Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে বিনোদন সম্পাদকীয় কলম
BREAKING NEWS
পোস্টার প্রিন্টের শাড়িতে নজর কাড়লেন ঋতুপর্ণা, ‘স্টার লাইট অনন্য সম্মান ২০২৬’-এর মঞ্চে অভিনব সাজে অভিনেত্রী   •   হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে প্রতিদিনের পাতে রাখুন ৬ ধরনের খাবার, পরামর্শ হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের   •   আপনি একটানা কয়টি পুশ-আপ করতে পারেন? মেল রবিন্সের পডকাস্ট ঘিরে ভাইরাল ‘১১ পুশ-আপ চ্যালেঞ্জ’   •   SIR বাতিল ও জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে দিল্লির রামলীলা ময়দান অভিমুখে বিরোধীদের মিছিল   •   বাংলায় ফের SIR-এর দাবি শমীক ভট্টাচার্যের, ‘অসম্পূর্ণ থেকে গিয়েছে আগের প্রক্রিয়া’   •   শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ফখর জামানের দুর্দান্ত ১২তম ওডিআই শতরান, ৩২৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ত্রিদেশীয় সিরিজ চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান

শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ফখর জামানের দুর্দান্ত ১২তম ওডিআই শতরান, ৩২৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ত্রিদেশীয় সিরিজ চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান

01 Nov 2026
07:29 AM


নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: লাহোরে ব্যাট হাতে ঝড় তুললেন ফখর জামান। তাঁর অসাধারণ ১২৭ রানের ইনিংসের পাশাপাশি সাদ বেগ ও আরাফাত মিনহাসের গুরুত্বপূর্ণ অর্ধশতরানে শ্রীলঙ্কাকে ৩ উইকেটে হারিয়ে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের শিরোপা জিতল পাকিস্তান।

লাহোরের গদ্দাফি স্টেডিয়ামে শনিবার, ৩১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের ফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে দুরন্ত পারফরম্যান্স করলেন পাকিস্তানের বাঁহাতি ওপেনার ফখর জামান। তাঁর অসাধারণ ১২৭ রানের ইনিংসের সুবাদে ৩২৬ রানের কঠিন লক্ষ্য তাড়া করে ৩ উইকেটে জয় তুলে নিল পাকিস্তান। এই জয়ের সঙ্গে দীর্ঘ ১৮ বছর পর ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা ঘরে তুলল তারা।

ফখর জামানের ৯৯ বলের ইনিংসে ছিল ১১টি চার ও ৬টি ছক্কা। এটি তাঁর আন্তর্জাতিক একদিনের ক্রিকেটে দ্বাদশ শতরান। ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দায়িত্ব নিয়ে ব্যাট করে তিনি পাকিস্তানকে জয়ের পথে ফিরিয়ে আনেন। তাঁর এই ইনিংসের জন্য ম্যাচের সেরার পুরস্কারও পান তিনি।

শুরুতেই ধাক্কা, সেখান থেকে ফখরের প্রত্যাবর্তন

৩২৬ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তানের শুরুটা মোটেই ভালো হয়নি। নতুন বলে দুর্দান্ত বোলিং করেন শ্রীলঙ্কার দিলশান মাদুশঙ্কা। দ্রুত ফিরে যান মাজ সাদাকাত এবং বাবর আজম। মাত্র ১৪ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় পাকিস্তান।

এই কঠিন পরিস্থিতিতে ক্রিজে এসে ইনিংসের হাল ধরেন ফখর জামান। তাঁর সঙ্গে যোগ দেন তরুণ ব্যাটার সাদ বেগ। দু’জনে ধৈর্য ও আক্রমণের সুন্দর সমন্বয় ঘটিয়ে শ্রীলঙ্কার বোলারদের উপর পাল্টা চাপ তৈরি করেন। তৃতীয় উইকেটে তাঁদের ১৪৯ রানের জুটি পাকিস্তানকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনে।

সাদ বেগ ৭৫ বলে ৭৪ রান করেন। তাঁর ইনিংসে ছিল ১১টি চার। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের প্রথম ওয়ানডে অর্ধশতরান তুলে নিয়ে তিনি প্রমাণ করেন, বড় ম্যাচের চাপ সামলানোর ক্ষমতা তাঁর রয়েছে।

৮৪ বলে শতরান, ফখরের ব্যাটে রানের ঝড়

সাদ বেগের সঙ্গে জুটি গড়ার পর ফখর জামান ধীরে ধীরে নিজের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে আসেন। শুরুতে উইকেট ধরে রেখে খেললেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শ্রীলঙ্কার বোলারদের উপর আক্রমণ বাড়াতে থাকেন তিনি। বিশেষ করে লেগ সাইডে তাঁর পুল ও সুইপ শট ছিল অত্যন্ত কার্যকর।

৮৪ বল খেলে শতরান পূর্ণ করেন ফখর। তাঁর এই মাইলফলক ছোঁয়ার পর গদ্দাফি স্টেডিয়ামের দর্শকদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। শতরান করার পরও তিনি থেমে থাকেননি। দলকে জয়ের আরও কাছে নিয়ে যেতে বড় শট খেলতে থাকেন।

শেষ পর্যন্ত ৯৯ বলে ১২৭ রান করে দিলশান মাদুশঙ্কার বলে বোল্ড হন তিনি। ফখরের বিদায়ের সময় পাকিস্তানের জয়ের জন্য তখনও বেশ কিছু রান বাকি ছিল। তবে তাঁর ইনিংস ততক্ষণে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।

আরাফাত মিনহাসের ঝোড়ো ইনিংসে নিশ্চিত জয়

ফখর জামান ও সাদ বেগের জুটি পাকিস্তানকে লড়াইয়ে ফেরালেও শেষ দিকে আবার কিছুটা চাপ তৈরি হয়। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট হারিয়ে জয়ের পথ কঠিন হয়ে উঠতে পারত পাকিস্তানের জন্য।

সেই পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নেন তরুণ আরাফাত মিনহাস। হাসান নওয়াজকে সঙ্গে নিয়ে তিনি দুর্দান্ত ব্যাটিং করেন। ষষ্ঠ উইকেটে তাঁদের ৯৪ রানের জুটি পাকিস্তানের জয়ের ভিত শক্ত করে দেয়।

মাত্র ৩১ বলে ৬১ রান করেন আরাফাত। তাঁর আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শ্রীলঙ্কার বোলারদের ছন্দ নষ্ট করে দেয়। হাসান নওয়াজ ৪৫ বলে অপরাজিত ৩৭ রান করে তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দেন। শেষ দিকে কিছুটা নাটকীয়তা তৈরি হলেও অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদির ছক্কায় জয় নিশ্চিত হয় পাকিস্তানের।

শেষ পর্যন্ত ৪৮.৩ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ৩৩১ রান তুলে নেয় পাকিস্তান। ৯ বল হাতে রেখে ৩ উইকেটে জয় পায় তারা।

কামিন্দু মেন্ডিসের শতরানেও বড় স্কোর শ্রীলঙ্কার

এর আগে টসের পর প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শ্রীলঙ্কা ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ৩২৫ রান তোলে। দলের হয়ে অসাধারণ ব্যাটিং করেন কামিন্দু মেন্ডিস। ১২৮ বলে ১৩১ রান করে তিনি নিজের প্রথম ওয়ানডে শতরান পূর্ণ করেন। তাঁর ইনিংসে ছিল ১২টি চার ও ২টি ছক্কা।

তাঁকে ভালো সঙ্গ দেন পাভান রথনায়েকে। ৬৫ বলে ৭৭ রান করেন তিনি। কামিন্দু ও রথনায়েকে তৃতীয় উইকেটে ১৪৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন। তাঁদের ব্যাটিংয়ে একসময় মনে হচ্ছিল শ্রীলঙ্কা ৩৫০ রানের কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারে।

তবে শেষ ১০ ওভারে পাকিস্তানের বোলাররা ঘুরে দাঁড়ান। শ্রীলঙ্কা শেষ ১০ ওভারে ৮৭ রান তুললেও হারায় ৬টি উইকেট। শাহিন শাহ আফ্রিদি, হারিস রউফ ও নাসিম শাহ প্রত্যেকেই দুটি করে উইকেট নেন। ফলে বড় স্কোরের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও ৩২৫ রানেই থামতে হয় শ্রীলঙ্কাকে।

ফখরের শতরানে একাধিক কৃতিত্ব

এই ম্যাচে ফখর জামানের ১২তম ওয়ানডে শতরান শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, পাকিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসেও বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। ৩০০-র বেশি রান তাড়া করতে নেমে এটি তাঁর চতুর্থ শতরান। পাশাপাশি ওয়ানডে ফাইনালে দুটি শতরান করা দ্বিতীয় পাকিস্তানি ব্যাটার হলেন তিনি। এর আগে এই কৃতিত্ব ছিল সইদ আনোয়ারের।

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ৩২৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জয়টি পাকিস্তানের ওয়ানডে ইতিহাসে ষষ্ঠ সর্বোচ্চ সফল রান তাড়া। একই সঙ্গে এটি ওয়ানডে ফাইনালে যৌথভাবে সর্বোচ্চ সফল রান তাড়া করার নজির।

১৮ বছর পর ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা পাকিস্তানের

এই জয়ের ফলে ২০০৮ সালের পর আবারও ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজের চ্যাম্পিয়ন হল পাকিস্তান। ঘরের মাঠে দর্শকদের সামনে এমন জয় নিঃসন্দেহে দলের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। পুরো টুর্নামেন্টে পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও ইংল্যান্ডের মধ্যে লড়াই ছিল জমজমাট। তবে ফাইনালে ফখর জামান ও আরাফাত মিনহাসের ব্যাটিং পাকিস্তানকে শিরোপা এনে দিল।

অন্যদিকে শ্রীলঙ্কার জন্য এই হার হতাশার হলেও কামিন্দু মেন্ডিসের শতরান এবং পাভান রথনায়েকের ব্যাটিং দলের ইতিবাচক দিক। তবে বড় রান করেও ম্যাচ জিততে না পারার কারণ হিসেবে ফিল্ডিংয়ের ভুল এবং শেষ দিকে বোলিংয়ের নিয়ন্ত্রণ হারানোকে গুরুত্ব দিতে হবে।

সব মিলিয়ে লাহোরের ফাইনাল হয়ে থাকল ফখর জামানের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের ম্যাচ। সাম্প্রতিক ইনিংসগুলিতে বড় রান না পাওয়ার পর এমন গুরুত্বপূর্ণ ফাইনালে ১২৭ রানের ইনিংস খেলে তিনি বুঝিয়ে দিলেন, বড় মঞ্চে জ্বলে ওঠার ক্ষমতা এখনও তাঁর রয়েছে। তাঁর ব্যাটিং, সাদ বেগের দায়িত্বশীল সঙ্গ এবং আরাফাত মিনহাসের ঝোড়ো ফিনিশিং—এই তিনের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হল পাকিস্তান।