নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: ১৬ আগস্ট ‘আয়ুষ্মান দিবস’ উপলক্ষে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে আয়ুষ্মান ভারত কার্ড বিতরণ কর্মসূচি। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবে রবিবার আসানসোলের রবীন্দ্র ভবনে পশ্চিম বর্ধমান জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্ড বিতরণ শুরু হয়। প্রথম দিনেই জেলায় প্রায় ৪৩ হাজার উপভোক্তার হাতে আয়ুষ্মান ভারত কার্ড তুলে দেওয়া হয়েছে।
কলকাতায় ‘আয়ুষ্মান দিবস’-এর আনুষ্ঠানিক সূচনা অনুষ্ঠানের সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা করা হয় আসানসোলের রবীন্দ্র ভবনেও। পাশাপাশি পশ্চিম বর্ধমানের উপভোক্তাদের হাতে কার্ড তুলে দেন প্রশাসনিক আধিকারিকরা।
জেলাশাসক এস পোন্নাবলম জানান, পশ্চিম বর্ধমানে প্রায় সাড়ে ১০ লক্ষ প্রি-ফিল্ড ফর্মের মধ্যে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৭ লক্ষ ফর্মের ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হয়েছে। বাকি প্রায় সাড়ে ৩ লক্ষ ফর্মের যাচাই ও তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।
ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হওয়া উপভোক্তাদের মধ্যে প্রথম দিনেই প্রাথমিকভাবে প্রায় ৪৩ হাজার জনকে কার্ড দেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে পর্যায়ক্রমে বাকি যোগ্য উপভোক্তাদের হাতেও কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
গ্রামাঞ্চল ও প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের কাছে পরিষেবা পৌঁছে দিতে জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি ব্লক প্রশাসন এবং আশা কর্মীদেরও কাজে লাগানো হয়েছে। জনকল্যাণ শিবির থেকে সংগ্রহ করা প্রায় দেড় লক্ষ ফর্মের মধ্যে আরও প্রায় ৪০ হাজার ফর্ম ডিজিটাইজেশনের মাধ্যমে কার্ড তৈরির জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান জেলাশাসক।
জেলাশাসক আরও জানান, কোনও উপভোক্তা আয়ুষ্মান ভারত কার্ডের আওতায় না এলেও তাঁকে স্বাস্থ্যসুরক্ষার বাইরে রাখা হবে না। তাঁদের ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বীমা যোজনা’-র আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। অর্থাৎ যোগ্য উপভোক্তারা আয়ুষ্মান ভারত অথবা মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বীমা যোজনা—এই দুই প্রকল্পের যেকোনও একটির মাধ্যমে স্বাস্থ্যসুরক্ষার সুবিধা পাবেন।
এদিনের অনুষ্ঠানে বারাবনির বিজেপি বিধায়ক অরিজিৎ রায়, জামুরিয়ার বিধায়ক বিজন মুখার্জি-সহ জেলা প্রশাসনের আধিকারিক ও অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। পশ্চিম বর্ধমানে দ্রুত ভেরিফিকেশন ও কার্ড বিতরণের এই উদ্যোগে জেলার আরও বহু মানুষ স্বাস্থ্যবিমার আওতায় আসবেন বলে প্রশাসনের আশা।