Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে বিনোদন সম্পাদকীয় কলম
BREAKING NEWS
পালাবদলের পর পঞ্চায়েত-পুরসভায় ক্ষমতার নতুন সমীকরণ! দুর্নীতির অভিযোগ, দলবদল নাকি রাজনৈতিক প্রভাব—কোন পথে এগোবে বাংলার নতুন রাজনীতি?   •   তৃণমূলের হাতছাড়া চাঁদপুর-চৈতন্যপুর গ্রাম পঞ্চায়েত! অনাস্থায় অপসারিত অনিতা পাইক, নতুন প্রধান বিজেপির শ্যামলী হালদার   •   একটি মুরগির বুকের মাংস থেকে কতটা প্রোটিন পাওয়া যায়? পেশি গঠন থেকে ওজন নিয়ন্ত্রণ, জানুন পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা   •   সকালে জল পান করার আগেই কফি? রক্তচাপের উপর কী প্রভাব পড়ে, জানুন বিশেষজ্ঞদের মত   •   জিম্বাবোয়ে সিরিজে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পুরস্কার! আইসিসি ওয়ানডে বোলিং র‍্যাঙ্কিংয়ে ৫৩ ধাপ এগোলেন ভারতের তরুণ স্পিনার বৈষ্ণবী শর্মা   •   উত্তরবঙ্গের বন্ধ ও অচল চা-বাগানের শ্রমিকদের জন্য বিশেষ আর্থিক সহায়তা, উৎসবে ৫ হাজার টাকা ও পরিবার পিছু ৫০ কেজি চাল দেওয়ার ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

তৃণমূলের হাতছাড়া চাঁদপুর-চৈতন্যপুর গ্রাম পঞ্চায়েত! অনাস্থায় অপসারিত অনিতা পাইক, নতুন প্রধান বিজেপির শ্যামলী হালদার

03 Nov 2026
11:12 AM


নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক:  দক্ষিণ ২৪ পরগনার মন্দিরবাজার ব্লকের চাঁদপুর-চৈতন্যপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে বদলে গেল রাজনৈতিক সমীকরণ। ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস বোর্ড গঠন করলেও এবার অনাস্থা প্রস্তাবের জেরে প্রধানের পদ থেকে সরতে হল অনিতা পাইককে। নতুন প্রধান নির্বাচিত হলেন বিজেপির শ্যামলী হালদার। রাজনৈতিক পালাবদলের পর রাজ্যের বিভিন্ন পঞ্চায়েতে ক্ষমতার সমীকরণ বদলানোর যে ছবি সামনে আসছে, চাঁদপুর-চৈতন্যপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ঘটনাও সেই তালিকায় নতুন সংযোজন।

স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে চাঁদপুর-চৈতন্যপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মোট ১৯টি আসনের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস জয়ী হয়েছিল ৯টি আসনে। বিজেপি পেয়েছিল ৪টি আসন, সিপিআইএম ৩টি এবং নির্দল প্রার্থীরা জয়ী হয়েছিলেন ৩টি আসনে। একক বৃহত্তম দল হিসেবে তৃণমূল কংগ্রেস বোর্ড গঠন করে। প্রধান নির্বাচিত হন তৃণমূলের অনিতা পাইক।

কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলাতে থাকে রাজনৈতিক পরিস্থিতি। রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর পঞ্চায়েতের অন্দরে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়। তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের অভিযোগ তুলে বিরোধী শিবিরের সদস্যরা একজোট হন বলে দাবি। এরপর অনাস্থা প্রস্তাবের মাধ্যমে পুরনো বোর্ডের অবসান ঘটিয়ে নতুন করে প্রধান নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

২০২৩ সালের নির্বাচনী সমীকরণে ছিল তৃণমূলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা

২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী, ১৯ সদস্যের চাঁদপুর-চৈতন্যপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্যসংখ্যা ছিল ৯। বিজেপির ছিল ৪, সিপিআইএমের ৩ এবং নির্দল সদস্য ছিলেন ৩ জন।

এই সমীকরণে তৃণমূল কংগ্রেস বোর্ড গঠন করে এবং অনিতা পাইক প্রধানের দায়িত্ব পান। কিন্তু পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে যাওয়ায় পঞ্চায়েতের ভিতরে বিরোধী সদস্যদের মধ্যে সমঝোতা তৈরি হয়। বিজেপি, সিপিআইএম এবং নির্দল সদস্যদের একাংশের অবস্থান বদলানোর ফলে অনাস্থা প্রস্তাবের পথ প্রশস্ত হয় বলে জানা গিয়েছে।

অনাস্থা প্রস্তাবে ১৩ জনের সমর্থন

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে মোট ১৩ জন সদস্য সমর্থন জানান। তাঁদের মধ্যে তৃণমূলের ৫ জন, নির্দল সদস্য ২ জন, বিজেপির ৪ জন এবং সিপিআইএমের ২ জন সদস্য ছিলেন বলে জানানো হয়েছে।

এই ভোটের সমীকরণে পুরনো প্রধান অনিতা পাইকের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ে। অনাস্থা প্রস্তাবের পর তাঁর প্রধানের পদ চলে যায়। এরপর নতুন প্রধান নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় বিজেপির শ্যামলী হালদারের নাম সামনে আসে। শেষ পর্যন্ত তিনিই নতুন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন বলে স্থানীয় সূত্রে খবর।

নতুন প্রধান শ্যামলী হালদার, বদলাল পঞ্চায়েতের নেতৃত্ব

চাঁদপুর-চৈতন্যপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের নতুন প্রধান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বিজেপির শ্যামলী হালদার। প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, তিনি ৪৪ নম্বর বুথের সদস্য। অন্যদিকে, বিদায়ী প্রধান অনিতা পাইক ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য এবং ৫৮ নম্বর বুথের প্রতিনিধি।

এই পরিবর্তনের ফলে পঞ্চায়েতের নেতৃত্বে এল বিজেপি। তবে বোর্ডের রাজনৈতিক সমীকরণ বুঝতে গেলে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—১৯টি আসনের মধ্যে বিজেপির নিজস্ব সদস্যসংখ্যা ৪। অর্থাৎ নতুন প্রধান নির্বাচিত হওয়ার ক্ষেত্রে দলের বাইরের সদস্যদের সমর্থনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে বলে প্রদত্ত ভোটের হিসাব থেকে বোঝা যাচ্ছে।

দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর

পুরনো বোর্ডের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের অভিযোগ তুলে অনাস্থা আনা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। বিরোধী সদস্যদের বক্তব্য, পঞ্চায়েত পরিচালনার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি থাকা জরুরি। সাধারণ মানুষের উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ অর্থ এবং সরকারি প্রকল্পের সুবিধা যাতে প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছয়, তা নিশ্চিত করা দরকার।

তবে এই অভিযোগগুলির সত্যতা এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। বিদায়ী প্রধান অনিতা পাইক বা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনও পাল্টা বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে তা যুক্ত করা প্রয়োজন। রাজনৈতিক অভিযোগের পাশাপাশি পঞ্চায়েতের কাজকর্ম ও আর্থিক লেনদেনের বিষয়গুলি প্রশাসনিকভাবে খতিয়ে দেখা হলে প্রকৃত পরিস্থিতি স্পষ্ট হতে পারে।

নতুন বোর্ডের সামনে একাধিক চ্যালেঞ্জ

নতুন প্রধান শ্যামলী হালদারের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে পঞ্চায়েতের স্বাভাবিক কাজকর্ম চালু রাখা এবং এলাকার উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। গ্রামীণ রাস্তা, পানীয় জল, নিকাশি ব্যবস্থা, আবাসন প্রকল্প, সরকারি পরিষেবা এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যার সমাধান—এই বিষয়গুলিতে নতুন বোর্ডের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।

বিশেষ করে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পঞ্চায়েতের পরিষেবা যাতে কোনওভাবেই দলীয় বিভাজনের কারণে ব্যাহত না হয়, সেদিকে নজর রাখা জরুরি। নতুন প্রধানের কাছে এলাকার বাসিন্দাদের প্রত্যাশা থাকবে, রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে প্রত্যেকের কাছে সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া।

মন্দিরবাজারের পঞ্চায়েত রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ

চাঁদপুর-চৈতন্যপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের এই পরিবর্তন মন্দিরবাজার ব্লকের রাজনীতিতেও নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ২০২৩ সালে যে পঞ্চায়েতে তৃণমূল কংগ্রেস ৯টি আসন পেয়ে বোর্ড গঠন করেছিল, সেখানে পরবর্তী সময়ে বিরোধী সদস্যদের সমর্থনে বিজেপির প্রধান নির্বাচিত হওয়া রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।

সব মিলিয়ে, চাঁদপুর-চৈতন্যপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে অনাস্থা প্রস্তাবের পর নেতৃত্বের পরিবর্তন ঘটেছে। বিদায়ী প্রধান অনিতা পাইকের জায়গায় দায়িত্ব পেয়েছেন বিজেপির শ্যামলী হালদার। এখন দেখার, নতুন বোর্ড কতটা দক্ষতার সঙ্গে পঞ্চায়েত পরিচালনা করে এবং এলাকার উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের পরিষেবা প্রদানের ক্ষেত্রে কতটা পরিবর্তন আনতে পারে।