোর্চার সভাপতির আলাদা পার্টি অফিস রয়েছে। একই পুজো কমিটির নাম ব্যবহার করে পৃথকভাবে পুজোর আয়োজনের উদ্যোগকে কেন্দ্র করেই বিরোধ আরও তীব্র হয়। এই সিদ্ধান্তে দলের একাংশ আপত্তি জানায় এবং শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি সংঘর্ষের দিকে গড়ায় বলে অভিযোগ।

স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের আরও অভিযোগ, তমাল সেনাপতি নাকি ৪ তারিখের পর তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সহযোগিতায় এই পুজো পরিচালনা করতে চাইছেন। তবে এটি বিজেপির একাংশের অভিযোগমাত্র; এই দাবির স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অন্যদিকে, পুজোর আয়োজন নিয়ে যুব মোর্চার সভাপতির বক্তব্য জানা যায়নি।

আহতদের পাশে দাঁড়ানোর দাবি, নেতৃত্বকে জানানো হয়েছে বিষয়টি

ঘটনার পর আক্রান্তদের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশি পদক্ষেপের দাবি উঠেছে। বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, বিষয়টি দলের রাজ্য নেতৃত্বের পাশাপাশি তিনজন বিধায়ক এবং রাজ্যের সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রীর কাছেও জানানো হয়েছে।

দলের অন্দরে এই ঘটনা নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগকারী পক্ষের বক্তব্য। তাঁদের দাবি, রাজনৈতিক মতপার্থক্য বা পুজোর কমিটি নিয়ে বিরোধ থাকতেই পারে, কিন্তু তার জেরে কারও ওপর শারীরিক হামলা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

মুখ খুলতে নারাজ তমাল সেনাপতি

অন্যদিকে, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে যুব মোর্চার সভাপতি তমাল সেনাপতি প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করতে চাননি বলে জানা গিয়েছে। ফলে তাঁর বক্তব্য বা ঘটনার বিষয়ে তাঁর পক্ষের ব্যাখ্যা এখনও সামনে আসেনি।

পুলিশের তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে, তা এখন দেখার। থানায় দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার প্রকৃত কারণ, হামলার অভিযোগের সত্যতা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

তদন্তের দিকেই নজর

আমতলার সিংহির মোড়ে শ্যামাপুজোকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের অভিযোগ স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু করেছে। পুজো কমিটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ, বিজেপির দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য এবং তার জেরে মারধরের অভিযোগ—সব মিলিয়ে ঘটনাটি ঘিরে উত্তেজনা রয়েছে। এখন আহতদের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কতদূর এগোয় এবং এই ঘটনায় কোনও আইনি পদক্ষেপ করা হয় কি না, সেদিকেই নজর রয়েছে।