Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে সম্পাদকিয় কলম
BREAKING NEWS
রক্তচাপ প্রাকৃতিকভাবে কমাতে হাঁটা, কখন হাঁটছেন তাতেও কি বদলায় উপকারের মাত্রা?   •   সকালে চিয়া বীজ খেলে মিলতে পারে ফাইবার ও প্রোটিন, হজমশক্তি থেকে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে উপকার   •   ফুটপাত কার? শহর, হকার ও প্রশাসনের টানাপোড়েনে আসল প্রশ্নটা কোথায়   •   বহরমপুরে তৃতীয় কাজী নজরুল ইসলাম স্মারক বক্তৃতা, আলোচনায় ভারতীয় চলচ্চিত্রের সাম্প্রদায়িকতা, বাজার ও জনপ্রিয়তা   •   কাঁথির শ্রীরামপুরে বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ আতশবাজি উদ্ধার, অভিযানের সময় পলাতক বাড়ির মালিক   •   সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি, যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে সরব ‘ইন্ডিয়া’ জোটের নেতারা

সকালে চিয়া বীজ খেলে মিলতে পারে ফাইবার ও প্রোটিন, হজমশক্তি থেকে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে উপকার

30 Sep 2026
11:50 AM

নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: সকালের খাবারের আগে বা জলখাবারের সঙ্গে চিয়া বীজ খাওয়ার প্রবণতা সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে। পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এই ছোট বীজে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ফাইবার, প্রোটিন, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং বিভিন্ন খনিজ উপাদান রয়েছে। ফলে নিয়মিত ও পরিমিত পরিমাণে চিয়া বীজ খাদ্যতালিকায় রাখা হলে তা সামগ্রিক পুষ্টির চাহিদা পূরণে সহায়ক হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চিয়া বীজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল এর উচ্চ ফাইবারের পরিমাণ। জল বা অন্য তরলের সংস্পর্শে এলে চিয়া বীজ ফুলে জেলির মতো আবরণ তৈরি করে। এই বৈশিষ্ট্যের কারণে এটি দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখার অনুভূতি দিতে পারে। ফলে বারবার খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমাতে এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখতে এটি সহায়ক হতে পারে।

হজমশক্তি ভালো রাখতে সহায়ক

চিয়া বীজে থাকা খাদ্যতালিকাগত ফাইবার অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যকলাপ বজায় রাখতে সাহায্য করে। পর্যাপ্ত ফাইবার গ্রহণ মলত্যাগ স্বাভাবিক রাখতে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে হঠাৎ বেশি পরিমাণে চিয়া বীজ খেলে উল্টে পেট ফাঁপা বা অস্বস্তি হতে পারে। তাই ধীরে ধীরে পরিমাণ বাড়ানো এবং পর্যাপ্ত জল পান করা গুরুত্বপূর্ণ।

দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে পারে

চিয়া বীজের ফাইবার ও প্রোটিন একসঙ্গে পেট ভরা রাখার অনুভূতিতে ভূমিকা রাখতে পারে। সকালে জলখাবারের সঙ্গে চিয়া বীজ যোগ করলে দিনের শুরুতেই কিছুটা ফাইবার ও প্রোটিন পাওয়া যায়। দই, ওটস, স্মুদি বা অন্যান্য সুষম খাবারের সঙ্গে এটি মিশিয়ে খাওয়া যায়।

তবে শুধু চিয়া বীজ খেলেই দীর্ঘ সময় ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ বা ওজন কমানো সম্ভব—এমন দাবি করার সুযোগ নেই। সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক সক্রিয়তা, ঘুম এবং মোট ক্যালরি গ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ।

রক্তে শর্করার ক্ষেত্রে কী ভূমিকা?

চিয়া বীজের ফাইবার হজমের গতি কিছুটা ধীর করতে পারে। এর ফলে খাবারের পর রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়ার প্রবণতা কমাতে সহায়তা করতে পারে বলে গবেষণায় আগ্রহ দেখা গেছে। তবে চিয়া বীজ কোনও ডায়াবেটিসের ওষুধের বিকল্প নয় এবং শুধু এটি খেয়ে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।

বিশেষ করে যাঁরা ডায়াবেটিসের ওষুধ বা ইনসুলিন ব্যবহার করেন, তাঁদের খাদ্যাভ্যাসে বড় পরিবর্তন করার আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

কীভাবে খাবেন চিয়া বীজ?

চিয়া বীজ সরাসরি শুকনো অবস্থায় বেশি পরিমাণে খাওয়ার পরিবর্তে জল, দুধ বা অন্য কোনও তরলে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে খাওয়া সুবিধাজনক। দই, ওটস, ফলের সঙ্গে বা স্মুদিতেও যোগ করা যায়।

তবে চিয়া বীজের পাশাপাশি পর্যাপ্ত জল পান করা জরুরি। কারণ এতে প্রচুর ফাইবার রয়েছে এবং পর্যাপ্ত তরল না থাকলে হজমের ক্ষেত্রে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে।

সবশেষে

সকালের খাবারের আগে বা জলখাবারের সঙ্গে পরিমিত চিয়া বীজ খাদ্যতালিকায় যোগ করলে ফাইবার ও প্রোটিনসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান পাওয়া যেতে পারে। হজমশক্তি বজায় রাখা, পেট ভরা রাখার অনুভূতি এবং খাবারের পর রক্তে শর্করার ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে এটি সহায়ক হতে পারে।

তবে চিয়া বীজকে কোনও ‘ম্যাজিক ফুড’ হিসেবে না দেখে সুষম খাদ্যতালিকার একটি অংশ হিসেবে দেখাই যুক্তিযুক্ত। নিয়মিত ও পরিমিত খাওয়ার পাশাপাশি পর্যাপ্ত জল, শাকসবজি, ফল, প্রোটিন এবং শারীরিক পরিশ্রমের দিকে নজর দেওয়াই সুস্থ জীবনযাপনের মূল চাবিকাঠি।