Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে বিনোদন সম্পাদকীয় কলম
BREAKING NEWS
চোখের পাতা কাঁপছে, পেশিতে টান ধরছে? ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি হতে পারে কারণ, জানুন কী খাবেন   •   বয়স বাড়লেও পেশি থাকবে শক্তিশালী! হুই প্রোটিনের সঙ্গে রেজিস্ট্যান্স ট্রেনিং হতে পারে কার্যকর উপায়   •   ক্ষমতার ঘনিষ্ঠতার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা! সাধারণ মানুষকে সতর্ক করলেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ   •   নিউজিল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশ করার লক্ষ্যে ভারত, তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে রেকর্ড গড়ে সিরিজ জয় নিশ্চিত   •   WTC27 সিরিজের নির্ণায়ক ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে এগিয়ে অস্ট্রেলিয়া, জশ ইংলিসের দুর্দান্ত টেস্ট শতরানে শক্তিশালী লড়াই   •   ছট পুজোর আগে কলকাতার বিভিন্ন ঘাট পরিদর্শন অগ্নিমিত্রা পালের, চোরবাগানের দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রুখতে বাড়তি সতর্কতার নির্দেশ

নিউজিল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশ করার লক্ষ্যে ভারত, তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে রেকর্ড গড়ে সিরিজ জয় নিশ্চিত

29 Oct 2026
10:23 AM


নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: নিউজিল্যান্ডের মাটিতে দাপট অব্যাহত ভারতীয় ক্রিকেট দলের। পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম তিনটি ম্যাচেই জয় তুলে নিয়ে ইতিমধ্যেই সিরিজ নিজেদের দখলে নিয়েছে ভারত। মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ওয়েলিংটনে তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ছয় উইকেটে হারিয়ে সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছে টিম ইন্ডিয়া। সিরিজের ট্রফি নিশ্চিত হলেও ভারতীয় দলের সামনে এখন আরও বড় লক্ষ্য—বাকি দুই ম্যাচেও জয় তুলে নিয়ে কিউয়িদের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ হোয়াইটওয়াশ করা। আইসিসির ম্যাচ রিপোর্ট অনুযায়ী, আগামী ৩০ অক্টোবর অকল্যান্ডে হবে চতুর্থ টি-টোয়েন্টি। এরপর ১ নভেম্বর হ্যামিল্টনে আয়োজিত হবে সিরিজের শেষ ম্যাচ।

অভিষেক শর্মার বিধ্বংসী শতরানে উড়ে গেল নিউজিল্যান্ড

তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে ভারতীয় ব্যাটিংয়ের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিলেন অভিষেক শর্মা। নিউজিল্যান্ডের দেওয়া ১৯৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে কার্যত ঝড় তোলেন এই বাঁহাতি ওপেনার। মাত্র ৩৮ বলে ১১৩ রানের অপরাজিত নয়, বরং আক্রমণাত্মক ইনিংস খেলে তিনি ভারতকে জয়ের পথে এগিয়ে দেন। তাঁর ইনিংসে ছিল একের পর এক চার ও ছক্কার বৃষ্টি। মাত্র ৩৫ বলে শতরান পূর্ণ করে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নিজের বিধ্বংসী ব্যাটিং দক্ষতার আরও একবার প্রমাণ দেন অভিষেক।

তাঁকে যোগ্য সঙ্গত দেন তরুণ ওপেনার বৈভব সূর্যবংশী। মাত্র ১৯ বলে ৪৫ রান করে নিউজিল্যান্ডের বোলারদের উপর চাপ তৈরি করেন তিনি। দুই ওপেনারের দাপটে পাওয়ার প্লের প্রথম ছয় ওভারেই ভারত তুলে নেয় ১১৮ রান। পূর্ণ সদস্য দেশের পুরুষদের টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এটি পাওয়ার প্লেতে সর্বোচ্চ রানের নজির। দুই ওপেনারের জুটিতে মাত্র ৪৩ বলে ওঠে ১৩৩ রান। ফলে শুরুতেই ম্যাচ থেকে অনেকটা ছিটকে যায় নিউজিল্যান্ড।

১৯৯ রানের লক্ষ্যও হয়ে গেল সহজ

এর আগে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৯৮ রান তোলে নিউজিল্যান্ড। দলের হয়ে ড্যারিল মিচেল ৫২ বলে অপরাজিত ৮৯ রান করেন। তাঁর ইনিংসে ছিল পাঁচটি চার ও পাঁচটি ছক্কা। ফিন অ্যালেন করেন ২৫ বলে ৪০ রান, অন্যদিকে বেভন জ্যাকবস ২৩ বলে অপরাজিত ৩৯ রান করে দলের স্কোরকে লড়াই করার মতো জায়গায় নিয়ে যান।

ভারতের হয়ে বোলিংয়ে উইকেট পান অর্শদীপ সিং, নীতীশ কুমার রেড্ডি ও অক্ষর প্যাটেল। তবে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটারদের শেষ দিকের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ভারতীয় বোলারদের সামনে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছিল। সেই চ্যালেঞ্জের জবাব ব্যাট হাতে দেন অভিষেক ও বৈভব। তাঁদের ঝোড়ো শুরুতে ১৯৯ রানের লক্ষ্যও কার্যত ছোট হয়ে যায়।

ভারত মাত্র ১৩.২ ওভারেই ৪ উইকেট হারিয়ে ১৯৯ রান তুলে ম্যাচ জিতে নেয়। অর্থাৎ হাতে ছিল ৪০ বল এবং ছয় উইকেট। এত বড় লক্ষ্য এত কম সময়ে তাড়া করে জয় ভারতের ব্যাটিং শক্তিরই পরিচয় দিয়েছে।

প্রথম দুই ম্যাচেও ভারতের জয়

সিরিজের প্রথম ম্যাচে ২২ অক্টোবর ক্রাইস্টচার্চে নিউজিল্যান্ডকে চার উইকেটে হারিয়ে অভিযান শুরু করেছিল ভারত। এরপর ২৪ অক্টোবর দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতেও চার উইকেটে জয় তুলে নেয় সূর্যকুমার যাদবের দল। তৃতীয় ম্যাচে ছয় উইকেটের জয়ের ফলে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে ভারত।

প্রথম তিন ম্যাচের ফলাফল বলছে, ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি চাপের মুহূর্ত সামলানোর ক্ষেত্রেও ভারতীয় দল ধারাবাহিকতা দেখিয়েছে। যদিও প্রতিটি ম্যাচেই দলের কিছু জায়গায় উন্নতির সুযোগ রয়েছে, তবু সামগ্রিক পারফরম্যান্সে ভারত অনেকটাই এগিয়ে।

বাকি দুই ম্যাচে নজর হোয়াইটওয়াশে

সিরিজ জয়ের পর ভারতের সামনে এখন নতুন চ্যালেঞ্জ। বাকি দুই ম্যাচ জিতে নিউজিল্যান্ডকে ৫-০ ব্যবধানে হারানো সম্ভব কি না, তা নিয়েই ক্রিকেটপ্রেমীদের আগ্রহ বাড়ছে। ৩০ অক্টোবর অকল্যান্ডে চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে মাঠে নামবে দুই দল। এরপর ১ নভেম্বর হ্যামিল্টনে হবে পঞ্চম ও শেষ ম্যাচ।

ভারতের কাছে এই দুই ম্যাচ গুরুত্বপূর্ণ দলের বেঞ্চের শক্তি যাচাই, খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং সিরিজ শেষ করার সুযোগ হিসেবে। তবে হোয়াইটওয়াশের লক্ষ্য পূরণ করতে হলে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বোলিং ও ফিল্ডিংয়েও ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে।

ঘুরে দাঁড়ানোর চাপে নিউজিল্যান্ড

অন্যদিকে, নিজেদের ঘরের মাঠে টানা তিনটি ম্যাচ হেরে চাপে রয়েছে নিউজিল্যান্ড। সিরিজে ফেরার সুযোগ না থাকলেও বাকি দুই ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে সম্মান রক্ষার লক্ষ্য থাকবে কিউয়ি দলের। বিশেষ করে ভারতের টপ অর্ডারের আক্রমণ সামলাতে বোলারদের নতুন পরিকল্পনা করতে হবে। অভিষেক শর্মা ও বৈভব সূর্যবংশীর মতো আক্রমণাত্মক ব্যাটারদের দ্রুত ফিরিয়ে দিতে না পারলে ভারতকে আটকানো কঠিন হতে পারে।

নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনারের দলের সামনে এখন বড় প্রশ্ন, কীভাবে ভারতীয় ব্যাটিংয়ের আগ্রাসন থামানো যায়। তৃতীয় ম্যাচে ১৯৮ রান করেও জয় না পাওয়ায় স্পষ্ট, শুধু বড় স্কোর করলেই হবে না—প্রতিপক্ষের রান তোলার গতি নিয়ন্ত্রণ করাও জরুরি।

আত্মবিশ্বাসী ভারত, অপেক্ষা হোয়াইটওয়াশের

ওয়েলিংটনের ম্যাচে ভারত যে ভাবে ১৯৯ রানের লক্ষ্যকে সহজ করে তুলেছে, তা দলের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়াবে। অভিষেকের শতরান, বৈভবের ঝোড়ো ব্যাটিং এবং পাওয়ার প্লেতে রেকর্ড রান—সব মিলিয়ে তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ভারতের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকল।

তবে সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও ভারতীয় দল নিশ্চয়ই আত্মতুষ্টিতে ভুগতে চাইবে না। শেষ দুই ম্যাচেও একই আগ্রাসন ও পরিকল্পনা বজায় রাখাই হবে লক্ষ্য। অন্যদিকে, নিউজিল্যান্ড চাইবে ঘরের মাঠে অন্তত একটি জয় তুলে নিয়ে সিরিজ শেষ করতে।

এখন নজর অকল্যান্ডের চতুর্থ টি-টোয়েন্টির দিকে। ভারত কি টানা চতুর্থ জয় তুলে নিয়ে হোয়াইটওয়াশের আরও কাছে পৌঁছবে, নাকি নিউজিল্যান্ড ঘুরে দাঁড়িয়ে সিরিজে প্রথম জয় পাবে? উত্তর মিলবে মাঠের লড়াইয়েই।