নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: শারদোৎসবের আনন্দে মেতে উঠেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বিভিন্ন প্রান্ত। দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে পাড়ায় পাড়ায় চলছে মণ্ডপসজ্জা, প্রতিমা দর্শনের প্রস্তুতি এবং উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। সেই উৎসবের আবহে বজবজ বিধানসভা এলাকার চকমানিক জাতীয় সংঘ পরিচালিত ৬৪ বছরের ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপুজোর মণ্ডপের উদ্বোধনী কার্যক্রম ঘিরে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।
চকমানিক জাতীয় সংঘের এই দুর্গাপুজো দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আবেগের সঙ্গে যুক্ত। ৬৪ বছরের এই পুজোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে রয়েছে বিশেষ আগ্রহ। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে দুর্গাপুজোর ঐতিহ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ক্লাবের সদস্য, উদ্যোক্তা এবং এলাকার মানুষের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
দুর্গাপুজো বাঙালির অন্যতম প্রধান উৎসব। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে মানুষের মধ্যে তৈরি হয় আনন্দ, সম্প্রীতি ও মিলনের পরিবেশ। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা সর্বজনীন দুর্গাপুজোগুলি একটি এলাকার ঐতিহ্য ও সামাজিক বন্ধনের পরিচয় বহন করে।
চকমানিক জাতীয় সংঘের ৬৪ বছরের দুর্গাপুজোও সেই ঐতিহ্যের ধারক। প্রতি বছর পুজোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ এবং উদ্যোক্তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা উৎসবের গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তোলে। মণ্ডপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সেই শারদোৎসবের সূচনাকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
চকমানিক জাতীয় সংঘ পরিচালিত দুর্গাপুজোর মণ্ডপ উদ্বোধনী কার্যক্রমে পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের উপস্থিতি অনুষ্ঠানের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক। তাঁকে ঘিরে পুজো উদ্যোক্তা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উৎসাহ দেখা যায়। দুর্গাপুজোর মতো সর্বজনীন উৎসবে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ স্থানীয় মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের একটি সুযোগ তৈরি করে।
অনুষ্ঠানে পুজো কমিটির সদস্য এবং এলাকার মানুষের উপস্থিতি এই আয়োজনের সামাজিক গুরুত্বকে তুলে ধরে। তবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রীর বক্তব্য বা বিশেষ কোনও ঘোষণার বিবরণ পাওয়া গেলে তা নিশ্চিত করে প্রতিবেদনে যুক্ত করা যেতে পারে।
দুর্গাপুজো কেবল ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, সাংস্কৃতিক আদানপ্রদান এবং সামাজিক সম্প্রীতি গড়ে তোলারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। পুজোর আয়োজন সফল করতে ক্লাবের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা, স্বেচ্ছাসেবক এবং বিভিন্ন বয়সের মানুষের সম্মিলিত ভূমিকা থাকে।
চকমানিক জাতীয় সংঘের দীর্ঘদিনের পুজো সেই সামাজিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করার একটি ক্ষেত্র। উৎসবের দিনগুলিতে দর্শনার্থীদের সুবিধা, মণ্ডপের পরিচ্ছন্নতা এবং নিরাপত্তার দিকে নজর দেওয়াও পুজো উদ্যোক্তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
৬৪ বছরের পুজো মানে শুধু একটি দীর্ঘ সময়ের ধারাবাহিকতা নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এলাকার মানুষের স্মৃতি, আবেগ এবং সাংস্কৃতিক পরিচয়। সময়ের সঙ্গে পুজোর আয়োজনের ধরন বদলালেও সর্বজনীন উৎসবের মূল ভাবনা—একসঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়া—আজও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই ঐতিহ্যকে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। প্রবীণদের অভিজ্ঞতা এবং তরুণদের উদ্যোগ একত্রিত হলে পুজোর আয়োজন আরও সুসংগঠিত ও আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে।
সব মিলিয়ে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বজবজ বিধানসভা এলাকার চকমানিক জাতীয় সংঘের ৬৪ বছরের দুর্গাপুজোর মণ্ডপ উদ্বোধনী কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে উৎসবের আবহ। পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের উপস্থিতিতে এই কর্মসূচি ঘিরে স্থানীয় স্তরে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। মা দুর্গার আরাধনায় সকলের অংশগ্রহণ, পারস্পরিক সম্প্রীতি এবং আনন্দের মধ্য দিয়ে শারদোৎসব আরও সুন্দর হয়ে উঠুক—এমনই প্রত্যাশা এলাকার পুজোপ্রেমীদের।