নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং বাজারে বিক্রি হওয়া খাবারের গুণমান বজায় রাখতে নিয়ামতপুর বাজারে যৌথ অভিযান চালাল ফুড সেফটি দফতর ও পুলিশ। শনিবার আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ এবং নিয়ামতপুর ফাঁড়ির পুলিশের সহযোগিতায় এই অভিযান চালানো হয়। বাজার এলাকার একাধিক মিষ্টির দোকান, বিরিয়ানির দোকান, ফুচকার দোকান-সহ বিভিন্ন খাবারের দোকানে পরিদর্শন করেন অভিযানে অংশ নেওয়া আধিকারিকরা।
অভিযান চলাকালীন দোকানগুলির খাদ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত নথিপত্র পরীক্ষা করার পাশাপাশি খাবার তৈরিতে ব্যবহৃত মশলা, রং এবং অন্যান্য উপকরণের গুণমান খতিয়ে দেখা হয়। অভিযানের সময় বিভিন্ন দোকানে থাকা মেয়াদ উত্তীর্ণ মশলা ও অন্যান্য খাদ্যদ্রব্য ফেলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি, রং মেশানো ফুচকার দোকানের ঘুগনি এবং বিরিয়ানির দোকানে থাকা বিরিয়ানিও সরিয়ে ফেলে দেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে।
নিয়ামতপুর বাজারে প্রতিদিন বহু মানুষ বিভিন্ন দোকান থেকে খাবার কেনেন। মিষ্টি, বিরিয়ানি, ফুচকা ও ঘুগনির মতো জনপ্রিয় খাবারের চাহিদা থাকায় দোকানগুলিতে খাদ্য সুরক্ষা বিধি মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খাবার তৈরির সময় ব্যবহৃত উপকরণ সঠিক মানের কি না, সেগুলির মেয়াদ রয়েছে কি না এবং খাবারে ব্যবহৃত রং অনুমোদিত কি না—এই বিষয়গুলির উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় অভিযানে।
খাদ্যদ্রব্যে মেয়াদ উত্তীর্ণ মশলা বা অনুপযুক্ত রং ব্যবহার করা হলে তা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে খাবারে ব্যবহৃত রং ও অন্যান্য উপাদানের গুণমান নিয়ে অসতর্কতা থাকলে ক্রেতাদের স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সেই কারণে খাবার তৈরির উপকরণ পরীক্ষা এবং খাদ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত বিধি মেনে ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।
অভিযানের সময় বিভিন্ন খাবারের দোকানে ফুড সেফটি লাইসেন্স-সহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র পরীক্ষা করা হয়। দোকানগুলিতে বৈধ লাইসেন্স রয়েছে কি না এবং খাদ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত নিয়ম মেনে ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে কি না, সে বিষয়েও নজর দেন আধিকারিকরা।
খাদ্য ব্যবসার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও বিধি মেনে চলার পাশাপাশি খাবার সংরক্ষণ, প্রস্তুতি এবং পরিবেশনের সময় পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দোকানে ব্যবহৃত মশলা ও অন্যান্য খাদ্য উপকরণের মেয়াদ এবং গুণমানের দিকে নজর রাখা ব্যবসায়ীদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।
অভিযানের সময় মেয়াদ উত্তীর্ণ মশলা ও অন্যান্য খাদ্যদ্রব্য ফেলে দেওয়ার পাশাপাশি রং দেওয়া ঘুগনি এবং বিরিয়ানিও সরিয়ে ফেলে দেওয়া হয়। এর ফলে বাজারে খাবারের গুণমান এবং খাদ্য সুরক্ষা বিধি কার্যকর করার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
সাধারণত বাজারে খাবার কেনার সময় ক্রেতারা খাবারের স্বাদ ও দামকে গুরুত্ব দিলেও তার প্রস্তুতপ্রণালী, ব্যবহৃত উপকরণ এবং পরিচ্ছন্নতার বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষত রাস্তার ধারের খাবারের দোকানগুলিতে খাবার তৈরি ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।
নিয়ামতপুর বাজারে ফুড সেফটি দফতর ও পুলিশের এই যৌথ অভিযান খাদ্য সুরক্ষার গুরুত্বকে সামনে নিয়ে এসেছে। বাজারে বিক্রি হওয়া খাবার যাতে নিরাপদ হয় এবং ক্রেতারা যাতে স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যদ্রব্য পান, তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সচেতন মহলের একাংশ।
তবে এই অভিযানে মোট কতগুলি দোকান পরিদর্শন করা হয়েছে, কত পরিমাণ মেয়াদ উত্তীর্ণ খাদ্যদ্রব্য ফেলে দেওয়া হয়েছে এবং কোনও দোকানের বিরুদ্ধে পৃথকভাবে আইনি পদক্ষেপ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও জানা যায়নি।
খাদ্য সুরক্ষা বিধি মেনে ব্যবসা পরিচালনা করা যেমন দোকানদারদের দায়িত্ব, তেমনই বাজারে বিক্রি হওয়া খাবারের গুণমান যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ কাজ। নিয়ামতপুর বাজারের এই অভিযান সেই নজরদারিরই একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ।