Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে বিনোদন সম্পাদকীয় কলম
BREAKING NEWS
পোস্টার প্রিন্টের শাড়িতে নজর কাড়লেন ঋতুপর্ণা, ‘স্টার লাইট অনন্য সম্মান ২০২৬’-এর মঞ্চে অভিনব সাজে অভিনেত্রী   •   হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে প্রতিদিনের পাতে রাখুন ৬ ধরনের খাবার, পরামর্শ হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের   •   আপনি একটানা কয়টি পুশ-আপ করতে পারেন? মেল রবিন্সের পডকাস্ট ঘিরে ভাইরাল ‘১১ পুশ-আপ চ্যালেঞ্জ’   •   SIR বাতিল ও জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে দিল্লির রামলীলা ময়দান অভিমুখে বিরোধীদের মিছিল   •   বাংলায় ফের SIR-এর দাবি শমীক ভট্টাচার্যের, ‘অসম্পূর্ণ থেকে গিয়েছে আগের প্রক্রিয়া’   •   শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ফখর জামানের দুর্দান্ত ১২তম ওডিআই শতরান, ৩২৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ত্রিদেশীয় সিরিজ চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান

SIR বাতিল ও জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে দিল্লির রামলীলা ময়দান অভিমুখে বিরোধীদের মিছিল

01 Nov 2026
07:41 AM


নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: গণতন্ত্র বাঁচাতে হাঁটুন, ভোটাধিকার রক্ষা করুন’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে দিল্লিতে INDIA জোটের শক্তি প্রদর্শন। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR প্রক্রিয়া বাতিল এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে পথে নামলেন বিরোধী নেতারা।

ভোটাধিকার রক্ষা, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির নিরপেক্ষতা এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার দাবিতে রবিবার উত্তাল হয়ে উঠল রাজধানী দিল্লি। SIR বা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া বাতিল এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে রামলীলা ময়দান অভিমুখে মিছিল করল বিরোধী INDIA জোট। ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই মিছিলকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে তৈরি হয় রাজনৈতিক উত্তেজনা ও ব্যাপক চর্চা।

১ নভেম্বরের এই কর্মসূচিতে কংগ্রেস-সহ INDIA জোটের একাধিক শরিক দলের নেতা, সাংসদ, কর্মী, ছাত্র সংগঠন এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। মিছিলের মূল বার্তা—নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনও যোগ্য নাগরিকের ভোটাধিকার যেন কোনওভাবেই খর্ব না হয়। বিরোধীদের অভিযোগ, SIR-এর নামে বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাঁদের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং সাধারণ মানুষের কাছে জবাবদিহিমূলক হতে হবে। 

‘গণতন্ত্র বাঁচাতে হাঁটুন, ভোটাধিকার রক্ষা করুন’

মিছিলকে ঘিরে বিরোধী শিবিরের প্রচারের কেন্দ্রে রয়েছে গণতন্ত্র ও নাগরিকের ভোটাধিকার। ‘গণতন্ত্র বাঁচাতে হাঁটুন, ভোটাধিকার রক্ষা করুন’—এই আহ্বানের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে আন্দোলনে সামিল হওয়ার বার্তা দিয়েছে বিরোধী জোট। তাদের বক্তব্য, ভোট দেওয়া শুধু একটি সাংবিধানিক অধিকার নয়, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নাগরিকের মত প্রকাশের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। তাই ভোটার তালিকা থেকে কোনও যোগ্য নাগরিকের নাম বাদ পড়লে তা অত্যন্ত গুরুতর বিষয়।

বিরোধী নেতাদের অভিযোগ, SIR প্রক্রিয়ার ফলে বহু প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে যাঁরা কাজের সূত্রে অন্যত্র থাকেন, যাঁদের ঠিকানা পরিবর্তিত হয়েছে অথবা যাঁদের নথিপত্র নিয়ে সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ভোটাধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, ভোটার তালিকা পরিষ্কার করার নামে যেন প্রকৃত ভোটারদের বাদ দেওয়া না হয়।

মিছিলের নেতৃত্বে INDIA জোটের শীর্ষ নেতারা

রবিবারের এই কর্মসূচিতে বিরোধী জোটের একাধিক শীর্ষ নেতার উপস্থিতি রাজনৈতিকভাবে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ বিভিন্ন বিরোধী দলের নেতাদের এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে একজোট হতে দেখা যায়। মিছিলের সূচনা হয় মিন্টো রোড-সংলগ্ন এলাকা থেকে। সেখান থেকে কনট প্লেস ও অজমেরি গেট হয়ে রামলীলা ময়দানের দিকে এগোনোর কর্মসূচি নেওয়া হয়।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, INDIA জোটের ২১টি দলের প্রতিনিধিত্ব এই কর্মসূচিতে থাকার কথা ছিল। বিরোধীদের কাছে এই মিছিল কেবল একটি দিনের প্রতিবাদ নয়; বরং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা, ভোটার তালিকা সংশোধনের পদ্ধতি এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির জবাবদিহি নিয়ে বৃহত্তর রাজনৈতিক আন্দোলনের অংশ। 

কেন SIR বাতিলের দাবি?

SIR বা Special Intensive Revision হল নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য ভোটার তালিকাকে হালনাগাদ করা এবং মৃত, স্থানান্তরিত বা অন্য কারণে অযোগ্য হয়ে পড়া ব্যক্তিদের নাম শনাক্ত করা। তবে এই প্রক্রিয়ার পদ্ধতি ও বাস্তবায়ন নিয়ে বিরোধী দলগুলি আপত্তি তুলেছে।

তাদের বক্তব্য, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে যেন প্রকৃত ও যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ না পড়ে। বিশেষ করে দরিদ্র, পরিযায়ী শ্রমিক, সংখ্যালঘু এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষ যাতে নথিপত্রের অভাবে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে। বিরোধীদের দাবি, SIR প্রক্রিয়া নিয়ে যে সমস্ত প্রশ্ন উঠেছে, তার নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া বন্ধ রাখা উচিত।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিরোধীদের আপত্তির কেন্দ্রে রয়েছে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়ার বিষয়টি। বিরোধী দলগুলি এই ঘটনাকে নির্বাচনী স্বচ্ছতা ও ভোটাধিকার সংক্রান্ত উদ্বেগ হিসেবে তুলে ধরেছে। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, ভুলভাবে বাদ পড়া ভোটাররা পুনরায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য আবেদন করতে পারেন। ফলে এই বিষয়টি নিয়ে বিরোধী দল ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে মতবিরোধ আরও স্পষ্ট হয়েছে। 

জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও অপসারণের দাবি

এই আন্দোলনের আরেকটি প্রধান দাবি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ। বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধন এবং নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সেই কারণেই তাঁরা জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক জবাবদিহির দাবি তুলেছেন।

বিরোধী নেতাদের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশন দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান। তাই এই প্রতিষ্ঠানের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বজায় রাখা জরুরি। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত ও কাজকর্ম নিয়ে কোনও অভিযোগ উঠলে তার স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দিতে হবে। বিরোধীদের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদে থাকার নৈতিক ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

তবে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলি বিরোধী দলগুলির রাজনৈতিক বক্তব্য। নির্বাচন কমিশন ও শাসক দল এই অভিযোগের সঙ্গে একমত নয়। তাই এই বিতর্কের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি নির্ভর করবে প্রাসঙ্গিক নথি, প্রক্রিয়া এবং সাংবিধানিক পর্যালোচনার উপর।

রাজধানীতে কড়া নিরাপত্তা

বিরোধীদের এই বড় কর্মসূচিকে ঘিরে দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। রামলীলা ময়দান এবং মিছিলের নির্ধারিত পথের আশপাশে পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়। দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়েও সতর্কতা জারি করা হয়।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। রামলীলা ময়দানে সমাবেশের জন্য মঞ্চ, ব্যারিকেড এবং অন্যান্য পরিকাঠামোর ব্যবস্থা করা হয়। প্রশাসনের লক্ষ্য ছিল, বড় জমায়েতের মধ্যেও আইনশৃঙ্খলা ও সাধারণ মানুষের যাতায়াত স্বাভাবিক রাখা। 

পাল্টা বক্তব্য শাসক শিবিরের

বিরোধীদের এই কর্মসূচি নিয়ে শাসক শিবিরের তরফেও পাল্টা বক্তব্য সামনে এসেছে। বিজেপির নেতারা বিরোধীদের আন্দোলনের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের বক্তব্য, ভোটার তালিকা শুদ্ধ করার প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক কারণে বিরোধিতা করা হচ্ছে। অন্যদিকে বিরোধীরা বলছে, তারা ভোটার তালিকা সংশোধনের বিরোধী নয়; বরং সেই প্রক্রিয়ায় কোনও যোগ্য নাগরিকের নাম যাতে বাদ না যায়, তা নিশ্চিত করতে চাইছে।

ফলে SIR নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক এখন আর শুধু নির্বাচন কমিশনের প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। তা দেশের গণতন্ত্র, ভোটাধিকার এবং নির্বাচন ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে জাতীয় রাজনৈতিক বিতর্কের রূপ নিয়েছে।

আন্দোলন কি আরও বড় রাজনৈতিক রূপ নেবে?

রামলীলা ময়দানের এই মিছিলের তাৎপর্য শুধু দিল্লির রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ নয়। INDIA জোটের নেতারা এই কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভোটাধিকার রক্ষার আন্দোলনকে আরও জোরদার করার বার্তা দিতে চাইছেন। বিরোধীদের দাবি, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের সমাধান না হলে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

সব মিলিয়ে, SIR বাতিল এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রামলীলা ময়দান অভিমুখে বিরোধীদের এই মিছিল জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। একদিকে বিরোধীরা ভোটাধিকার রক্ষার প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি বিরোধীদের অভিযোগের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করছে। এই রাজনৈতিক সংঘাতের শেষ পর্যন্ত কী পরিণতি হয়, এখন সেদিকেই নজর দেশের রাজনৈতিক মহলের।