নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: চাষের কাজে ডিজেল ও বিদ্যুতের খরচ কমাতে ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে সৌরচালিত কৃষি পাম্প। সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে ভর্তুকিতে এই পাম্প বসানোর সুযোগ পাচ্ছেন কৃষকরা। প্রধানমন্ত্রী কিষাণ উর্জা সুরক্ষা এবং উত্থান মহাভিযান বা PM-KUSUM প্রকল্পের আওতায় অফ-গ্রিড এলাকায় কৃষকদের স্ট্যান্ডঅ্যালোন সোলার কৃষি পাম্প বসানোর জন্য আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ রাজ্যগুলিতে PM-KUSUM-এর Component-B-এর আওতায় সোলার কৃষি পাম্পের বেঞ্চমার্ক বা টেন্ডার মূল্যের মধ্যে যেটি কম, তার সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ কেন্দ্রীয় আর্থিক সহায়তা হিসেবে দেওয়া হয়। রাজ্য সরকার অন্তত ৩০ শতাংশ ভর্তুকি দেয় এবং বাকি সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ কৃষকের অংশ। ব্যাংক ঋণের সুবিধা থাকলে কৃষককে প্রাথমিকভাবে প্রায় ১০ শতাংশ অর্থ দিতে হতে পারে এবং বাকি অংশের একটি অংশ ঋণের মাধ্যমে মেটানো যায়।
সোলার পাম্প ব্যবহারের অন্যতম বড় সুবিধা হল ডিজেল চালিত পাম্পের উপর নির্ভরতা কমানো। দিনের বেলায় সূর্যের আলো ব্যবহার করে সেচের জন্য জল তোলার সুযোগ থাকায় কৃষকদের জ্বালানি খরচ কমানোর সম্ভাবনা থাকে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংযোগের উপর নির্ভরতা কমে যাওয়ায় সেচ ব্যবস্থাপনাতেও সুবিধা হতে পারে।
তবে পাম্পের ক্ষমতা, জমির পরিমাণ, জলের স্তর এবং সেচের প্রয়োজন অনুযায়ী উপযুক্ত পাম্প নির্বাচন করা গুরুত্বপূর্ণ। ভর্তুকির আওতায় পাম্প পাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতরের অনুমোদিত মডেল ও বিক্রেতার তালিকা যাচাই করা উচিত।
১. প্রথমে নিজের রাজ্যে PM-KUSUM-এর জন্য নির্ধারিত বাস্তবায়নকারী দফতর বা সংস্থার মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।
২. কৃষকের জমি, সেচের প্রয়োজনীয়তা এবং অন্যান্য যোগ্যতার তথ্য যাচাই করা হতে পারে।
৩. আবেদন অনুমোদিত হলে নির্ধারিত অনুমোদিত বিক্রেতার মাধ্যমে পাম্প বসানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়।
৪. কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের প্রযোজ্য ভর্তুকি পাম্পের মোট খরচের সঙ্গে সমন্বয় করা হয় এবং কৃষককে বাকি অর্থ প্রদান করতে হয়।
৫. আবেদন করার আগে সরকারি পোর্টালে রাজ্যভিত্তিক বিক্রেতার তালিকা, দরপত্রের হার এবং প্রকল্পের বর্তমান বিজ্ঞপ্তি দেখে নেওয়া জরুরি। PM-KUSUM-এর সরকারি পোর্টাল ভুয়ো ওয়েবসাইট বা অ্যাপের মাধ্যমে টাকা নেওয়ার বিষয়ে কৃষকদের সতর্কও করেছে।
সোলার পাম্পে একদিকে যেমন কৃষকদের সেচের খরচ কমানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে, তেমনই সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে কৃষিক্ষেত্রে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির প্রসার ঘটছে। তবে ভর্তুকির নির্দিষ্ট শতাংশ, কৃষকের নিজস্ব অংশ এবং আবেদন পদ্ধতি রাজ্য ও সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী যাচাই করেই আবেদন করা উচিত।