নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: দুর্গাপুজোর উৎসবের আবহে সাময়িকভাবে ছন্দপতন ঘটাল বৃষ্টি। হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা এবং কলকাতার বেশ কিছু অঞ্চলে বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত চলছে। এর জেরে পুজোর মণ্ডপে প্রতিমা দর্শনে বেরোনো মানুষজনকে কিছুটা সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। তবে স্বস্তির খবর, দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কিছু সময় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলেও সারারাত ধরে বৃষ্টি চলার সম্ভাবনা নেই বলে জানানো হয়েছে।
দুর্গাপুজো মানেই আনন্দ, উৎসাহ এবং রাতভর ঠাকুর দেখার পরিকল্পনা। কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতে পুজোর দিনগুলিতে সন্ধ্যা নামতেই রাস্তায় মানুষের ঢল নামে। বিভিন্ন পুজোমণ্ডপে প্রতিমা দর্শনের পাশাপাশি আলোকসজ্জা, থিম এবং উৎসবের পরিবেশ উপভোগ করতে বেরিয়ে পড়েন অসংখ্য মানুষ। কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হওয়ায় সেই পরিকল্পনায় সাময়িক পরিবর্তন আনতে হচ্ছে দর্শনার্থীদের।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা এবং কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষিপ্তভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। কোথাও কোথাও বজ্রবিদ্যুতের সম্ভাবনাও রয়েছে। আগামী কিছু সময় এই পরিস্থিতি বজায় থাকতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
বৃষ্টির কারণে রাস্তাঘাট ভিজে যাওয়া, যান চলাচলে ধীরগতি এবং পুজোমণ্ডপে দর্শনার্থীদের চলাচলে অসুবিধা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে যাঁরা পরিবার-পরিজন নিয়ে ঠাকুর দেখতে বেরিয়েছেন, তাঁদের সতর্কভাবে যাতায়াত করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
বৃষ্টির কারণে যাঁরা ঠাকুর দেখতে বেরোনোর পরিকল্পনা স্থগিত রেখেছেন, তাঁদের জন্য কিছুটা স্বস্তির বার্তা রয়েছে। দেওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃষ্টিপাত কিছু সময় অব্যাহত থাকলেও সারারাত ধরে বৃষ্টি চলার সম্ভাবনা নেই। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টির দাপট কমতে পারে। পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে ফের পুজোমণ্ডপে প্রতিমা দর্শনের জন্য বেরিয়ে পড়তে পারবেন দর্শনার্থীরা।
তবে আবহাওয়া দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। তাই বাড়ি থেকে বেরোনোর আগে স্থানীয় আবহাওয়ার সর্বশেষ আপডেট দেখে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে। বিশেষ করে দূরের পুজোমণ্ডপে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে যাতায়াতের পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ রাখা জরুরি।
পুজোর সময় বৃষ্টি নতুন কিছু নয়। তবুও হঠাৎ বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়া কিংবা বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গায় আটকে পড়া বিপজ্জনক হতে পারে। তাই প্রতিমা দর্শনে বেরোনোর সময় সঙ্গে ছাতা বা রেইনকোট রাখা ভালো। রাস্তা পিচ্ছিল থাকলে সাবধানে হাঁটতে হবে এবং যানবাহনে যাতায়াতের সময় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ, ফাঁকা রাস্তা, গাছের নিচে কিংবা অস্থায়ী কাঠামোর আশপাশে দাঁড়িয়ে থাকা এড়িয়ে চলা উচিত। নিরাপদ পাকা ভবনের ভিতরে আশ্রয় নেওয়াই ভালো। মণ্ডপে অতিরিক্ত ভিড় তৈরি হলে ধাক্কাধাক্কি না করে ধীরে চলাচল করা এবং প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলাও অত্যন্ত জরুরি।
দুর্গাপুজো বাংলার মানুষের আবেগ ও ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। বৃষ্টির কারণে সাময়িক অসুবিধা হলেও উৎসবের আনন্দে ভাটা পড়ুক, তা চান না কেউই। আবহাওয়ার পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে ফের রাস্তায় নামতে পারেন ঠাকুর দেখতে ইচ্ছুক মানুষজন। তবে আনন্দের পাশাপাশি নিরাপত্তার বিষয়টিও সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি এবং উত্তর ২৪ পরগনার কিছু এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টিপাত আপাতত পুজোর আনন্দে সাময়িক বাধা সৃষ্টি করেছে। বৃষ্টির দাপট কমলে প্রতিমা দর্শনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে বজ্রপাতের সময় সতর্ক থাকা এবং বেরোনোর আগে আবহাওয়ার আপডেট দেখে নেওয়াই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।