Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে বিনোদন সম্পাদকীয় কলম
BREAKING NEWS
বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা! নবমীতে মনোরম আবহাওয়া, আগামী ১০ দিনে বাড়তে পারে ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা   •   পুজোর আনন্দে যখন মেতে বাংলা, তখনও জঙ্গলের পাহারায় তাঁরা! অস্থায়ী বনকর্মীদের ত্যাগকে কুর্নিশ জানাল জেলার বার্তা   •   উনিশটি মৃত্যুর দায় কি শুধুই এক ঠিকা কর্মীর? বলির পাঁঠা নয়, চাই নিরপেক্ষ তদন্ত   •   হামলা ও হুমকির অভিযোগ উপেক্ষা করেই দক্ষিণ যাদবপুরে জনতার দরবারে সিপিআইএমের বুকস্টল চালু   •   ওজন কমাতে স্মুদি খাচ্ছেন? অজান্তেই করছেন না তো এই ভুলগুলি! প্রোটিন, ফাইবার ও চিনির পরিমাণে রাখুন নজর   •   ডুবো তেলে খাবার ভাজছেন? কোন তেল শরীরের জন্য তুলনামূলক ভালো, কোন ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি

উনিশটি মৃত্যুর দায় কি শুধুই এক ঠিকা কর্মীর? বলির পাঁঠা নয়, চাই নিরপেক্ষ তদন্ত

20 Oct 2026
06:17 AM



সম্পাদকের কলমে: উৎসবের আলো নিভে গিয়েছে। শোকের ছায়া নেমে এসেছে একাধিক পরিবারে। মর্গে সারি সারি নিথর দেহ, স্বজনহারাদের কান্না আর অসংখ্য প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থার দায়িত্বে থাকা মানুষদের ভূমিকা। কিন্তু এমন এক মর্মান্তিক বিপর্যয়ের পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এই মৃত্যুর জন্য প্রকৃতপক্ষে কারা দায়ী?

উৎসব মানে আনন্দ, উৎসব মানে মিলন, উৎসব মানে কয়েকটা দিনের জন্য সমস্ত দুঃখ-কষ্ট ভুলে প্রিয়জনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়া। অথচ সেই উৎসবের মাটিতেই যদি প্রাণহানির ঘটনা ঘটে, যদি ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে মানুষকে আর ঘরে ফিরতে না হয়, তাহলে সেই বিপর্যয় শুধু কয়েকটি পরিবারের ব্যক্তিগত শোক হয়ে থাকে না। তা হয়ে ওঠে প্রশাসনিক প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা এবং দায়বদ্ধতার এক গভীর পরীক্ষা।

এমন পরিস্থিতিতে তদন্তের আগেই যদি একজন সামান্য ঠিকা নিরাপত্তাকর্মীকে গোটা বিপর্যয়ের প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে তুলে ধরা হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠবে—দায় কি সত্যিই একজনের, নাকি সেই দায়ের শিকড় আরও গভীরে বিস্তৃত?

একটি লাঠি, একটি উর্দি, আর উনিশটি মৃত্যুর দায়!

অভিযোগ অনুযায়ী, এই মর্মান্তিক ঘটনার পর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ঠিকা কর্মী রাজেশকে ঘিরে তদন্তের প্রশ্ন সামনে এসেছে। তাঁর হাতে ছিল একটি সাধারণ লাঠি, দায়িত্ব ছিল ভিড় সামলানোর মতো কঠিন কাজ। কিন্তু লক্ষ মানুষের সমাগমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো একটি বড় আয়োজন কি শুধুমাত্র একজন সামান্য নিরাপত্তাকর্মীর উপর নির্ভর করে থাকতে পারে?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে আবেগের বাইরে গিয়ে বাস্তব পরিস্থিতি বিচার করা জরুরি।

একজন নিরাপত্তাকর্মী কোথায় দাঁড়াবেন, কোন পথে দর্শনার্থীদের প্রবেশ করানো হবে, কোন পথে তাঁদের বেরিয়ে যেতে হবে, জরুরি পরিস্থিতিতে কীভাবে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা হবে—এসব সিদ্ধান্ত সাধারণত বৃহত্তর ব্যবস্থাপনার অংশ। সেখানে পুজো উদ্যোক্তা, নিরাপত্তা সংস্থা, দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক এবং প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের ভূমিকা থাকতে পারে।

তবে রাজেশের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ কী, তিনি কী নির্দেশ পেয়েছিলেন, তাঁর দায়িত্বের পরিধি কতটা ছিল এবং ঘটনার সময় তিনি কী করেছিলেন—এসব তথ্যও নিরপেক্ষ তদন্তে খতিয়ে দেখা দরকার। তিনি ঠিকা কর্মী বলেই তাঁকে দায়মুক্ত করা যায় না, আবার তিনি গরিব বা ক্ষমতাহীন বলেই তাঁর উপর সমস্ত দায় চাপিয়ে দেওয়াও ন্যায়সংগত নয়।

বিচারের মূল কথা হওয়া উচিত—পদমর্যাদা নয়, প্রমাণের ভিত্তিতে দায় নির্ধারণ।

পুজোর আয়োজন, ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা—দায়িত্ব কার?

একটি বড় পুজো মণ্ডপে বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীর সমাগম হবে, সেটি সাধারণত অপ্রত্যাশিত ঘটনা নয়। বিশেষ করে উৎসবের দিনগুলিতে কোন সময়ে কতটা ভিড় হতে পারে, কোন রাস্তায় চাপ বাড়তে পারে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে মানুষকে কীভাবে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হবে—এসব বিষয় আগে থেকেই পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত থাকা দরকার।

মণ্ডপে প্রবেশ ও প্রস্থানের রাস্তা পর্যাপ্ত ছিল কি না, জরুরি নির্গমনপথ খোলা ছিল কি না, ভিড়ের চাপ নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত কর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল কি না, দর্শনার্থীদের চলাচলের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা ছিল কি না—এই প্রশ্নগুলির উত্তর জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

যদি কোনও ক্ষেত্রে নিরাপত্তা পরিকল্পনার ঘাটতি থেকে থাকে, তাহলে সেই ঘাটতির জন্য দায়ী ব্যক্তি বা সংস্থাকে চিহ্নিত করতে হবে। যদি অনুমোদিত পরিকল্পনা বাস্তবে অনুসরণ না করা হয়ে থাকে, সেটিও তদন্তের বিষয়। আর যদি কোনও কর্মী নির্দেশ অমান্য করে থাকেন, তাহলে তাঁর ভূমিকারও প্রমাণভিত্তিক মূল্যায়ন হওয়া উচিত।

অর্থাৎ, তদন্তের পরিধি একজন কর্মীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। ঘটনার সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি স্তরের সিদ্ধান্ত, দায়িত্ব এবং কাজের পদ্ধতি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ উঠলে তদন্ত আরও স্বচ্ছ হওয়া জরুরি

বড় উৎসবের আয়োজন অনেক সময় সামাজিক মর্যাদা ও রাজনৈতিক পরিচিতির সঙ্গেও যুক্ত হয়ে পড়ে। কোনও পুজো কমিটির সঙ্গে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সম্পর্ক থাকলে, বিপর্যয়ের পর তাঁদের ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠতে পারে। কিন্তু অভিযোগ আর প্রমাণ এক বিষয় নয়।

কোনও ব্যক্তি রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী বলেই তিনি অপরাধী, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যেমন অনুচিত, তেমনই তাঁর পদমর্যাদা বা পরিচিতির কারণে তাঁকে তদন্তের বাইরে রাখা হলেও তা গ্রহণযোগ্য হবে না।

যদি অভিযোগ ওঠে যে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সরিয়ে নতুন নেতৃত্বের হাতে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, অথবা নিরাপত্তা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করা হয়নি, তাহলে সেই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা দরকার। কে কী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, কী নথি রয়েছে, কী ধরনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল এবং বাস্তবে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল—তদন্তে এসব প্রশ্নের উত্তর উঠে আসা উচিত।

রাজনৈতিক পরিচয় যেন তদন্তের বাধা না হয়। আবার রাজনৈতিক বিরোধিতাও যেন কাউকে প্রমাণ ছাড়া অপরাধী বানানোর হাতিয়ার না হয়ে ওঠে।

প্রশাসনের দায়বদ্ধতা কি তদন্তের আওতায় আসবে?

যে কোনও বড় জনসমাগমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন, পুলিশ, আয়োজক এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোথায় কত পুলিশ মোতায়েন থাকবে, ভিড় কোন পথে চলবে, যানবাহন কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধারকাজ কীভাবে পরিচালিত হবে—এসব বিষয়ে আগে থেকেই পরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন।

সেই পরিকল্পনা যথাযথভাবে তৈরি হয়েছিল কি না, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি সম্পর্কে কী জানতেন, নিরাপত্তা নিয়ে কোনও সতর্কবার্তা বা অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল কি না এবং সেগুলির ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্তে স্পষ্ট হওয়া দরকার।

যদি প্রশাসনিক গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ভূমিকারও বিচার হওয়া উচিত। একইভাবে, প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছিল অথচ অন্য কোনও কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে কি না, সেটিও তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে নির্ধারণ করতে হবে।

কারণ, জননিরাপত্তার দায়িত্ব কেবল ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে থাকা কর্মীর নয়; এটি পরিকল্পনা, তদারকি এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত একটি সম্মিলিত দায়িত্ব।

গরিবের কি ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার কম?

এই ঘটনার আলোচনায় রাজেশের আর্থিক ও সামাজিক অবস্থান নিয়ে যে প্রশ্ন উঠে এসেছে, তা আমাদের বিচারব্যবস্থার একটি মৌলিক নীতির কথা মনে করিয়ে দেয়—আইনের চোখে প্রত্যেকেই সমান।

একজন দিনমজুর বা ঠিকা কর্মী নিজের জীবিকা নির্বাহের জন্য কাজ করেন। তাঁর হাতে যদি সীমিত ক্ষমতা থাকে, তাহলে তাঁর উপর কী দায়িত্ব ছিল এবং সেই দায়িত্ব পালনের জন্য তাঁকে কী ধরনের প্রশিক্ষণ ও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।

কিন্তু আর্থিকভাবে দুর্বল হওয়া কাউকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্দোষ প্রমাণ করে না। একইভাবে, কোনও ব্যক্তি প্রভাবশালী বা ধনী হলেই তাঁকে অপরাধী বলা যায় না। ন্যায়বিচারের মানদণ্ড হওয়া উচিত সবার ক্ষেত্রে এক—প্রমাণ, সাক্ষ্য এবং আইনি প্রক্রিয়া।

রাজেশের মা যদি তাঁর ছেলের নির্দোষ হওয়ার দাবি জানিয়ে থাকেন, তাহলে সেই দাবির সত্যতা তদন্তে যাচাই করা হোক। তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তি কী, কী প্রমাণ রয়েছে এবং তাঁর বক্তব্য কী—সবকিছুই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা দরকার।

একটি পরিবারের আর্থিক অসহায়ত্ব যেন ন্যায়বিচারের পথে বাধা না হয়। আবার মৃতদের পরিবারও যেন প্রকৃত সত্য জানার অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়।

উনিশটি প্রাণের মূল্য শুধু ক্ষতিপূরণে মেটে না

কোনও দুর্ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া জরুরি হতে পারে। কিন্তু ক্ষতিপূরণ কখনও হারিয়ে যাওয়া মানুষের জীবন ফিরিয়ে দিতে পারে না। সন্তানহারা মা-বাবা, স্বামী বা স্ত্রীকে হারানো মানুষ কিংবা অভিভাবকহীন হয়ে পড়া শিশুর কাছে শোকের কোনও আর্থিক পরিমাপ নেই।

তাঁদের প্রয়োজন ন্যায়বিচার, ঘটনার প্রকৃত কারণ জানার সুযোগ এবং ভবিষ্যতে যাতে আর কোনও পরিবারকে একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়, তার নিশ্চয়তা।

তাই তদন্তের ফল প্রকাশ, নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটি চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজনে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে আহতদের চিকিৎসা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ানোর দায়িত্বও উপেক্ষা করা যায় না।

আমাদের দাবি—বলির পাঁঠা নয়, চাই সত্যের উদ্‌ঘাটন

এই মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে জনমনে যে প্রশ্নগুলি উঠেছে, সেগুলির উত্তর আবেগ, রাজনৈতিক বক্তব্য কিংবা প্রশাসনিক ঘোষণায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। দরকার তথ্যনির্ভর, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত।

  • পুজো মণ্ডপের নিরাপত্তা পরিকল্পনা যথাযথ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে।

  • প্রবেশ ও নির্গমনপথ এবং জরুরি উদ্ধারব্যবস্থা কার্যকর ছিল কি না, তা যাচাই করতে হবে।

  • আয়োজক, নিরাপত্তা সংস্থা ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায়িত্ব ও ভূমিকা নির্ধারণ করতে হবে।

  • ঠিকা কর্মী রাজেশের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তি এবং তাঁর প্রকৃত ভূমিকা প্রমাণের মাধ্যমে যাচাই করতে হবে।

  • তদন্তে যাঁদের বিরুদ্ধে অপরাধ বা গাফিলতির প্রমাণ মিলবে, তাঁদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

এই দাবিগুলি কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পক্ষকে দোষী সাব্যস্ত করার জন্য নয়। এগুলি জননিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে জরুরি প্রশ্ন।

বিচার হোক প্রমাণের, ক্ষমতার নয়

উৎসবের মাটিতে প্রাণহানির ঘটনা ঘটলে শুধু একজনকে গ্রেফতার করা বা কয়েকটি বিবৃতি দেওয়াই যথেষ্ট নয়। মানুষ জানতে চান, কেন এমন ঘটনা ঘটল, কোথায় নিরাপত্তার ঘাটতি ছিল এবং ভবিষ্যতে এমন বিপর্যয় আটকাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যদি রাজেশ দোষী হন, প্রমাণের ভিত্তিতে তাঁর বিচার হোক। যদি আয়োজক বা অন্য কোনও দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির গাফিলতি প্রমাণিত হয়, তাঁদের ক্ষেত্রেও একই আইনি ব্যবস্থা প্রয়োগ করা হোক। আর যদি প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রমাণ পাওয়া যায়, তারও যথাযথ জবাবদিহি নিশ্চিত করা হোক।

কারণ, ন্যায়বিচার মানে একজনকে অপরাধী বানিয়ে অধ্যায় শেষ করা নয়; ন্যায়বিচার মানে প্রকৃত সত্যের কাছে পৌঁছনো এবং দায়ী প্রত্যেক ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা।

উনিশটি মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটিত হোক। শোকাহত পরিবারগুলি সত্য জানার অধিকার পাক। আর ভবিষ্যতের উৎসবগুলিতে আনন্দের বদলে যেন আর কোনওদিন মৃত্যুর মিছিল দেখতে না হয়—প্রশাসন, আয়োজক এবং সমাজের কাছে এটাই আজ সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।