নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: হামলা ও হুমকির অভিযোগকে উপেক্ষা করে সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে শারদোৎসবে বুকস্টল চালু করল সিপিআইএম দক্ষিণ যাদবপুর (২) এরিয়া কমিটি। ‘জনতার দরবারে’ উদ্যোগে এই বুকস্টল চালু করাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে। সিপিআইএমের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, বুকস্টল চালু করার পথে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের হামলা ও হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে তাঁদের। যদিও এই অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা যায়নি।
শারদোৎসবকে কেন্দ্র করে বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে যেমন পুজো, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও জনসংযোগের কর্মসূচি চলছে, তেমনই বইকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সিপিআইএমের দক্ষিণ যাদবপুর (২) এরিয়া কমিটি। উৎসবের আবহে এই বুকস্টলের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ বাড়ানো এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয় নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে বলে দলীয় উদ্যোগের তাৎপর্য থেকে বোঝা যায়।
সিপিআইএমের বক্তব্য, বাধা ও হুমকির অভিযোগ সত্ত্বেও তাঁরা পিছু হটেননি। বরং সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়েই বুকস্টল চালু করেছেন। দলের কর্মী-সমর্থকদের কাছে এই উদ্যোগ রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং বই পড়ার সংস্কৃতি রক্ষার বার্তা হিসেবেও গুরুত্ব পাচ্ছে।
বর্তমান সময়ে উৎসবের মণ্ডপ, আলোকসজ্জা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের পাশাপাশি বইয়ের স্টলও বাংলার সামাজিক জীবনে একটি পরিচিত ঐতিহ্য। বইয়ের মাধ্যমে ইতিহাস, সাহিত্য, রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতির নানা বিষয় মানুষের সামনে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়। সেই প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ যাদবপুরে সিপিআইএমের এই বুকস্টল চালুর উদ্যোগ তাৎপর্যপূর্ণ।
তবে বুকস্টলকে ঘিরে হামলা ও হুমকির যে অভিযোগ সামনে এসেছে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য জানা এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও শান্তিপূর্ণভাবে বই বিক্রি, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা এবং মতপ্রকাশের অধিকার বজায় থাকা গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য জরুরি।
উৎসবের আবহে দক্ষিণ যাদবপুরে সিপিআইএমের ‘জনতার দরবারে’ বুকস্টল চালুর এই উদ্যোগ বই, জনসংযোগ ও রাজনৈতিক অধিকারকে ঘিরে নতুন করে আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি করেছে।