Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে বিনোদন সম্পাদকীয় কলম
BREAKING NEWS
যোগী আদিত্যনাথের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ তিন বিধায়কের, লখনউতে উন্নয়ন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা   •   ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে দুর্যোগ! রাতভর ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পাকা ধান নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষকরা   •   কামারপুকুরে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের হানা! মহকুমা শাসকের নেতৃত্বে অভিযানে চাঞ্চল্য, ভেজাল রঙের সন্দেহে ফেলে দেওয়া হল বিরিয়ানি   •   চোখের পাতা কাঁপছে, পেশিতে টান ধরছে? ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি হতে পারে কারণ, জানুন কী খাবেন   •   বয়স বাড়লেও পেশি থাকবে শক্তিশালী! হুই প্রোটিনের সঙ্গে রেজিস্ট্যান্স ট্রেনিং হতে পারে কার্যকর উপায়   •   ক্ষমতার ঘনিষ্ঠতার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা! সাধারণ মানুষকে সতর্ক করলেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ

ক্ষমতার ঘনিষ্ঠতার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা! সাধারণ মানুষকে সতর্ক করলেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ

29 Oct 2026
10:36 AM


নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: চাকরি কিংবা সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে আর্থিক প্রতারণার ফাঁদে পা না দেওয়ার বার্তা। ক্ষমতার কাছাকাছি থাকার আকাঙ্ক্ষাকে কাজে লাগিয়ে সাধারণ মানুষের সরলতার সুযোগ নেয় এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তি। কাউকে অন্ধভাবে বিশ্বাস না করে সচেতন হওয়ার পরামর্শ পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের।ক্ষমতার কাছাকাছি থাকার আকাঙ্ক্ষা মানুষের মধ্যে নতুন নয়। রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ—বিভিন্ন সময়ে অনেকেই প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে নিজেদের কাজ হাসিল করতে চান। আর মানুষের এই মনোভাবকেই কাজে লাগিয়ে প্রতারণার জাল বিস্তার করে এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তি। কখনও চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি, কখনও সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার আশ্বাস, আবার কখনও প্রভাবশালী মহলে পরিচয় থাকার দাবি—বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ সামনে আসে। এই পরিস্থিতিতে মানুষকে আরও সতর্ক ও সচেতন হওয়ার বার্তা দিয়েছেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।

মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের বক্তব্যের মূল সুর, কারও সঙ্গে ক্ষমতাসীন মহলের যোগাযোগ রয়েছে বলেই তাঁর প্রতিটি দাবি বিশ্বাস করা উচিত নয়। বিশেষ করে চাকরি বা অন্য কোনও সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে কেউ টাকা চাইলে, সেই প্রস্তাবের সত্যতা যাচাই করা জরুরি। আবেগের বশে কিংবা দ্রুত নিজের কাজ সম্পন্ন করার আশায় কাউকে টাকা দিয়ে দিলে পরে প্রতারণার শিকার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিষয়টি ভালোভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

ক্ষমতার কাছাকাছি থাকার আকাঙ্ক্ষাকে হাতিয়ার করে প্রতারণা

সমাজে এমন অনেক মানুষ রয়েছেন, যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে চাকরির অপেক্ষায় থাকেন। কেউ পরিবারের আর্থিক অনটন কাটাতে কাজ খোঁজেন, কেউ আবার সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার আশায় বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করেন। এই পরিস্থিতিতে কেউ যদি নিজেকে প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিয়ে কাজ করে দেওয়ার আশ্বাস দেন, তাহলে অনেকেই তাঁর কথায় বিশ্বাস করে ফেলেন।

প্রতারকরা অনেক সময় নিজেদের রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি কিংবা প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ বলে দাবি করেন। তাঁদের বক্তব্য, নির্দিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ থাকায় সহজেই চাকরি বা অন্য সুবিধা পাইয়ে দেওয়া সম্ভব। কখনও আবার বলা হয়, নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দিলেই দ্রুত কাজ হয়ে যাবে। কিন্তু প্রতিশ্রুতির আড়ালে প্রতারণার ফাঁদ লুকিয়ে থাকতে পারে।

বিশেষ করে বেকার যুবক-যুবতী এবং আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারগুলি এ ধরনের প্রলোভনের কারণে সমস্যায় পড়তে পারেন। চাকরির আশায় নিজেদের সঞ্চিত অর্থ তুলে দেওয়া কিংবা ধার করে টাকা দেওয়ার পর প্রতিশ্রুতি পূরণ না হলে তাঁদের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি মানসিক চাপও তৈরি হয়। অনেক ক্ষেত্রে প্রতারিত হওয়ার পর কোথায় অভিযোগ জানাতে হবে, তা নিয়েও সংশয়ে থাকেন ভুক্তভোগীরা।

চাকরির প্রলোভন, আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা

চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে আর্থিক লেনদেনের প্রতিশ্রুতি বিশেষভাবে উদ্বেগের বিষয়। সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে নিয়োগের নির্দিষ্ট নিয়ম ও প্রক্রিয়া রয়েছে। সেই প্রক্রিয়া এড়িয়ে ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে চাকরি নিশ্চিত করে দেওয়ার দাবি সন্দেহের চোখে দেখা উচিত।

কেউ যদি বলেন, টাকা দিলেই চাকরি নিশ্চিত, পরীক্ষায় বসার প্রয়োজন নেই কিংবা নির্দিষ্ট ব্যক্তির সুপারিশে নিয়োগ হয়ে যাবে, তাহলে তাড়াহুড়ো করে বিশ্বাস করা উচিত নয়। নিয়োগ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি, যোগ্যতার শর্ত, আবেদনপদ্ধতি এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সরকারি নির্দেশিকা যাচাই করা প্রয়োজন। শুধু পরিচয় বা প্রভাবের দাবি শুনে কোনও আর্থিক লেনদেন করা বিপজ্জনক হতে পারে।

একইভাবে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা, ভাতা, আবাসন বা অন্য কোনও পরিষেবা পাইয়ে দেওয়ার নাম করেও কেউ টাকা চাইলে সতর্ক থাকা দরকার। সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের সরকারি নিয়ম এবং অনুমোদিত প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করাই নিরাপদ পথ।

অন্ধবিশ্বাস নয়, তথ্য যাচাই করাই প্রধান উপায়

মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের বার্তার কেন্দ্রে রয়েছে ব্যক্তিগত সচেতনতা। কাউকে বিশ্বাস করার আগে তাঁর পরিচয়, দাবি এবং উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। কেউ প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম ব্যবহার করছেন বলেই তাঁর বক্তব্য সত্যি হয়ে যায় না। আবার কোনও জনপ্রতিনিধি বা রাজনৈতিক ব্যক্তির সঙ্গে ছবি দেখালেও তা দিয়ে চাকরি বা সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার ক্ষমতা প্রমাণিত হয় না।

কোনও ব্যক্তি টাকা চাইলে কেন টাকা প্রয়োজন, তার লিখিত প্রমাণ কী এবং সংশ্লিষ্ট পরিষেবা পাওয়ার সরকারি নিয়ম কী—এসব প্রশ্নের উত্তর জানা জরুরি। মৌখিক আশ্বাসের ভিত্তিতে বড় অঙ্কের টাকা দেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত। সম্ভব হলে কথোপকথন, বার্তা, লেনদেনের রসিদ এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথি সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।

প্রতারণার শিকার হলে লজ্জা বা ভয়ের কারণে চুপ করে না থেকে সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ জানানো উচিত। অনলাইন বা ডিজিটাল মাধ্যমে আর্থিক প্রতারণা হলে দ্রুত ব্যাঙ্কের সঙ্গে যোগাযোগ করে লেনদেনের বিষয়ে জানানো এবং ভারতের সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত সরকারি ব্যবস্থায় অভিযোগ জানানোর পদক্ষেপ করা যেতে পারে।

সাধারণ মানুষের সচেতনতাই প্রতিরোধের প্রথম ধাপ

প্রতারণা রুখতে শুধু প্রশাসনিক পদক্ষেপই যথেষ্ট নয়; সাধারণ মানুষের সচেতনতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারের সদস্যদের, বিশেষ করে চাকরিপ্রার্থী তরুণ-তরুণীদের, এ ধরনের প্রতারণার কৌশল সম্পর্কে সচেতন করা প্রয়োজন। পরিচিত কেউ কোনও প্রলোভন দেখালেও যাচাই না করে টাকা দেওয়া উচিত নয়।

সমাজে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার আকাঙ্ক্ষা থাকতেই পারে। কিন্তু সেই আকাঙ্ক্ষা যেন কারও প্রতারণার হাতিয়ার না হয়ে ওঠে। বাস্তব পরিস্থিতি যাচাই না করে সিদ্ধান্ত নিলে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি ভবিষ্যতের পরিকল্পনাও ভেস্তে যেতে পারে।

সতর্ক থাকুন, প্রতারণার ফাঁদ এড়িয়ে চলুন

ক্ষমতার কাছাকাছি থাকার প্রতিশ্রুতি, চাকরি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস কিংবা দ্রুত সরকারি সুবিধা পাওয়ার প্রলোভন—কোনও কিছুই যাচাই ছাড়া বিশ্বাস করা উচিত নয়। নিজের প্রয়োজন ও অসহায়তার সুযোগ যাতে কেউ নিতে না পারেন, তার জন্য সচেতন থাকা জরুরি।

দিলীপ ঘোষের বার্তার তাৎপর্য এখানেই—কাউকে অন্ধভাবে বিশ্বাস না করে প্রতিটি দাবির সত্যতা যাচাই করতে হবে। নিজের সুরক্ষার দায়িত্ব নিজেরও রয়েছে। প্রলোভনে পা না দিয়ে, সরকারি নিয়ম মেনে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করে এগোলেই প্রতারণার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।