Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে বিনোদন সম্পাদকীয় কলম
BREAKING NEWS
পুল-আপ কেন এত কঠিন ব্যায়াম? শক্তি বাড়ানো থেকে পেশির গঠন—জেনে নিন এর উপকারিতা ও সঠিক কৌশল   •   কলকাতা আরক্ষা ভবনে ট্রাফিক কন্ট্রোল রুম পরিদর্শনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, যান চলাচল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নজর   •   গ্রিক দই বনাম সাধারণ দই: প্রোটিন ও প্রোবায়োটিকের জন্য কোনটি বেশি উপকারী? জেনে নিন পুষ্টিবিদদের পরামর্শ   •   বাসিরাম বাজার, নিমতলা নিউ মার্কেট ও রানীগড়-জ্যোতিষপুরের পুজোমণ্ডপে নিরাপত্তা পরিদর্শন, সুরক্ষা বৈঠকে প্রশাসনিক আধিকারিকরা   •   মন্দিরবাজার বাসস্ট্যান্ডে প্রথমবার সার্বজনীন দুর্গাপুজো, সাবেকি আয়োজনেই মাতোয়ারা এলাকাবাসী   •   আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দুর্দান্ত সূচনা, নজর কাড়ছেন ভারতের অলরাউন্ডার নিকি প্রসাদ

মন্দিরবাজার বাসস্ট্যান্ডে প্রথমবার সার্বজনীন দুর্গাপুজো, সাবেকি আয়োজনেই মাতোয়ারা এলাকাবাসী

19 Oct 2026
10:07 AM


নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: ঐতিহ্যবাহী পুজোর জৌলুস কিংবা চোখধাঁধানো থিমের প্রতিযোগিতা নয়, বরং সাবেকি আয়োজন, ভক্তি ও সেবার মনোভাবকে সঙ্গী করেই দুর্গাপুজোর আনন্দে মেতে উঠেছে মন্দিরবাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকা। ‘বাবা কেশবেশ্বর সেবা প্রতিষ্ঠান’-এর উদ্যোগে এবছর প্রথমবারের জন্য শুরু হয়েছে সার্বজনীন দুর্গাপুজো। অল্প সময়ের প্রস্তুতিতে এই পুজো চালু হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে তৈরি হয়েছে বাড়তি উৎসাহ ও উদ্দীপনা।

মন্দিরবাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এর আগে সার্বজনীন দুর্গাপুজোর প্রচলন ছিল না বলেই উদ্যোক্তাদের দাবি। সেই শূন্যতা পূরণ করতেই এবার পুজোর আয়োজন করেছেন প্রতিষ্ঠানের সদস্য ও সেবাইতরা। প্রথম বছরেই পুজোকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের সমর্থন পাওয়ায় খুশি উদ্যোক্তারা। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার মন্দিরবাজারের এই পুজো ঘিরে এলাকায় তৈরি হয়েছে উৎসবের আবহ।

সাবেকি সাজেই মায়ের আরাধনা

এবারের পুজোয় নেই বড় কোনও থিমের আয়োজন। এক কাঠামোর প্রতিমা এবং তৈরি সেটের আটচালার মধ্যেই হচ্ছে মায়ের আরাধনা। সাবেকি রীতিনীতি মেনেই পুজোর সমস্ত আয়োজন করা হয়েছে। উদ্যোক্তাদের মতে, পুজোর মূল আকর্ষণ বাহ্যিক জাঁকজমক নয়, বরং মানুষের মধ্যে ভক্তি, সম্প্রীতি ও সেবার মানসিকতা গড়ে তোলা।

পুজোর প্রস্তুতি থেকে শুরু করে আয়োজনের বিভিন্ন কাজে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন বাবা কেশবেশ্বর সেবা প্রতিষ্ঠানের সেবাইত ও সদস্যরা। অল্প সময়ের মধ্যে নতুন এই পুজো শুরু করতে তাঁদের সম্মিলিত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। পাশাপাশি বাসস্ট্যান্ড এলাকার বাসিন্দারাও পুজোর পাশে দাঁড়িয়েছেন বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।

সরকারি অনুদান ও এলাকাবাসীর সহযোগিতা

বাবা কেশবেশ্বর সেবা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি প্রদীপ সরদার জানান, মন্দিরবাজার বাসস্ট্যান্ডে আগে কোনও সার্বজনীন দুর্গাপুজো ছিল না। সেই জায়গায় এবার প্রথমবারের জন্য দুর্গাপুজো শুরু করা হয়েছে। পুজোর জন্য সরকারি অনুদানও মিলেছে। পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা ও সমর্থন উদ্যোক্তাদের উৎসাহ জুগিয়েছে।

প্রদীপ হালদারের কথায়, খুব অল্প সময়ের মধ্যে এই পুজোর আয়োজন করা হয়েছে। প্রথম বছর হওয়ায় একাধিক চ্যালেঞ্জ থাকলেও সকলের সহযোগিতায় পুজো পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার নিজেও পুজোর বিভিন্ন কাজ তদারকি করছেন।

সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমীতে ভোগ বিতরণ

দুর্গাপুজোর দিনগুলিতে ভক্তদের জন্য থাকছে বিশেষ আয়োজন। রীতি মেনে সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমীতে মায়ের ভোগ বিতরণ করা হবে। পুজোকে কেন্দ্র করে এলাকার আট থেকে আশি—সব বয়সের মানুষের মধ্যেই উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। থিমের চাকচিক্য না থাকলেও মায়ের আরাধনা ও উৎসবের আনন্দে সামিল হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, পুজোর মাধ্যমে এলাকার মানুষের মধ্যে একতা ও সৌহার্দ্যের পরিবেশ গড়ে তোলাই তাঁদের অন্যতম লক্ষ্য। প্রথম বছরেই মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আগামী দিনে পুজোকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে তাঁদের আশা।

বলিপ্রথা নয়, জীবসেবাই মূল বার্তা

এই পুজোয় কোনও বলিপ্রথা চালু করা হয়নি। সভাপতি প্রদীপ সরদারের বক্তব্য, জীবের সেবাই প্রকৃত সেবা। সেই ভাবনাকে গুরুত্ব দিয়েই পুজোর আয়োজন করা হয়েছে। ধর্মীয় আচার পালনের পাশাপাশি জীবের প্রতি সহমর্মিতা ও মানবিকতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই তাঁদের উদ্দেশ্য।

এই দৃষ্টিভঙ্গি পুজোটিকে একটি আলাদা পরিচয় দিয়েছে বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা। তাঁদের মতে, দুর্গাপুজো শুধু উৎসব নয়, মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালনেরও একটি সুযোগ।

দশমীতে পুকুরে বিসর্জনের পরিকল্পনা

পুজোর শেষ পর্বে দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের পরিকল্পনা রয়েছে। মন্দিরবাজার থানার কাছে অবস্থিত পুকুরে মাকে বিদায় জানানো হবে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। পুজোর সূচনা থেকে বিসর্জন পর্যন্ত সমস্ত আয়োজন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, মন্দিরবাজার বাসস্ট্যান্ডে বাবা কেশবেশ্বর সেবা প্রতিষ্ঠানের প্রথম বছরের সার্বজনীন দুর্গাপুজো হয়ে উঠেছে স্থানীয় মানুষের মিলনমেলা। বড় বাজেট বা থিমের প্রতিযোগিতার বাইরে দাঁড়িয়ে সাবেকি পুজো, ভক্তি, ভোগ বিতরণ এবং জীবসেবার বার্তাই এই আয়োজনের প্রধান বৈশিষ্ট্য। প্রথম বছরের এই উদ্যোগ আগামী দিনে আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে পড়বে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে এলাকার মানুষ।