স্পোর্টস ডেস্ক: ভারতের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের পারফরম্যান্সে অত্যন্ত সন্তুষ্ট প্রধান কোচ ড্যারেন স্যামি। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারতের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট খেলে সিরিজ ২-২ ব্যবধানে শেষ করাকে দলের অগ্রগতির গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবে দেখছেন তিনি। শেষ ম্যাচ বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হওয়ায় সিরিজের নিষ্পত্তি হয়নি। তবে ভারতীয় দলের বিরুদ্ধে ওয়েস্ট ইন্ডিজের লড়াই এবং খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে আশার আলো দেখছেন ক্যারিবিয়ান কোচ।
ভারতের মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে তাদেরই ঘরের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সহজ কাজ নয়। কিন্তু এই সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটাররা ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই নিজেদের সামর্থ্যের পরিচয় দিয়েছেন। দলের এই লড়াকু মানসিকতা এবং ধারাবাহিক উন্নতিতে খুশি ড্যারেন স্যামি।
তাঁর মতে, এই সিরিজ ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ভারতের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করতে পারা দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার জন্য ইতিবাচক দিক। সিরিজের পর স্যামি দলের অগ্রগতিকে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পারফরম্যান্সের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিলেন অধিনায়ক শাই হোপ। তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ রান, যা দলকে বড় স্কোর গড়তে সাহায্য করেছে। হায়দরাবাদে চতুর্থ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে হোপের অপরাজিত ১০২ রানের ইনিংসের উপর ভর করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২৪৭ রান তুলেছিল। সেই ম্যাচে ভারতকে ২৪ রানে হারিয়ে সিরিজে সমতা ফিরিয়ে আনে ক্যারিবিয়ান দল।
শুধু হোপ নন, দলের অন্যান্য ব্যাটারদের আক্রমণাত্মক মনোভাবও সিরিজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দ্রুত রান তোলার পাশাপাশি চাপের মুহূর্তে উইকেট ধরে রাখার দক্ষতা যে কতটা জরুরি, ওয়েস্ট ইন্ডিজের পারফরম্যান্সে তার প্রতিফলন দেখা গিয়েছে।
ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বোলিং বিভাগেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের উন্নতি নিয়ে সন্তুষ্ট স্যামি। বিশেষ করে পাওয়ারপ্লের পরের ওভারগুলিতে পরিকল্পনা অনুযায়ী বল করা এবং প্রতিপক্ষের রান তোলার গতি নিয়ন্ত্রণ করার উপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
চতুর্থ ম্যাচে কিমো পলের দুর্দান্ত বোলিং ভারতের ব্যাটিং লাইনআপকে চাপে ফেলে দেয়। ওই ম্যাচে পল পাঁচটি উইকেট তুলে নিয়ে দলের জয়ে বড় ভূমিকা পালন করেন। ব্যাটিংয়ে বড় রান এবং বোলিংয়ে উইকেট নেওয়ার এই সমন্বয় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে সিরিজে সমতা ফেরাতে সাহায্য করেছে।
পাঁচ ম্যাচের সিরিজে দুই দলই দুটি করে ম্যাচ জেতার পর পঞ্চম ও শেষ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল বেঙ্গালুরুতে। কিন্তু বৃষ্টির কারণে ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয়। ফলে সিরিজ ২-২ ব্যবধানে শেষ হয় এবং ভারতের মাটিতে দ্বিপাক্ষিক টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের।
তবে সিরিজ জিততে না পারলেও দলের পারফরম্যান্সকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন স্যামি। তাঁর মতে, ভারতের বিরুদ্ধে এমন লড়াই আগামী দিনের প্রতিযোগিতাগুলিতে দলকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে পারে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। এই সিরিজে ভারতকে কঠিন লড়াই দেওয়ার অভিজ্ঞতা আগামী দিনের প্রস্তুতিতে কাজে লাগাতে চায় দল। বিশেষ করে ব্যাটিংয়ের আগ্রাসন, বোলিংয়ের কার্যকারিতা এবং চাপের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আরও উন্নত করার সুযোগ রয়েছে।
ড্যারেন স্যামির সন্তুষ্টির মূল কারণ শুধু সিরিজের ফল নয়, বরং শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ক্ষমতা। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, ওয়েস্ট ইন্ডিজ নিজেদের উন্নতির পথে এগোতে চায় এবং এই সিরিজ সেই লক্ষ্যপূরণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা দিয়েছে।
সব মিলিয়ে, ভারতের বিরুদ্ধে ২-২ ব্যবধানে সিরিজ শেষ করাকে ইতিবাচকভাবেই দেখছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ শিবির। শাই হোপের ব্যাটিং, কিমো পলের বোলিং এবং গোটা দলের লড়াকু পারফরম্যান্স কোচ ড্যারেন স্যামিকে আশাবাদী করেছে। এখন সেই আত্মবিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আরও ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করাই ক্যারিবিয়ান দলের লক্ষ্য।