সম্পাদকের কলমে : শহরের ফুটপাত নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। বছরের পর বছর ধরে এই বিতর্ক চলে আসছে—ফুটপাত কি পথচারীদের জন্য, নাকি সেখানে ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করবেন হকাররা? প্রশাসন যখন ফুটপাত দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেয়, তখন একদিকে উঠে আসে যানজট, পথচারীদের নিরাপত্তা, অগ্নিনিরাপত্তা এবং নাগরিক পরিষেবার প্রশ্ন। অন্যদিকে সামনে আসে হাজার হাজার মানুষের জীবিকা, সংসার চালানোর লড়াই এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের অভাবের বাস্তবতা।
এই দুই বাস্তবতার মাঝখানেই আজকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—ফুটপাত দখলমুক্ত করা হবে, কিন্তু যাঁরা ফুটপাতের উপর নির্ভর করে সংসার চালান, তাঁদের ভবিষ্যৎ কী?
পুজোর আগে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাত পরিষ্কার ও দখলমুক্ত করার প্রশাসনিক তৎপরতা বেড়েছে। কোথাও অস্থায়ী দোকান সরানো হচ্ছে, কোথাও বেআইনি নির্মাণ ভাঙা হচ্ছে, কোথাও আবার ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হচ্ছে। প্রশাসনের যুক্তি স্পষ্ট—সাধারণ মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে হাঁটতে পারেন, রাস্তার উপর চাপ কমে, যান চলাচল স্বাভাবিক থাকে এবং শহরের সৌন্দর্য ও নাগরিক পরিকাঠামো বজায় থাকে।
এই যুক্তি অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
কিন্তু একই সঙ্গে আরও একটি প্রশ্ন করা দরকার—যে মানুষটি ১০-১২ বছর ধরে ফুটপাতে বসে সামান্য লাভে চা, জামাকাপড়, ফল, সবজি, খাবার কিংবা ছোটখাটো সামগ্রী বিক্রি করে সংসার চালিয়েছেন, তাঁকে একদিনে সরিয়ে দিলে তাঁর পরবর্তী দিনের আয় কোথা থেকে আসবে?
এই প্রশ্নের উত্তর শুধু ‘ফুটপাত দখলমুক্ত করতে হবে’ বললে দেওয়া যায় না।
শহরের ফুটপাত মূলত পথচারীদের চলাচলের জন্য। সেখানে এমনভাবে দোকান বসানো বা নির্মাণ করা হলে যাতে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে মূল রাস্তায় নেমে হাঁটেন, তা অবশ্যই সমস্যার। একজন বৃদ্ধ, শিশু, বিশেষভাবে সক্ষম মানুষ কিংবা অসুস্থ ব্যক্তি যখন ফুটপাত ব্যবহার করতে না পেরে ব্যস্ত রাস্তায় হাঁটতে বাধ্য হন, তখন বিষয়টি শুধু সৌন্দর্যের নয়—নিরাপত্তারও।
কিন্তু এর বিপরীত ছবিটাও দেখতে হবে।
একটি ছোট দোকানের সামনে বসে থাকা মানুষটি হয়তো কোনও বড় ব্যবসায়ী নন। তাঁর হয়তো স্থায়ী দোকান নেই, বড় পুঁজি নেই, ব্যাংক ঋণের সুবিধা নেই। দিনের শেষে কয়েকশো টাকা লাভই হয়তো তাঁর পরিবারের খাবার, সন্তানের পড়াশোনা কিংবা বাড়িভাড়ার প্রধান ভরসা।
তাঁকে সরিয়ে দেওয়া প্রশাসনের পক্ষে হয়তো কয়েক ঘণ্টার কাজ। কিন্তু সেই পরিবারটির কাছে সেটি হতে পারে মাসের পর মাসের অনিশ্চয়তা।
তাই ফুটপাত দখলমুক্ত করার নীতি নিয়ে আলোচনা করতে গেলে ফুটপাতের অধিকার এবং জীবিকার অধিকার—দুই বিষয়কেই একসঙ্গে দেখতে হবে।
প্রশাসনের কাছে সবচেয়ে সহজ দৃশ্যমান সমাধান হতে পারে—দোকান সরিয়ে দেওয়া, জবরদখল ভেঙে দেওয়া এবং ফুটপাত খালি করে দেওয়া।
কিন্তু প্রশাসনিকভাবে সহজ সিদ্ধান্ত সবসময় সামাজিকভাবে সম্পূর্ণ সমাধান হয় না।
একজন হকারকে সরিয়ে দিয়ে ফুটপাত খালি করা গেল। পরদিন তাঁর পরিবার কী করবে? তিনি অন্য কোথাও গিয়ে বসবেন। সেখানেও যদি তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়? আবার অন্য জায়গায় গেলে আবার উচ্ছেদ?
এই চক্র চলতে থাকলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না।
বরং প্রয়োজন পরিকল্পিত হকার জোন, নির্দিষ্ট সময় ও নির্দিষ্ট জায়গায় ব্যবসার সুযোগ, পরিচয়পত্র, লাইসেন্স, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পথচারীদের জন্য নির্দিষ্ট খালি জায়গা।
যেখানে সম্ভব, ফুটপাতকে সম্পূর্ণ ব্যবসামুক্ত রেখে তার কাছাকাছি নির্দিষ্ট জায়গায় ক্ষুদ্র ব্যবসার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। যেখানে ফুটপাত প্রশস্ত, সেখানে নির্দিষ্ট অংশ চিহ্নিত করে পথচারীদের চলাচলের জায়গা নিশ্চিত করা যেতে পারে।
অর্থাৎ প্রশ্নটা ‘হকার থাকবে কি থাকবে না’—এত সরল হওয়া উচিত নয়।
প্রশ্ন হওয়া উচিত—হকার থাকলে কীভাবে থাকবে এবং পথচারীর অধিকার কীভাবে সুরক্ষিত থাকবে?
পুজোর আগে শহরের বাজার ও রাস্তার উপর চাপ স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়। কেনাকাটা, যানবাহন, মানুষের ভিড়—সবকিছু মিলিয়ে ফুটপাতের গুরুত্ব আরও বাড়ে।
এই সময় ফুটপাত পরিষ্কার করার প্রয়োজনীয়তাও রয়েছে।
কিন্তু এখানেই প্রশাসনের কাছে আরও একটি মানবিক প্রশ্ন থাকে। পুজোর আগে যখন মানুষের কেনাকাটা বাড়ে, তখন ছোট ব্যবসায়ীদের কাছেও সেটি বছরের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসার সময়। অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী পুজোর মরশুমের কয়েক মাসের আয়ের উপর সারা বছরের আর্থিক হিসাব নির্ভর করেন।
সেই সময়েই যদি দোকান সরিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তাঁদের ক্ষতির পরিমাণও বাড়তে পারে।
তাই অভিযান চালানোর আগে বিকল্প জায়গা, নোটিসের সময়সীমা এবং পুনর্বাসনের পরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন।
প্রশাসনের কাজ শুধু আইন প্রয়োগ করা নয়; আইন প্রয়োগের সামাজিক অভিঘাতটিও বিবেচনা করা।
এই বিতর্কে আমরা প্রায়শই শুধু প্রশাসনকে প্রশ্ন করি। কিন্তু নাগরিক সমাজেরও কি কোনও দায় নেই?
অনেক সময় আমরা চাই—ফুটপাত পরিষ্কার থাকবে, রাস্তা সুন্দর থাকবে, যানজট থাকবে না, আবার একই সঙ্গে ফুটপাতের দোকান থেকে সস্তায় পণ্যও কিনব।
এই দ্বৈত অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলা দরকার।
যে দোকানদার ফুটপাতের উপর ব্যবসা করেন, তাঁর ক্রেতা কে? তিনিও তো এই শহরের মানুষ।
আমরা ফুটপাত দখলের অভিযোগ করি, কিন্তু সেই ফুটপাতের দোকান থেকেই কেনাকাটা করি। আমরা রাস্তার পাশে আবর্জনা ফেলার জন্য প্রশাসনকে দায়ী করি, অথচ অনেক ক্ষেত্রে নাগরিকরাও দোকানের সামনে, ড্রেনের পাশে বা রাস্তার ধারে বর্জ্য ফেলে যান।
ফুটপাত দখল শুধু দোকানদারের তৈরি সমস্যা নয়। কোথাও গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখা, কোথাও নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখা, কোথাও বেআইনি বিজ্ঞাপন, কোথাও স্থায়ী দোকানের সামগ্রী ফুটপাতের উপর বাড়িয়ে দেওয়া—এসবও ফুটপাতের জায়গা কমিয়ে দেয়।
তাহলে অভিযান যদি হয়, তা হলে শুধু ক্ষুদ্র হকারের বিরুদ্ধে কেন?
বড় ও ছোট—সব ধরনের বেআইনি দখলের ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য হওয়া উচিত। নাগরিকের চোখে প্রশাসনের গ্রহণযোগ্যতার জন্য এই সমতার প্রশ্ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শহরের ফুটপাতকে শুধু সৌন্দর্যায়নের চোখে দেখা বিপজ্জনক।
ফুটপাত হল শহরের হাঁটার পরিকাঠামো। একজন অফিসযাত্রী, স্কুলপড়ুয়া, প্রবীণ মানুষ, মহিলা কিংবা বিশেষভাবে সক্ষম নাগরিকের জন্য নিরাপদ ফুটপাত প্রয়োজন।
ফুটপাত যদি দোকান, গাড়ি, নির্মাণসামগ্রী কিংবা আবর্জনায় ভরে যায়, তাহলে পথচারী রাস্তায় নামতে বাধ্য হন। তখন দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে।
তাই ফুটপাত দখলমুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করা যায় না।
কিন্তু একইভাবে এটাও অস্বীকার করা যায় না যে শহরের অর্থনীতিতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের একটি বাস্তব ভূমিকা রয়েছে।
একটি শহর তখনই নাগরিকবান্ধব হয়, যখন তার ফুটপাত পথচারীর জন্য নিরাপদ এবং একই সঙ্গে তার অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল মানুষদের জন্যও ন্যায্য ব্যবস্থা থাকে।
প্রশাসনের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখানেই।
শুধু ভেঙে দেওয়া নয়, বিকল্প তৈরি করা।
শুধু উচ্ছেদ নয়, পুনর্বাসন।
শুধু নোটিস নয়, আলোচনা।
শুধু নিয়ম নয়, বাস্তব পরিস্থিতির মূল্যায়ন।
শহরের প্রতিটি এলাকায় কতজন হকার রয়েছেন, তাঁদের মধ্যে কতজন বৈধ নথিভুক্ত, কতজনের দোকান কোথায়, কতটা জায়গা প্রয়োজন, কোথায় পথচারীর সমস্যা হচ্ছে—এই তথ্যভিত্তিক তালিকা তৈরি করা যেতে পারে।
এর পর স্থানীয় প্রশাসন, পুরসভা, পুলিশ, হকার প্রতিনিধি এবং নাগরিক সংগঠনকে নিয়ে এলাকার ভিত্তিতে পরিকল্পনা করা সম্ভব।
কোথাও দোকানের সময় নির্দিষ্ট করা যেতে পারে। কোথাও দোকানের মাপ নির্দিষ্ট করা যেতে পারে। কোথাও পথচারীদের জন্য নির্দিষ্ট করিডর রেখে ব্যবসার জায়গা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
যেখানে কোনওভাবেই ব্যবসা করা সম্ভব নয়, সেখানে বিকল্প বাজার বা হকার জোন তৈরি করতে হবে।
শুধু আইন দিয়ে শহর পরিচ্ছন্ন রাখা যায় না। প্রয়োজন নাগরিক সংস্কৃতিরও পরিবর্তন।
যে নাগরিক ফুটপাত দিয়ে হাঁটতে চান, তাঁকে যেমন ফুটপাতের অধিকার বুঝতে হবে, তেমনই যে নাগরিক ফুটপাতের দোকান থেকে কেনাকাটা করেন, তাঁকেও বুঝতে হবে দোকানদার যেন পথচারীর জায়গা পুরোপুরি দখল না করেন।
দোকানদারেরও দায়িত্ব আছে।
দোকানের সামনে আবর্জনা ফেলা যাবে না। নোংরা জল রাস্তায় ফেলা যাবে না। পথচারীর চলার জায়গা আটকে রাখা যাবে না। নির্ধারিত সীমার বাইরে দোকান বাড়ানো যাবে না।
একইভাবে প্রশাসনেরও দায়িত্ব—নিয়ম মানার সুযোগ তৈরি করা।
একটি সরকারের কাছে শহরকে সুন্দর করা, রাস্তা পরিষ্কার রাখা, ফুটপাত দখলমুক্ত করা—সবই প্রশাসনিক দায়িত্বের অংশ।
কিন্তু একটি প্রশ্ন থেকেই যায়—পরিবর্তন কি শুধু রাস্তা পরিষ্কার দেখানোর নাম, নাকি মানুষের জীবনও সেই পরিবর্তনের অংশ?
একজন হকারের দোকান ভেঙে ফুটপাত চকচকে হয়ে গেল। পথচারী হাঁটতে পারলেন। এটি পরিবর্তনের একটি ছবি।
কিন্তু সেই হকারের সন্তানের স্কুলের ফি বন্ধ হয়ে গেল, পরিবারের আয় কমে গেল, তিনি ঋণের কিস্তি দিতে পারলেন না—এটিও পরিবর্তনের আরেকটি ছবি।
দুই ছবির মধ্যে কোনটি দেখা হবে, সেটাই আসল প্রশ্ন।
উন্নয়ন যদি মানুষের জীবনকে সঙ্গে নিয়ে এগোয়, তাহলে সেটি আরও বিস্তৃত অর্থে উন্নয়ন। আর উন্নয়নের নামে একটি সমস্যার জায়গায় আরেকটি সামাজিক সমস্যা তৈরি হলে প্রশাসনকে সেই প্রশ্নেরও উত্তর দিতে হবে।
সমাধান সম্ভব—যদি বিষয়টিকে রাজনৈতিক স্লোগানের বদলে প্রশাসনিক পরিকল্পনা হিসেবে দেখা হয়।
প্রথমত, প্রকৃত হকারদের একটি স্বচ্ছ তালিকা তৈরি করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, ফুটপাতের নির্দিষ্ট অংশকে সম্পূর্ণ পথচারীদের জন্য সংরক্ষিত রাখতে হবে।
তৃতীয়ত, যাঁদের সরানো হবে তাঁদের জন্য বিকল্প জায়গার ব্যবস্থা করতে হবে।
চতুর্থত, লাইসেন্স, পরিচয়পত্র ও নির্দিষ্ট ব্যবসার সময়ের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
পঞ্চমত, নিয়ম ভাঙলে শুধু উচ্ছেদ নয়, জরিমানা ও লাইসেন্স বাতিলের মতো ধাপে ধাপে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
ষষ্ঠত, বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, গাড়ি পার্কিং, নির্মাণসামগ্রী বা অন্য কোনও স্থায়ী দখলের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রয়োগ করতে হবে।
সপ্তমত, নাগরিকদেরও সচেতন করতে হবে—ফুটপাত শুধু দোকানদারের নয়, শুধু প্রশাসনেরও নয়; এটি শহরের সামগ্রিক নাগরিক পরিকাঠামো।
ফুটপাতের লড়াই আসলে শুধু ফুটপাতের লড়াই নয়।
এটি শহরের পরিকল্পনা বনাম অপরিকল্পিত বৃদ্ধির লড়াই। এটি পথচারীর অধিকার বনাম জীবিকার প্রয়োজনের টানাপোড়েন। এটি প্রশাসনিক ক্ষমতা বনাম সামাজিক বাস্তবতার প্রশ্ন। আবার এটি নাগরিকের অধিকার ও নাগরিকের দায়িত্ব—দুইয়েরও পরীক্ষা।
প্রশাসনের উচিত ফুটপাত খালি রাখা—এতে কোনও দ্বিমত নেই। কিন্তু সেই ফুটপাত খালি করার পদ্ধতি নিয়েই গণতান্ত্রিক ও সামাজিক প্রশ্ন তৈরি হয়।
একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে সরিয়ে দেওয়া সহজ। কিন্তু তাঁকে বিকল্প জীবিকার পথ দেখানো কঠিন। আর প্রশাসনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা সাধারণত সহজ কাজটিতে নয়, কঠিন কাজটিতেই।
তাই পুজোর মুখে ফুটপাত দখলমুক্ত করার অভিযান যদি হয়, তার সঙ্গে যেন একটি দ্বিতীয় প্রশ্নও থাকে—যাঁদের সরানো হচ্ছে, তাঁদের জন্য কী ব্যবস্থা করা হচ্ছে?
একই সঙ্গে নাগরিকদের কাছেও প্রশ্ন থাকুক—আমরা কি শুধু পরিষ্কার ফুটপাত চাই, নাকি সেই ফুটপাত পরিষ্কার রাখার দায়িত্বও নিতে প্রস্তুত?
শহর কারও একার নয়। ফুটপাতও নয়।
ফুটপাত পথচারীর চলার জায়গা, আবার শহরের বহু মানুষের জীবিকারও বাস্তব ঠিকানা হয়ে উঠেছে। এই দুই বাস্তবতাকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে রেখে কোনও স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
প্রয়োজন এমন একটি শহর-নীতি, যেখানে পথচারী নিরাপদে হাঁটবেন, হকার সম্মানের সঙ্গে জীবিকা অর্জন করবেন এবং প্রশাসন নিয়ম প্রয়োগ করবে স্বচ্ছতা ও মানবিকতার সঙ্গে।
শহরের পরিবর্তন তখনই অর্থবহ হবে, যখন রাস্তা পরিষ্কার হওয়ার পাশাপাশি মানুষের জীবনও অযথা অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেওয়া হবে না।
ফুটপাত দখলমুক্ত হোক।
কিন্তু জীবিকা যেন অধিকারহীন না হয়।
নাগরিকের পথও থাকুক, মানুষের রুটিও থাকুক।