Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে বিনোদন সম্পাদকীয় কলম
BREAKING NEWS
বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা! নবমীতে মনোরম আবহাওয়া, আগামী ১০ দিনে বাড়তে পারে ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা   •   পুজোর আনন্দে যখন মেতে বাংলা, তখনও জঙ্গলের পাহারায় তাঁরা! অস্থায়ী বনকর্মীদের ত্যাগকে কুর্নিশ জানাল জেলার বার্তা   •   উনিশটি মৃত্যুর দায় কি শুধুই এক ঠিকা কর্মীর? বলির পাঁঠা নয়, চাই নিরপেক্ষ তদন্ত   •   হামলা ও হুমকির অভিযোগ উপেক্ষা করেই দক্ষিণ যাদবপুরে জনতার দরবারে সিপিআইএমের বুকস্টল চালু   •   ওজন কমাতে স্মুদি খাচ্ছেন? অজান্তেই করছেন না তো এই ভুলগুলি! প্রোটিন, ফাইবার ও চিনির পরিমাণে রাখুন নজর   •   ডুবো তেলে খাবার ভাজছেন? কোন তেল শরীরের জন্য তুলনামূলক ভালো, কোন ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি

পুজোর আনন্দে যখন মেতে বাংলা, তখনও জঙ্গলের পাহারায় তাঁরা! অস্থায়ী বনকর্মীদের ত্যাগকে কুর্নিশ জানাল জেলার বার্তা

20 Oct 2026
06:22 AM


নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: শহরে ঢাকের আওয়াজ, পাড়ায় পাড়ায় আলোর রোশনাই, নতুন পোশাকে মণ্ডপে মণ্ডপে মানুষের ভিড়। চারদিকে উৎসবের আনন্দে মেতে উঠেছে বাংলা। কিন্তু এই আনন্দের আবহেও এমন একদল মানুষ রয়েছেন, যাঁদের কপালে নেই পুজোর ছুটি, নেই পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর অবকাশ। তাঁদের কাছে উৎসবের দিনেও সবার আগে দায়িত্ব। গভীর অরণ্যে বন্যপ্রাণ রক্ষা এবং জঙ্গলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন বনদপ্তরের অস্থায়ী বনকর্মীরা।

দুর্গাপুজো মানেই বাঙালির কাছে আবেগ, আনন্দ, মিলন এবং পরিবারের সঙ্গে বিশেষ কিছু মুহূর্ত কাটানোর সময়। পুজোর দিনগুলিতে বহু মানুষ কর্মব্যস্ততা থেকে সাময়িক বিরতি নিয়ে উৎসবে শামিল হন। কিন্তু বনাঞ্চলের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বনকর্মীদের কাছে সেই চেনা ছবিটা অনেকটাই আলাদা। যখন শহর থেকে গ্রাম—সর্বত্র উৎসবের আবহ, তখনও জঙ্গলের পথে পথে চলছে তাঁদের পাহারা, টহল এবং নজরদারি।

পুজোর ছুটি নেই, দায়িত্বই তাঁদের কাছে পুজো

বনদপ্তরের ডি/এল (D/L) অস্থায়ী বনকর্মীদের কাজের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বনাঞ্চল এবং বন্যপ্রাণের নিরাপত্তা। উৎসবের দিনগুলিতেও তাঁদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি মেলে না। জঙ্গলের পরিস্থিতির উপর নজর রাখা, বন্যপ্রাণের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা এবং চোরাশিকার বা অন্যান্য অবৈধ কার্যকলাপ প্রতিরোধে সতর্ক থাকা তাঁদের কাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

পুজোর সময় যখন বহু পরিবার একসঙ্গে আনন্দে মেতে ওঠে, তখন এই বনকর্মীদের অনেককেই কাটাতে হয় জঙ্গলের মধ্যে, কখনও দীর্ঘ সময় ধরে টহল দিয়ে, কখনও নির্দিষ্ট এলাকায় নজরদারি চালিয়ে। পরিবারের সঙ্গে অঞ্জলি দেওয়া, নতুন পোশাক পরে ঘুরতে যাওয়া কিংবা প্রিয়জনদের সঙ্গে উৎসবের মুহূর্ত ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ অনেক সময় তাঁদের কাছে অধরাই থেকে যায়।

তবুও দায়িত্বের প্রশ্নে পিছিয়ে আসেন না তাঁরা। কারণ, তাঁদের সামান্য অসতর্কতাও কখনও কখনও বনাঞ্চলের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে।

বন্যপ্রাণের নিরাপত্তায় নিরলস পাহারা

বাংলার অরণ্য শুধু গাছপালা কিংবা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার নয়। এই অরণ্য বহু বন্যপ্রাণের বাসস্থান। হাতি, হরিণ, বাঘসহ বিভিন্ন স্তন্যপায়ী প্রাণী, অসংখ্য প্রজাতির পাখি এবং অন্যান্য জীবজন্তুর অস্তিত্ব নির্ভর করে বনাঞ্চলের নিরাপত্তা ও প্রাকৃতিক ভারসাম্যের উপর।

বনকর্মীদের নিয়মিত নজরদারি বনাঞ্চলে অবৈধ প্রবেশ, চোরাশিকার এবং বন্যপ্রাণের ক্ষতি করতে পারে এমন কার্যকলাপ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি বন্যপ্রাণের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে খবর দেওয়ার ক্ষেত্রেও তাঁদের ভূমিকা রয়েছে।

বিশেষত উৎসবের সময় মানুষের যাতায়াত ও বিভিন্ন এলাকার ব্যস্ততা বাড়লে বনাঞ্চলের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় অতিরিক্ত সতর্কতার প্রয়োজন হতে পারে। সেই পরিস্থিতিতে নিজেদের দায়িত্ব পালন করে চলেন বনকর্মীরা। তাঁদের এই পরিশ্রম অনেক সময় সাধারণ মানুষের চোখের আড়ালেই থেকে যায়।

নিজেদের আনন্দ সরিয়ে রেখে প্রকৃতির পাহারায়

একজন বনকর্মীর কাছে জঙ্গলের পাহারা শুধু চাকরির দায়িত্ব নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণ সংরক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য। গভীর অরণ্যে দীর্ঘ সময় কাটানো, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে কাজ করা এবং পরিবারের থেকে দূরে থাকা—সবকিছুর মধ্য দিয়েই তাঁদের কাজ চালিয়ে যেতে হয়।

যখন পুজোর মণ্ডপে ঢাক বাজে, তখন হয়তো কোনও বনকর্মী জঙ্গলের পথে টহল দিচ্ছেন। যখন কোনও পরিবার একসঙ্গে বসে উৎসবের খাবার খাচ্ছে, তখন হয়তো অন্য কোথাও কোনও বনকর্মী বন্যপ্রাণের নিরাপত্তায় নজর রাখছেন।

তাঁদের এই কাজের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে হলে উৎসবের বাইরের সেই বাস্তবতাকেও দেখতে হবে, যা আমাদের চোখের আড়ালে থেকে যায়। প্রকৃতিকে সুরক্ষিত রাখা কোনও একদিনের কাজ নয়। প্রতিদিনের সতর্কতা, দায়িত্ববোধ এবং পরিশ্রমের মধ্য দিয়েই এই কাজ এগিয়ে চলে।

অস্থায়ী বনকর্মীদের অবদানকে সম্মান জানানো জরুরি

বনাঞ্চল ও বন্যপ্রাণ সংরক্ষণে কর্মরত অস্থায়ী বনকর্মীদের কাজের স্বীকৃতি দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের দায়িত্বের পাশাপাশি কর্মপরিবেশ, নিরাপত্তা, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ এবং ন্যায্য সুযোগ-সুবিধার বিষয়গুলিও আলোচনায় থাকা দরকার।

উৎসবের দিনেও যাঁরা নিজেদের দায়িত্ব পালন করেন, তাঁদের অবদানকে শুধু প্রশংসার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তাঁদের কাজের গুরুত্ব বোঝা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করাও জরুরি। কারণ, বন ও বন্যপ্রাণ রক্ষার কাজে নিয়োজিত কর্মীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

এই প্রেক্ষাপটে West Bengal Forest D.L. Karmachari Association-এর পক্ষ থেকে রাজ্যের অস্থায়ী বনকর্মীদের শারদীয় শুভেচ্ছা ও সম্মান জানানোর উদ্যোগ বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। উৎসবের আনন্দের মাঝেও যাঁরা নিজেদের দায়িত্বকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন, তাঁদের প্রতি এই সম্মান কৃতজ্ঞতারই প্রকাশ।

জেলার বার্তার পক্ষ থেকে অরণ্যের নীরব রক্ষকদের কুর্নিশ

দুর্গাপুজোয় আমরা যখন আনন্দে মেতে উঠি, তখন আমাদের মনে রাখা উচিত—এই পৃথিবীকে সুন্দর ও সুরক্ষিত রাখার কাজে বহু মানুষ নীরবে নিজেদের দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বনদপ্তরের অস্থায়ী বনকর্মীরাও। তাঁদের কাজের খবর হয়তো প্রতিদিন সংবাদ শিরোনামে আসে না, কিন্তু প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণের নিরাপত্তায় তাঁদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তাঁদের পাহারায় সুরক্ষিত থাকুক অরণ্য, নিরাপদে বিচরণ করুক বন্যপ্রাণ, বজায় থাকুক প্রকৃতির ভারসাম্য। উৎসবের এই বিশেষ সময়ে তাঁদের কাজের প্রতি সম্মান জানানো আমাদের সকলের কর্তব্য।

জেলার বার্তার পক্ষ থেকে দুর্গাপুজোর আনন্দের মাঝেও কর্তব্যে অবিচল থাকা বনদপ্তরের সমস্ত অস্থায়ী বনকর্মীকে জানাই আন্তরিক কুর্নিশ ও শারদীয় শুভেচ্ছা।

আপনাদের নিষ্ঠা, পরিশ্রম ও দায়িত্ববোধের প্রতি রইল শ্রদ্ধা। আপনাদের কাজের মধ্য দিয়েই সুরক্ষিত থাকুক বাংলার সবুজ অরণ্য, বেঁচে থাকুক বন্যপ্রাণ, অটুট থাকুক প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক।

পুজোর আনন্দ সবার জন্য, কিন্তু সেই আনন্দের মাঝেও যাঁরা নীরবে নিজেদের কর্তব্য পালন করেন, তাঁরাই আমাদের সমাজের প্রকৃত সম্মানের দাবিদার। অরণ্যের এই নীরব রক্ষকদের প্রতি রইল জেলার বার্তার পক্ষ থেকে সশ্রদ্ধ প্রণাম।