Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে বিনোদন সম্পাদকীয় কলম
BREAKING NEWS
আসানসোলে বিনিয়োগের নামে কোটি কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগ! বিপাকে ১০-১২ হাজার মানুষ, বন্ধ অফিস, উধাও কর্তারা   •   দক্ষিণবঙ্গে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার পূর্বাভাস, ২৮ থেকে ৩০ অক্টোবর ভারী বৃষ্টি ও ঝড়ের সতর্কতা জারি   •   স্বচ্ছ ভারতের অঙ্গ হিসেবে আলিপুরদুয়ারের ভোলাডাবরি RPF কলোনিতে সাফাই অভিযান, প্রতি রবিবার পরিচ্ছন্নতার উদ্যোগ   •   পরিষেবা না পাওয়ার অভিযোগে রানিগঞ্জে আমরাসোতা পঞ্চায়েত অফিসে তালা ঝোলালেন স্থানীয়রা   •   প্রধানমন্ত্রীর বাবাকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের অভিযোগ, পানাগড়ে মল্লিকার্জুন খাড়গের কুশপুতুল দাহ বিজেপির   •   ভিন রাজ্যে দুর্গাপুরের কাঁকসার যুবকের রহস্যমৃত্যু, খুনের অভিযোগ পরিবারের

আরণ্যক বনভোজন উদ্যানে পশু-পাখি পাচারের অভিযোগে চাঞ্চল্য, আটক ৩

29 Jul 2026
09:23 AM

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক-  বারুইপুর পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডে আদি গঙ্গার ধারে অবস্থিত ‘আরণ্যক বনভোজন উদ্যান’-কে ঘিরে পশু-পাখি পাচারের অভিযোগে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করেছে বারুইপুর থানার পুলিশ। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। জাতীয় পাখি ময়ূরের অনুপস্থিতি, বিদেশি পাখি ও কচ্ছপ নিখোঁজ হওয়া এবং বনদপ্তরকে না জানিয়ে একটি ময়ূর মাটিতে পুঁতে দেওয়ার অভিযোগকে ঘিরে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, একসময় উদ্যানে প্রায় ১৩টি ময়ূর, একাধিক কচ্ছপ, টিয়া পাখি এবং বিভিন্ন প্রজাতির বিদেশি পাখি ছিল। বর্তমানে সেখানে একটি ময়ূরও নেই বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, বিদেশি পাখি এবং কচ্ছপগুলিও উধাও। অভিযোগ, সেগুলি বাজারে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

বুধবার বারুইপুর পশ্চিম ১ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি গৌতম চক্রবর্তী উদ্যানে গিয়ে পশু-পাখির সংখ্যা ও পরিস্থিতি দেখে সন্দেহ প্রকাশ করেন। এরপর তিনি বারুইপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর বারুইপুর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অতীশ বিশ্বাস এবং বারুইপুর থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক শান্তনু মিত্রের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান চালায়। সেখান থেকে তিনজনকে আটক করা হয় এবং তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়।

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন দাবি করেন, একটি ময়ূর অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়ার পর সেটিকে মাটিতে পুঁতে দেওয়া হয়েছিল। তবে জাতীয় পাখির মৃত্যুর পর বনদপ্তরকে কেন জানানো হয়নি এবং বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ আইনের বিধি মেনে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তদন্তকারীরা এই দাবির সত্যতা যাচাই করছেন।

অভিযোগকারী গৌতম চক্রবর্তী বলেন, "উদ্যানে থাকা ময়ূর, কচ্ছপ ও বিদেশি পাখির সংখ্যা হঠাৎ কমে যাওয়া অত্যন্ত সন্দেহজনক। বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।"

অন্যদিকে, উদ্যান-সংক্রান্ত কর্মী গোপাল সরদার দাবি করেন, "কোনও পশু বা পাখি পাচার করা হয়নি। সব অভিযোগের যথাযথ তদন্ত হোক, তাহলেই প্রকৃত সত্য সামনে আসবে।"

পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। উদ্যানে থাকা পশু-পাখির নথি, লাইসেন্স, সংরক্ষণ সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে বনদপ্তরের সহযোগিতাও নেওয়া হবে। তদন্তের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এই ঘটনায় বারুইপুরের পরিবেশপ্রেমী ও প্রাণীপ্রেমীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাঁদের দাবি, যদি সত্যিই সংরক্ষিত বা জাতীয় পাখি পাচারের ঘটনা ঘটে থাকে, তবে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে প্রশাসনের আরও কড়া নজরদারি প্রয়োজন।