Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে বিনোদন সম্পাদকীয় কলম
BREAKING NEWS
পুল-আপ কেন এত কঠিন ব্যায়াম? শক্তি বাড়ানো থেকে পেশির গঠন—জেনে নিন এর উপকারিতা ও সঠিক কৌশল   •   কলকাতা আরক্ষা ভবনে ট্রাফিক কন্ট্রোল রুম পরিদর্শনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, যান চলাচল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নজর   •   গ্রিক দই বনাম সাধারণ দই: প্রোটিন ও প্রোবায়োটিকের জন্য কোনটি বেশি উপকারী? জেনে নিন পুষ্টিবিদদের পরামর্শ   •   বাসিরাম বাজার, নিমতলা নিউ মার্কেট ও রানীগড়-জ্যোতিষপুরের পুজোমণ্ডপে নিরাপত্তা পরিদর্শন, সুরক্ষা বৈঠকে প্রশাসনিক আধিকারিকরা   •   মন্দিরবাজার বাসস্ট্যান্ডে প্রথমবার সার্বজনীন দুর্গাপুজো, সাবেকি আয়োজনেই মাতোয়ারা এলাকাবাসী   •   আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দুর্দান্ত সূচনা, নজর কাড়ছেন ভারতের অলরাউন্ডার নিকি প্রসাদ

বাসিরাম বাজার, নিমতলা নিউ মার্কেট ও রানীগড়-জ্যোতিষপুরের পুজোমণ্ডপে নিরাপত্তা পরিদর্শন, সুরক্ষা বৈঠকে প্রশাসনিক আধিকারিকরা

19 Oct 2026
10:14 AM


নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: দুর্গাপুজোর আনন্দ যেন কোনওভাবেই দুর্ঘটনা বা নিরাপত্তার অভাবের কারণে ম্লান হয়ে না যায়, সেই লক্ষ্যেই পুজোমণ্ডপগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে উদ্যোগী হল প্রশাসন। বাসিরাম বাজার ও নিমতলা নিউ মার্কেটের দুটি মাতৃমণ্ডপের পাশাপাশি রানীগড়-জ্যোতিষপুরের একটি পুজোমণ্ডপও পরিদর্শন করা হয়। পুজোর দিনগুলিতে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা, সুষ্ঠু ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়ানোর বিষয়গুলিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

প্রদীপ সরদার, বাসন্তী বিধানসভার বিজেপি কনভেনারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাসিরাম বাজার ও নিমতলা নিউ মার্কেটের পুজোমণ্ডপগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও পরিকাঠামো খতিয়ে দেখতে উপস্থিত হয়েছিলেন ক্যানিংয়ের এসডিপিও এবং বাসন্তী থানার আইসি। তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশক্রমে এই নিরাপত্তা পরিদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে নির্দেশ সংক্রান্ত বিষয়টি প্রশাসনের তরফে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

পুজো কমিটির সঙ্গে নিরাপত্তা বৈঠক

পরিদর্শনের সময় পুজো কমিটির সদস্যদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে পুজোমণ্ডপে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা, দর্শনার্থীদের প্রবেশ ও বেরোনোর পথ সুনির্দিষ্ট করা, ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার মতো বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা হয়।

দুর্গাপুজোর সময় বড় মণ্ডপগুলিতে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ে। সেই পরিস্থিতিতে সামান্য অব্যবস্থাপনাও বড় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে উঠতে পারে। তাই পুজো কমিটির সদস্যদের পাশাপাশি প্রশাসনিক আধিকারিকদেরও সতর্ক ও প্রস্তুত থাকার প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে আসে বৈঠকে।

উদ্যোক্তাদের বক্তব্য, উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দর্শনার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে প্রতিমা দর্শন করতে পারেন, সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই নিরাপত্তা পরিকাঠামো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

রানীগড়-জ্যোতিষপুরের পুজোমণ্ডপেও পরিদর্শন

বাসিরাম বাজার ও নিমতলা নিউ মার্কেটের পাশাপাশি রানীগড়-জ্যোতিষপুরের একটি পুজোমণ্ডপেও পরিদর্শন করা হয় বলে জানিয়েছেন প্রদীপ সরদার। সেখানেও পুজোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে খোঁজখবর নেওয়া হয়।

এই পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন ক্যানিংয়ের এসডিপিও, বাসন্তী থানার আইসি, বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য রামকৃষ্ণ প্রামাণিক, জেলা সহ-সভাপতি সুবল বিশ্বাস এবং যুব মোর্চার জেলা সভাপতি উৎপল দত্ত। তাঁদের উপস্থিতিতে পুজোমণ্ডপের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু পরিচালনার বিষয়গুলি গুরুত্ব পায়।

কোনও পরিবারের আনন্দ যেন শোকে পরিণত না হয়’

নিরাপত্তা উদ্যোগের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রদীপ সরদার জানান, মানুষের জীবন অমূল্য। দুর্গাপুজো সকলের কাছে আনন্দ, ভক্তি ও মিলনের উৎসব। কিন্তু নিরাপত্তার ঘাটতির কারণে কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে সেই আনন্দ মুহূর্তের মধ্যে শোকে পরিণত হতে পারে। তাই আগাম সতর্কতা ও যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

তিনি বলেন, তাঁদের অঙ্গীকার—উৎসবের আনন্দ যেন কোনও পরিবারের কাছে শোকের কারণ হয়ে না দাঁড়ায়। কোনও মায়ের কোল যেন খালি না হয় এবং কোনও পরিবারকে প্রিয়জন হারানোর যন্ত্রণা সহ্য করতে না হয়। এই লক্ষ্যেই পুজো কমিটি, প্রশাসন ও সাধারণ মানুষকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রশাসনকে ধন্যবাদ বিজেপি নেতৃত্বের

এই উদ্যোগের জন্য মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন প্রদীপ সরদার। পাশাপাশি পুজোমণ্ডপগুলির নিরাপত্তা খতিয়ে দেখতে এগিয়ে আসার জন্য ক্যানিংয়ের এসডিপিও ও বাসন্তী থানার আইসি-সহ প্রশাসনিক আধিকারিকদেরও ধন্যবাদ জানান তিনি।

সব মিলিয়ে, বাসিরাম বাজার, নিমতলা নিউ মার্কেট এবং রানীগড়-জ্যোতিষপুরের পুজোমণ্ডপে নিরাপত্তা পরিদর্শনকে ঘিরে উৎসবের দিনগুলিতে সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পুজো কমিটি ও প্রশাসনের সমন্বয়ে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, নিরাপদ যাতায়াত এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি জোরদার করা গেলে দর্শনার্থীদের জন্য উৎসব আরও নিরাপদ হয়ে উঠবে—এমনটাই আশা উদ্যোক্তাদের।