নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: আসন্ন উপনির্বাচনের আগে আইএসএফের ব্যবহৃত ‘খাম’ প্রতীক অন্য একটি দলকে বরাদ্দ দেওয়াকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে সরব হয়েছেন আইএসএফ চেয়ারম্যান ও ভাঙড়ের বিধায়ক নওসাদ সিদ্দিকী।
নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নওসাদ সিদ্দিকীর ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট (ISF)-কে এবার ‘আলমারি’ প্রতীক দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ‘খাম’ প্রতীক।
এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছেন নওসাদ। তাঁর দাবি, আইএসএফ ২০২১ সাল থেকে বিভিন্ন নির্বাচনে ‘খাম’ প্রতীক ব্যবহার করে আসছে। প্রতীকটি পুনরায় আইএসএফকে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে প্রয়োজনে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
নওসাদের অভিযোগ, প্রতীক পরিবর্তনের এই সিদ্ধান্তের ফলে আইএসএফের নির্বাচনী পরিচিতিতে প্রভাব পড়তে পারে এবং বিরোধী দলকে দুর্বল করার চেষ্টা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিষয়টি শুধু একটি প্রতীকের পরিবর্তন নয়, এর সঙ্গে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্বাভাবিক প্রতিযোগিতার প্রশ্নও জড়িত। তবে এই অভিযোগগুলি নওসাদ সিদ্দিকীর রাজনৈতিক বক্তব্য ও দাবি; নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এমন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের অভিযোগ সমর্থন করা হয়নি।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের এক আধিকারিকের বক্তব্য উদ্ধৃত করে Times of India জানিয়েছে, স্বীকৃত নয় এমন রাজনৈতিক দলগুলিকে উপনির্বাচনের ক্ষেত্রে কমিশনের ফ্রি সিম্বল তালিকা থেকে নতুন প্রতীক বরাদ্দ করার ক্ষমতা রয়েছে, এবং আগের নির্বাচনে ব্যবহৃত প্রতীক একইভাবে পুনরায় পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই।
ফলে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের আগে প্রতীক-বিতর্ক নতুন রাজনৈতিক মাত্রা পেয়েছে। এখন নজর থাকবে নওসাদের চিঠির পর নির্বাচন কমিশন কী পদক্ষেপ নেয় এবং আইএসএফ আদালতের দ্বারস্থ হলে সেই আইনি প্রক্রিয়ায় কী সিদ্ধান্ত আসে।