নিজস্ব প্রতিনিধি ,জেলার বার্তা ডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে বিজেপি কর্মী বাপি প্রামাণিককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই ঘটনায় বিজেপির এক পঞ্চায়েত সদস্য তথা প্রাক্তন মণ্ডল সভাপতি-সহ মোট চারজনকে গ্রেফতার করেছে বারুইপুর থানার পুলিশ। ধৃতদের নাম সুজন মণ্ডল, কৃষ্ণা মণ্ডল, কনক মণ্ডল এবং অনিল নাইয়া।
রবিবার রাতে বারুইপুর থানার হাড়দহ পঞ্চায়েতের উত্তর ট্যাঙ্গারবেড়িয়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, দুর্গাপুজোর কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয়। সেই সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি কর্মী বাপি প্রামাণিক ও তাঁর স্ত্রী। অভিযোগ, বচসার মধ্যেই ধারালো অস্ত্র নিয়ে বাপির উপর হামলা চালানো হয়। স্ত্রীর সামনেই তাঁকে এলোপাথাড়ি কোপানো হয় বলে অভিযোগ।
রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন বাপি। তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়।
এরপর মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে বারুইপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের পর সুজন মণ্ডল-সহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। খুনের ঘটনায় প্রত্যেকের ভূমিকা কী ছিল, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা। ঘটনায় আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, বাপি প্রামাণিকের সঙ্গে সুজন মণ্ডলের দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব ছিল। সেই পুরনো বিরোধের জেরেই এই খুন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পাশাপাশি, দুর্গাপুজোর কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিবাদকেও খুনের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখছে পুলিশ।
অন্যদিকে, বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ধৃত সুজন মণ্ডলকে দলবিরোধী কাজের অভিযোগে আগেই সাসপেন্ড করা হয়েছিল। ফলে ঘটনাটিকে সরাসরি দলের সঙ্গে যুক্ত করে দেখাতে নারাজ বিজেপি নেতৃত্ব। তবে স্থানীয় স্তরে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশের তদন্তে আপাতত গুরুত্ব পাচ্ছে দুটি বিষয়—পুজোর কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বিবাদ এবং বাপি প্রামাণিকের সঙ্গে সুজন মণ্ডলের পুরনো দ্বন্দ্ব। কোনটি খুনের মূল কারণ, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্পষ্ট নয়।
খুনে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে কি না, হামলার সময় ঘটনাস্থলে আর কারা উপস্থিত ছিলেন এবং ধৃতদের সঙ্গে অন্য কারও যোগাযোগ ছিল কি না—এই সমস্ত বিষয়ও খতিয়ে দেখছে বারুইপুর থানার পুলিশ।
তবে পুলিশের তদন্ত এবং আদালতে প্রমাণের আগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং প্রত্যেক অভিযুক্তের ভূমিকা আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে।