Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে বিনোদন সম্পাদকীয় কলম
BREAKING NEWS
চোরবাগানে ঠাকুর দেখতে গিয়ে আর ফেরা হলো না স্নেহার, শোকে পাথর বিষ্ণুপুরের এগারো গ্রাম   •   উৎসবের ভিড়ে দুর্ঘটনা এড়াতে কড়া নিরাপত্তার দাবি, সতর্কবার্তা দিলীপ ঘোষের   •   সল্টলেকের এফ ডি ব্লকের পুজো মণ্ডপে ‘শ্বেতকালী ২’-এর প্রচার, অনিন্দ্য ও পরিচালকের বক্তব্য ঘিরে আগ্রহ   •   পুজোর আনন্দে সাময়িক বাধা বৃষ্টি! হাওড়া, হুগলি, কলকাতা-সহ একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টিপাত   •   ২০২৭ সালের বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শুরু, পাকিস্তানের মাটিতে ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজে মুখোমুখি পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও ইংল্যান্ড   •   ভারতের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পারফরম্যান্সে খুশি ড্যারেন স্যামি, বললেন ‘বড় পদক্ষেপ’ এগোল দল

২০২৭ সালের বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শুরু, পাকিস্তানের মাটিতে ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজে মুখোমুখি পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও ইংল্যান্ড

18 Oct 2026
09:25 AM


নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: ২০২৭ সালের আইসিসি পুরুষদের একদিনের বিশ্বকাপকে সামনে রেখে প্রস্তুতি আরও জোরদার করতে চলেছে পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও ইংল্যান্ড। সেই লক্ষ্যেই পাকিস্তানের মাটিতে শুরু হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজ। ১৮ অক্টোবর থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে এই প্রতিযোগিতা। রাওয়ালপিন্ডি ও লাহোরে অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচগুলি। বিশ্বকাপের আগে নিজেদের শক্তি যাচাই, দলের ভারসাম্য তৈরি এবং ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স মূল্যায়নের ক্ষেত্রে এই সিরিজ তিন দলের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। 

বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ

২০২৭ সালের বিশ্বকাপের প্রস্তুতি এখন থেকেই পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে তিনটি দলই। একদিনের ক্রিকেটে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, ব্যাটিংয়ের গভীরতা বাড়ানো এবং বোলিং বিভাগকে আরও কার্যকর করে তোলাই এই ধরনের প্রতিযোগিতার অন্যতম উদ্দেশ্য। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে একাধিক ম্যাচ খেলার সুযোগ থাকায় দলগুলি নিজেদের দুর্বলতা চিহ্নিত করে তা সংশোধন করতে পারবে।

পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও ইংল্যান্ড—তিনটি দলই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেদের পরিচিতি প্রতিষ্ঠা করেছে। ফলে এই ত্রিদেশীয় সিরিজে প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেমন আকর্ষণীয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তেমনই বিশ্বকাপের আগে ক্রিকেটারদের প্রস্তুতি যাচাইয়েরও সুযোগ থাকবে। 

ঘরের মাঠে পাকিস্তানের সামনে বড় পরীক্ষা

আয়োজক পাকিস্তান এই সিরিজে ঘরের মাঠের সুবিধা কাজে লাগিয়ে ভালো পারফরম্যান্স করতে চাইবে। দলের নেতৃত্বে রয়েছেন শাহিন শাহ আফ্রিদি। তাঁর নেতৃত্বে পাকিস্তানের লক্ষ্য থাকবে ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, দলটি ইতিমধ্যেই রাওয়ালপিন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুশীলন শুরু করেছে। নেট প্র্যাকটিসের পাশাপাশি ব্যাটিং, পেস বোলিং, স্পিন বোলিং ও ফিল্ডিংয়ের বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রস্তুতি চালানো হয়েছে। বিশ্বকাপের আগে নিজেদের পরিকল্পনা আরও নিখুঁত করে তোলার জন্য এই সিরিজকে কাজে লাগাতে চাইবে পাকিস্তান। 

পাকিস্তানের দলে বাবর আজম, ফখর জামান, হারিস রউফ, নাসিম শাহ এবং শাদাব খানের মতো পরিচিত ক্রিকেটার রয়েছেন। তাঁদের অভিজ্ঞতা দলের পারফরম্যান্সে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। তবে প্রতিটি ম্যাচে পরিস্থিতি অনুযায়ী সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং চাপের মুহূর্তে নিজেদের দক্ষতা ধরে রাখাই হবে দলের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। 

ইংল্যান্ডের নজর বিশ্বকাপের পরিকল্পনায়

ইংল্যান্ডের নেতৃত্বে রয়েছেন হ্যারি ব্রুক। সাম্প্রতিক একদিনের ক্রিকেটে দলের পারফরম্যান্সকে আরও উন্নত করার লক্ষ্য নিয়ে পাকিস্তানে এসেছে ইংল্যান্ড। দলে জো রুট, বেন ডাকেট, উইল জ্যাকস, স্যাম কারান ও আদিল রশিদের মতো ক্রিকেটার রয়েছেন।

ইংল্যান্ডের জন্য এই সিরিজ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ বিশ্বকাপের আগে উপমহাদেশের পরিবেশে খেলার অভিজ্ঞতা অর্জন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তানের পিচ, আবহাওয়া এবং স্পিন বোলিংয়ের মোকাবিলা করার কৌশল ভবিষ্যতের প্রস্তুতিতে কাজে আসতে পারে।

ইংল্যান্ডের নির্বাচকরা এই সিরিজে কয়েকজন নতুন মুখকেও সুযোগ দিয়েছেন। ফলে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের পাশাপাশি নতুনদের দক্ষতা যাচাই করার সুযোগও তৈরি হয়েছে। 

শ্রীলঙ্কার লক্ষ্য ধারাবাহিকতা

শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক কুশল মেন্ডিসের নেতৃত্বে দলটিও এই প্রতিযোগিতায় নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করতে চাইবে। সাম্প্রতিক সময়ে একদিনের ক্রিকেটে ভালো ফলের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা এবং বিশ্বকাপের আগে সঠিক দলগত সমন্বয় তৈরি করা শ্রীলঙ্কার অন্যতম লক্ষ্য।

শ্রীলঙ্কার দলে পাথুম নিশাঙ্কা, আভিষ্কা ফার্নান্দো, কামিন্দু মেন্ডিস, দাসুন শানাকা ও মাহিশ থিকশানার মতো ক্রিকেটার রয়েছেন। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বোলিং বিভাগেও দলের ভারসাম্য বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ হবে। 

কোথায় এবং কবে হবে ম্যাচ?

ত্রিদেশীয় সিরিজে মোট সাতটি ম্যাচ রয়েছে। প্রথম ছয়টি ম্যাচ হবে লিগ পর্বে, যেখানে প্রতিটি দল অন্য দুই দলের বিরুদ্ধে দু’বার করে খেলবে। লিগ পর্বের শেষে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ দুই দল ফাইনালে মুখোমুখি হবে।

  • ১৮ অক্টোবর: পাকিস্তান বনাম শ্রীলঙ্কা — রাওয়ালপিন্ডি

  • ২০ অক্টোবর: পাকিস্তান বনাম ইংল্যান্ড — রাওয়ালপিন্ডি

  • ২২ অক্টোবর: শ্রীলঙ্কা বনাম ইংল্যান্ড — রাওয়ালপিন্ডি

  • ২৫ অক্টোবর: পাকিস্তান বনাম ইংল্যান্ড — লাহোর

  • ২৭ অক্টোবর: পাকিস্তান বনাম শ্রীলঙ্কা — লাহোর

  • ২৯ অক্টোবর: শ্রীলঙ্কা বনাম ইংল্যান্ড — লাহোর

  • ৩১ অক্টোবর: ফাইনাল — লাহোর

সব ম্যাচ শুরু হওয়ার কথা পাকিস্তানের স্থানীয় সময় দুপুর ১টায়। টস হবে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে। 

বিশ্বকাপের আগে নিজেদের শক্তি যাচাইয়ের সুযোগ

ত্রিদেশীয় সিরিজের গুরুত্ব শুধু ট্রফি জয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তিনটি দলই নিজেদের খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স, ব্যাটিং অর্ডার, বোলিং সমন্বয় এবং ফিল্ডিংয়ের মান যাচাই করতে পারবে। একই সঙ্গে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কৌশল পরীক্ষা করার সুযোগও থাকবে।

২০২৭ সালের পুরুষদের ওয়ানডে বিশ্বকাপ দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবোয়ে ও নামিবিয়ায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ফলে পাকিস্তানের মাটিতে এই প্রতিযোগিতা বিশ্বকাপের প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলেও, বিশ্বকাপের ভেন্যুগুলির পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য দলগুলিকে পরবর্তী সময়েও আলাদা প্রস্তুতি নিতে হবে।

সব মিলিয়ে, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও ইংল্যান্ডের এই ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজ ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য আকর্ষণীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতার মঞ্চ হয়ে উঠতে চলেছে। একদিকে ট্রফি জয়ের লড়াই, অন্যদিকে ২০২৭ সালের বিশ্বকাপের প্রস্তুতি—দুই লক্ষ্য সামনে রেখেই মাঠে নামবে তিন দল। এখন দেখার, কোন দল ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে ফাইনালে জায়গা করে নিতে পারে এবং বিশ্বকাপের আগে নিজেদের প্রস্তুতিকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে পারে।