নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: তিস্তার প্রবল স্রোতে ভেসে যাচ্ছিল মাত্র প্রায় দুই সপ্তাহ বয়সি একটি হাতিশাবক। কোনওরকমে শুঁড়টি জলের উপর তুলে বাঁচার চেষ্টা করছিল সে। সেই সময় স্থানীয় মৎস্যজীবীদের নজরে আসে শাবকটি। বিপদের আঁচ পেয়ে তাঁরা দ্রুত নৌকা নিয়ে তার পিছু নেন। প্রায় ৩ থেকে ৪ কিলোমিটার নদীপথ অনুসরণ করার পর শেষ পর্যন্ত শাবকটিকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন তাঁরা।
ঘটনাটি উত্তরবঙ্গের গজলডোবা সংলগ্ন তিস্তা নদীর ১২ নম্বর স্পারের কাছাকাছি এলাকায় ঘটেছে বলে জানা গিয়েছে। নদীর প্রবল স্রোতের মধ্যে ছোট্ট হাতিশাবকটিকে দেখতে পেয়েই মৎস্যজীবীরা নৌকা নিয়ে নদীতে নামেন। বেশ কিছুটা পথ ধাওয়া করার পর জল থেকে শাবকটিকে নিরাপদে উদ্ধার করে নৌকায় তোলা হয়।
পরে বন দফতরের কর্মীদের খবর দেওয়া হলে তাঁরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে হাতিশাবকটির দায়িত্ব নেন। এত অল্প বয়সি শাবক দীর্ঘ সময় মায়ের কাছ থেকে দূরে থাকলে তার বেঁচে থাকা কঠিন হতে পারে। তাই দ্রুত তার মাকে খুঁজে বের করার উদ্যোগ নেয় বন দফতর।
এরপর নদী সংলগ্ন এলাকা ও আশপাশের জঙ্গলে নজরদারি শুরু করেন বনকর্মীরা। অনুসন্ধানের একপর্যায়ে মা হাতিটির অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারেন তাঁরা। এরপর সতর্কতার সঙ্গে শাবকটিকে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
মা হাতিও নিজের শাবককে গ্রহণ করে নেয়। তাকে সঙ্গে নিয়ে জলের মধ্যে চলে যায় এবং পরে শাবকটিকে মায়ের দুধ পান করতেও দেখা যায়। দীর্ঘক্ষণ তিস্তার স্রোতে ভেসে মৃত্যুর মুখে থাকা হাতিশাবকটি শেষ পর্যন্ত ফিরে পায় তার মায়ের নিরাপদ আশ্রয়।
এই ঘটনায় স্থানীয় মৎস্যজীবীদের তৎপরতা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তাঁদের দ্রুত পদক্ষেপেই নদীর প্রবল স্রোতের মধ্যে থাকা ছোট্ট হাতিশাবকটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। বন দফতরের উদ্যোগে পরে মা ও শাবকের নিরাপদ পুনর্মিলনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় পুরো উদ্ধার অভিযান।