নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোসাবা বিধানসভা এলাকার মানুষের কাছে নদী পারাপার যেন প্রতিদিনের এক বড় পরীক্ষা। বিশেষ করে গদখালী এলাকার বাসিন্দাদের কাছে নদীর জল কমে যাওয়া, নদীর বুকে চর জেগে ওঠা এবং ভাটার সময় কাদার মধ্যে দিয়ে নৌকায় ওঠানামা করা এখন নিত্যদিনের যন্ত্রণা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জীবিকা, কাজকর্ম কিংবা দৈনন্দিন প্রয়োজনে নদী পারাপার করতে গিয়ে প্রতিদিনই নানা সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
রবিবার গোসাবার বিদ্যাধরী নদীতে নদীর চরে ধাক্কা লেগে যাত্রীবোঝাই নৌকা উল্টে যাওয়ার দুর্ঘটনা এই সমস্যাকে ফের সামনে নিয়ে এসেছে। নদীর বুকে চর জেগে ওঠার কারণে নৌকা চলাচলে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। আর সেই বাধা কখনও কখনও বিপদের কারণ হয়ে উঠছে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের। তাঁদের অভিযোগ, নদী পারাপারের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও পরিকাঠামোগত সমস্যার স্থায়ী সমাধান এখনও অধরা।
গদখালী এলাকার মানুষের প্রধান অভিযোগ, ভাটার সময় নদীতে জল অনেকটাই কমে যায়। ফলে নৌকা ঘাটের কাছে পৌঁছতে সমস্যা হয়। অনেক ক্ষেত্রে যাত্রীদের কাদা মাড়িয়ে নৌকায় উঠতে হয়। বয়স্ক মানুষ, মহিলা, শিশু এবং নিত্যযাত্রীদের কাছে এই পরিস্থিতি অত্যন্ত দুর্ভোগের।
নদীর বুকে চর জেগে ওঠায় নৌকা চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে। জল কমে গেলে নৌকা চরে আটকে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। ফলে স্বাভাবিক যাতায়াতের ক্ষেত্রেও বাড়তি ঝুঁকি নিতে হচ্ছে যাত্রীদের। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, নদী পারাপার তাঁদের কাছে কোনও বিলাসিতা নয়, বরং দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ। তাই এই সমস্যার দ্রুত সমাধান প্রয়োজন।
এই পরিস্থিতিতে গোসাবা বিধানসভার বিধায়ক বিকর্ণ নস্করের কাছে সমস্যার সমাধানের দাবি জানিয়েছেন গদখালী এলাকার মানুষ। তাঁদের বক্তব্য, রাজনৈতিক পালাবদলের পরও নদী পারাপারের দুর্ভোগ তাঁদের পিছু ছাড়েনি। ভোটের সময় মানুষের কাছে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, সেই প্রত্যাশা পূরণে এবার কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে চান তাঁরা।
স্থানীয়দের দাবি, নদীর চর ও ভাটার সময় পারাপারের সমস্যা খতিয়ে দেখে প্রশাসনকে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। যাতে সাধারণ মানুষ নিরাপদে নৌকায় ওঠানামা করতে পারেন এবং নদী পারাপারের সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা কমানো যায়।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং মহকুমার বিস্তীর্ণ নদীবেষ্টিত এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই বড় চ্যালেঞ্জ। বাসন্তী বিধানসভা এলাকার কিছু জায়গায় মাতলা নদীর শাখানদীর উপর সেতু নির্মাণের ফলে মানুষের যাতায়াত অনেকটাই সহজ হয়েছে। একসময় যে পথ পেরোতে নদী পারাপারের উপর নির্ভর করতে হতো, সেতু তৈরি হওয়ার পর সেই দুর্ভোগ অনেকটাই কমেছে।
কিন্তু গোসাবা বিধানসভা এলাকার ভৌগোলিক পরিস্থিতি আলাদা। বিস্তীর্ণ দ্বীপাঞ্চল, নদী-খাঁড়ি এবং জলপথের কারণে বহু জায়গায় এখনও দেশীয় নৌকাই যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। ফলে নদীর জলস্তর কমে যাওয়া কিংবা নদীর বুকে চর জেগে ওঠার মতো সমস্যা সরাসরি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলছে।
গদখালীর মানুষের প্রশ্ন, প্রতিদিনের এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি কবে মিলবে? নদীর চরে নৌকা আটকে যাওয়া কিংবা নৌকা উল্টে দুর্ঘটনার মতো ঘটনা এড়াতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নিয়েও উদ্বিগ্ন তাঁরা।
বাসিন্দাদের দাবি, পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখে নদী পারাপারের উপযুক্ত ব্যবস্থা করতে হবে। কোথায় সেতু নির্মাণ সম্ভব, কোথায় নিরাপদ ঘাট তৈরি করা প্রয়োজন এবং কোথায় নৌকা চলাচলের উপযোগী ব্যবস্থা দরকার—তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিবেচনা করা উচিত।
গোসাবার মানুষের কাছে নদী শুধু জলপথ নয়, জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক অপরিহার্য যোগাযোগের মাধ্যম। অথচ সেই নদীই কখনও কখনও তাঁদের কাছে দুর্ভোগ ও বিপদের কারণ হয়ে উঠছে। তাই গদখালীসহ গোসাবার নদীবেষ্টিত এলাকার মানুষের আর্তি—নদী পারাপারের সমস্যার স্থায়ী সমাধানে এবার দ্রুত পদক্ষেপ করা হোক।
এখন দেখার, সাধারণ মানুষের এই দাবি ও দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের কথা মাথায় রেখে বিধায়ক বিকর্ণ নস্কর এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কী পদক্ষেপ করেন। নদীর চর ও ভাটার সমস্যার সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ কবে নেওয়া হবে, সেই অপেক্ষাতেই রয়েছেন গদখালী এলাকার বাসিন্দারা।