নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: বর্তমান সময়ে স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের মধ্যে উচ্চ-প্রোটিনযুক্ত খাদ্যাভ্যাসের প্রতি আগ্রহ ক্রমশ বাড়ছে। শরীর সুস্থ রাখা, পেশির গঠন বজায় রাখা, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং দৈনন্দিন কর্মক্ষমতা ধরে রাখার লক্ষ্যে অনেকেই তাঁদের খাবারের তালিকায় প্রোটিনসমৃদ্ধ উপাদান যুক্ত করছেন। আর সেই তালিকায় বিশেষভাবে জায়গা করে নিচ্ছে কটেজ চিজ। সহজে বিভিন্ন খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া যায় এবং পুষ্টিগুণের কারণেও এই দুগ্ধজাত খাবারটি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
কটেজ চিজ মূলত দুধ থেকে তৈরি এক ধরনের তাজা পনির। সাধারণত দুধের প্রোটিন জমাট বাঁধিয়ে তৈরি করা হয় এই খাবার। এর স্বাদ তুলনামূলকভাবে হালকা এবং গঠন নরম ও দানাদার। ফলে সকালের জলখাবার, দুপুরের খাবার কিংবা সন্ধ্যার হালকা খাবার—বিভিন্ন সময়েই এটি খাওয়া সম্ভব। অনেকেই ফল, বাদাম, সালাদ কিংবা রুটির সঙ্গে কটেজ চিজ মিশিয়ে খেতে পছন্দ করেন।
কটেজ চিজ জনপ্রিয় হওয়ার অন্যতম কারণ এর প্রোটিনের পরিমাণ। প্রোটিন শরীরের পেশি তৈরি ও মেরামত, কোষের গঠন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শারীরবৃত্তীয় কাজে ভূমিকা রাখে। নিয়মিত শরীরচর্চা করেন এমন ব্যক্তিদের পাশাপাশি যাঁরা দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে প্রোটিনের পরিমাণ বাড়াতে চান, তাঁদের কাছেও এই খাবারটি একটি সুবিধাজনক বিকল্প হতে পারে।
এ ছাড়া প্রোটিনযুক্ত খাবার খেলে অনেকের ক্ষেত্রে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকার অনুভূতি তৈরি হয়। ফলে অকারণে বারবার খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমাতে এটি সহায়ক হতে পারে। তবে শুধু কটেজ চিজ খেলেই ওজন কমবে, এমন ধারণা ঠিক নয়। ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রম এবং পর্যাপ্ত ঘুমও গুরুত্বপূর্ণ।
কটেজ চিজের আরেকটি সুবিধা হল, এটি মিষ্টি ও নোনতা—দুই ধরনের খাবারেই ব্যবহার করা যায়। সকালের নাস্তায় ফলের সঙ্গে কটেজ চিজ খাওয়া যেতে পারে। আবার শসা, টমেটো, গাজর ও অন্যান্য সবজির সঙ্গে মিশিয়ে তৈরি করা যায় পুষ্টিকর সালাদ। কেউ কেউ স্যান্ডউইচ, র্যাপ কিংবা বিভিন্ন রান্নার উপকরণ হিসেবেও এটি ব্যবহার করছেন।
ভারতীয় খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে মানিয়ে নিতে কটেজ চিজ দিয়ে সবজি, হালকা মশলাদার পদ কিংবা ভর্তার মতো খাবারও তৈরি করা সম্ভব। তবে বাজারে পাওয়া কটেজ চিজ এবং সাধারণ পনিরের পুষ্টিগুণ এক রকম নাও হতে পারে। তৈরির পদ্ধতি, দুধের ধরন এবং চর্বির পরিমাণ অনুযায়ী প্রোটিন ও ক্যালরির মাত্রা বদলে যায়।
কটেজ চিজে প্রোটিনের পাশাপাশি ক্যালসিয়াম, ফসফরাস এবং ভিটামিন বি-১২-এর মতো কিছু গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানও থাকতে পারে। এগুলি হাড়ের স্বাস্থ্য, স্নায়ুতন্ত্র এবং শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে। তবে সব ধরনের কটেজ চিজে পুষ্টির পরিমাণ সমান নয়। তাই কেনার আগে প্যাকেটের পুষ্টি-তথ্য দেখে নেওয়া জরুরি।
বিশেষ করে সোডিয়াম বা লবণের পরিমাণের দিকে নজর রাখা প্রয়োজন। কিছু প্রস্তুতকারকের পণ্যে লবণের মাত্রা তুলনামূলক বেশি হতে পারে। যাঁদের লবণ গ্রহণে বিধিনিষেধ রয়েছে, তাঁদের কম সোডিয়ামযুক্ত বিকল্প বেছে নেওয়া উচিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনও একটি খাবারের উপর নির্ভর না করে বিভিন্ন উৎস থেকে প্রোটিন গ্রহণ করাই ভালো। ডাল, ছোলা, রাজমা, সয়াবিন, ডিম, মাছ, দুধ, দই এবং বাদামের মতো খাবারও প্রোটিনের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। নিরামিষভোজীদের খাদ্যতালিকায় কটেজ চিজ একটি কার্যকর সংযোজন হতে পারে।
তবে যাঁদের দুধজাত খাবারে অ্যালার্জি বা ল্যাকটোজ সহ্য করতে সমস্যা রয়েছে, তাঁদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন। কিডনির অসুখসহ বিশেষ শারীরিক সমস্যা থাকলে খাদ্যে প্রোটিনের পরিমাণ বাড়ানোর আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
উচ্চ-প্রোটিনযুক্ত খাবারের জনপ্রিয়তা বাড়লেও সুস্থ থাকার জন্য শুধু প্রোটিনের উপর জোর দিলেই হবে না। শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী কার্বোহাইড্রেট, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, ভিটামিন, খনিজ এবং পর্যাপ্ত ফাইবারও খাদ্যতালিকায় থাকা দরকার। পাশাপাশি পর্যাপ্ত জল পান ও নিয়মিত শরীরচর্চার অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে, কটেজ চিজের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির পিছনে রয়েছে এর প্রোটিনসমৃদ্ধ বৈশিষ্ট্য, সহজ ব্যবহার এবং নানা ধরনের খাবারের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা। তবে কোনও খাবারই একা সুস্বাস্থ্যের নিশ্চয়তা দিতে পারে না। পরিমিত পরিমাণে এবং সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে কটেজ চিজ খাওয়াই হতে পারে স্বাস্থ্যসচেতন জীবনের বাস্তবসম্মত পথ।