নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক : বেআইনি বাজি ও বাজির মশলা মজুতের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের বার্তা দিল বারুইপুর পুলিশ জেলা প্রশাসন। শুক্রবার চম্পাহাটি-হাড়ালে বাজি সংগঠন ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসে পুলিশ প্রশাসন। বৈঠকে বেআইনি বাজি ও নিষিদ্ধ বাজির মশলা দু’দিনের মধ্যে পুলিশের কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বারুইপুর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অতীশ বিশ্বাস এবং বারুইপুর থানার আইসি শান্তনু মিত্র। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বেআইনিভাবে বাজি তৈরি বা মজুত কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। একই সঙ্গে বাজি ব্যবসায়ীদের প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করে সরকারি নিয়ম মেনে ব্যবসা করার আহ্বান জানানো হয়।
এদিকে, বৃহস্পতিবারের বাজি বিস্ফোরণের ঘটনার তদন্তে নেমে বারুইপুর থানার পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে দুই শ্রমিককে গ্রেফতার করেছে। শুক্রবারও পিয়ালী-খোলাঘাটা এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রচুর নিষিদ্ধ বাজি ও বাজির মশলা উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, বেআইনি বাজি ও মশলার বিরুদ্ধে আগামী দিনেও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বিস্ফোরণের ঘটনায় আহত দু’জনের মধ্যে কারখানার মালিকের স্ত্রী পদ্মরানী নস্করের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে। অন্য আহত শ্রমিক আব্বাস গাজীর অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল। তবে কারখানার মালিক বাপি নস্কর-সহ কয়েকজন কর্মীর এখনও খোঁজ মেলেনি। তাঁদের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।
শুক্রবারের বৈঠকে বারুইপুর দমকল বিভাগের আধিকারিকরাও উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ প্রশাসনের দাবি, হাড়াল ও পিয়ালী এলাকার বাজি ব্যবসায়ীদের বেআইনি বাজি তৈরি ও মজুতের বিষয়ে বারবার সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু তারপরেও পরিস্থিতির বিশেষ পরিবর্তন হয়নি।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের জানুয়ারিতেই হাড়ালে বাজি বিস্ফোরণের ঘটনায় তিন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছিল। পরপর বিস্ফোরণের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
বৈঠকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অতীশ বিশ্বাস বলেন, বেআইনি ভাবে বাজি তৈরি কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। তবে যারা সরকারি নিয়ম মেনে বাজি তৈরি করছেন, তাঁদের লাইসেন্স পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের এই কড়া বার্তার পর চম্পাহাটি-হাড়াল ও পিয়ালী এলাকায় বেআইনি বাজি উৎপাদন ও মজুতের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।