Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে বিনোদন সম্পাদকীয় কলম
BREAKING NEWS
বাসন্তীর নফরগঞ্জে বেহাল আইসিডিএস কেন্দ্র সংস্কারের উদ্যোগ, পঞ্চমীর প্রাক্কালে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন   •   দুর্গাপুজো শুধু আনন্দের নয়, জীবন বাঁচানোর অঙ্গীকারও: রক্তদানের বার্তা ফলতার বিধায়ক দেবাংশু পাণ্ডার   •   সল্টলেক সেক্টর V-এ মহিষবাথান নারী শক্তির দুর্গাপুজোর শুভ সূচনা, উপস্থিত ড. শরদ্বত মুখোপাধ্যায়   •   দুর্গাপুজোর পঞ্চমীতে রক্তদান শিবিরে উপস্থিত বিজেপি নেতা নীতীশ মণ্ডল, মানবসেবার বার্তা ফলতার মল্লিকপুরে   •   কিমো পলের পাঁচ উইকেটে ভারতের বিরুদ্ধে সিরিজে সমতা ফেরাল ওয়েস্ট ইন্ডিজ, হায়দরাবাদে ২৪ রানে হার টিম ইন্ডিয়ার   •   বেগুনের সাদা মাছি কিছুতেই যাচ্ছে না? ফসল বাঁচাতে কী করবেন, জানুন কৃষি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

স্তনের নিচে র‍্যাশ (ইন্টারট্রিগো) হওয়ার অর্থ কী? কেন হয়, কী কী লক্ষণ দেখা যায় এবং কীভাবে যত্ন নেবেন

15 Oct 2026
11:04 AM


নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: স্তনের নিচে লালচে দাগ, চুলকানি, জ্বালাপোড়া কিংবা ত্বকে ভেজা ভাব—এই সমস্যাগুলি অনেকের মধ্যেই দেখা যায়। বিশেষ করে গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় ঘাম জমে থাকলে অথবা স্তনের নিচের ত্বক দীর্ঘক্ষণ ভেজা থাকলে এই সমস্যা বাড়তে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে ত্বকের ভাঁজে ঘর্ষণ, আর্দ্রতা ও প্রদাহের কারণে হওয়া এই সমস্যাকে বলা হয় ইন্টারট্রিগো (Intertrigo)। 

তবে স্তনের নিচে র‍্যাশ হলেই যে সেটি ইন্টারট্রিগো বা ছত্রাকের সংক্রমণ, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। অ্যালার্জি, একজিমা এবং অন্যান্য ত্বকের সমস্যাতেও একই ধরনের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। তাই সমস্যার কারণ বুঝে সঠিক পরিচর্যা করা গুরুত্বপূর্ণ।

ইন্টারট্রিগো আসলে কী?

ইন্টারট্রিগো হলো শরীরের এমন অংশে ত্বকের প্রদাহ, যেখানে দুটি ত্বকের পৃষ্ঠ একে অপরের সঙ্গে ঘষা খায় এবং ঘাম বা আর্দ্রতা আটকে থাকে। স্তনের নিচে, বগলে, পেটের ভাঁজে এবং কুঁচকির মতো জায়গায় এই সমস্যা বেশি দেখা যায়।

স্তনের নিচের অংশে দীর্ঘক্ষণ ঘাম জমে থাকলে ত্বক নরম হয়ে যেতে পারে। এর সঙ্গে পোশাক বা ত্বকের ঘর্ষণ যুক্ত হলে লালচে দাগ, চুলকানি, ব্যথা এবং জ্বালাপোড়া দেখা দিতে পারে। কখনও কখনও ত্বকের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে সেখানে ইস্ট বা ছত্রাক এবং ব্যাকটেরিয়ার অতিরিক্ত বৃদ্ধি ঘটে। ফলে প্রদাহ আরও বেড়ে যেতে পারে। 

স্তনের নিচে র‍্যাশ হওয়ার প্রধান কারণগুলি কী?

১. অতিরিক্ত ঘাম ও আর্দ্রতা

গরম আবহাওয়া, শারীরিক পরিশ্রম কিংবা দীর্ঘক্ষণ ঘামযুক্ত পোশাক পরে থাকলে স্তনের নিচে আর্দ্রতা জমতে পারে। এই আর্দ্রতা ত্বকের ঘর্ষণ বাড়িয়ে ইন্টারট্রিগোর ঝুঁকি তৈরি করে।

২. ত্বকের সঙ্গে ত্বকের ঘর্ষণ

স্তনের নিচে ত্বকের দুটি অংশ পরস্পরের সঙ্গে ঘষা খেলে ত্বকের বাইরের সুরক্ষামূলক স্তরে ক্ষতি হতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘক্ষণ হাঁটাচলা, ব্যায়াম বা আঁটসাঁট পোশাক পরার সময় এই সমস্যা বাড়তে পারে।

৩. ছত্রাক বা ইস্টের সংক্রমণ

ত্বকের ভাঁজে উষ্ণ ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ তৈরি হলে Candida নামক ইস্টের বৃদ্ধি ঘটতে পারে। এর ফলে র‍্যাশ আরও লাল হয়ে যাওয়া, তীব্র চুলকানি, আশপাশে ছোট ছোট লাল দানা এবং ত্বকে জ্বালাপোড়া দেখা দিতে পারে।

৪. ব্রা বা পোশাকের কারণে অ্যালার্জি

কোনও কোনও ক্ষেত্রে ব্রার কাপড়, ইলাস্টিক, রং, ডিটারজেন্ট, সুগন্ধিযুক্ত সাবান বা ত্বকে ব্যবহৃত প্রসাধনী থেকে অ্যালার্জি কিংবা সংস্পর্শজনিত প্রদাহ হতে পারে।

৫. অন্যান্য ত্বকের সমস্যা

একজিমা, সোরিয়াসিস এবং কিছু ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণও স্তনের নিচে র‍্যাশ তৈরি করতে পারে। তাই শুধু লক্ষণ দেখে নিজে নিজে রোগ নির্ণয় না করে প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। 

কী কী লক্ষণ দেখা যায়?

ইন্টারট্রিগোর লক্ষণ ব্যক্তিভেদে আলাদা হতে পারে। সাধারণত দেখা যায়:

  • স্তনের নিচে লালচে বা লালচে-বাদামি দাগ।

  • ত্বকে চুলকানি, জ্বালাপোড়া বা খচখচে অনুভূতি।

  • ঘাম জমলে অস্বস্তি বা ব্যথা বেড়ে যাওয়া।

  • ত্বক নরম হয়ে যাওয়া, ফেটে যাওয়া বা খোসা ওঠা।

  • আক্রান্ত স্থানে ভেজা ভাব কিংবা ক্ষত থেকে তরল বের হওয়া।

  • সংক্রমণ হলে দুর্গন্ধ, পুঁজ বা অতিরিক্ত ব্যথা দেখা দেওয়া।

প্রাথমিক অবস্থায় সমস্যা মৃদু হতে পারে। কিন্তু দীর্ঘদিন অবহেলা করলে ত্বকের ক্ষত বাড়তে পারে এবং সংক্রমণের ঝুঁকিও বেড়ে যেতে পারে।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি?

নিচের লক্ষণগুলি দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন:

  • র‍্যাশ দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে বা ব্যথা তীব্র হলে।

  • আক্রান্ত স্থানে পুঁজ, দুর্গন্ধ বা ক্ষত তৈরি হলে।

  • জ্বরের সঙ্গে ত্বকে লালচে ভাব বা ফোলা দেখা দিলে।

  • বাড়িতে পরিচর্যা করেও সমস্যা না কমলে কিংবা বারবার ফিরে এলে।

  • স্তনের আকার, ত্বকের গঠন বা নিপলে নতুন পরিবর্তন দেখা দিলে।

বিশেষ করে স্তন লাল হয়ে ফুলে যাওয়া, ত্বক কমলালেবুর খোসার মতো হয়ে যাওয়া, নিপল ভেতরের দিকে ঢুকে যাওয়া অথবা একদিকে স্থায়ী ও অস্বাভাবিক র‍্যাশ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের মূল্যায়ন প্রয়োজন। বিরল ক্ষেত্রে স্তনের গুরুতর রোগও র‍্যাশের মতো লক্ষণ তৈরি করতে পারে। 

ডায়াবেটিস থাকলে কেন বেশি সতর্ক থাকা দরকার?

ডায়াবেটিসে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে না থাকলে ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই ডায়াবেটিস থাকলে স্তনের নিচে বারবার র‍্যাশ হলে বা ক্ষত তৈরি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে দেরি করবেন না। 

ইন্টারট্রিগো কি ছোঁয়াচে?

শুধু ঘর্ষণ ও আর্দ্রতার কারণে হওয়া ইন্টারট্রিগো নিজে ছোঁয়াচে নয়। তবে এর সঙ্গে কোনও সংক্রমণ যুক্ত থাকলে সেই সংক্রমণের ধরন অনুযায়ী সতর্কতা প্রয়োজন হতে পারে। তাই সব র‍্যাশকে একই ধরনের সংক্রমণ মনে করা উচিত নয়।

শেষ কথা

স্তনের নিচে র‍্যাশ হওয়া মানেই গুরুতর কোনও রোগ নয়। অনেক ক্ষেত্রেই ঘাম, আর্দ্রতা এবং ত্বকের ঘর্ষণ এর প্রধান কারণ। আক্রান্ত স্থান পরিষ্কার ও শুকনো রাখা এবং সঠিক পোশাক পরার মাধ্যমে সমস্যা কমানো সম্ভব। তবে র‍্যাশ দীর্ঘস্থায়ী হলে, ব্যথা বাড়লে বা সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।