নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: শারদোৎসবের আনন্দে মেতে উঠেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর, সোনারপুর ও গড়িয়া সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকা। দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পুজো মণ্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি, সাজসজ্জা এবং উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। সেই উৎসবের আবহেই বারুইপুর ও আশপাশের একাধিক সর্বজনীন দুর্গাপুজোর শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন পুজো উদ্যোক্তা, ক্লাবের সদস্য এবং এলাকার বহু বাসিন্দা।
বারুইপুরের অজেয় সংঘ, বারুইপুর ফুলতলা, পিয়ালী টাউন বিধান স্মৃতি সংঘ, ৭ ও ৮-এর পল্লী সার্বজনীন, নরেন্দ্রপুর গ্রীন পার্ক সার্বজনীন এবং গড়িয়া আমরা কজনের মতো বিভিন্ন পুজো মণ্ডপকে কেন্দ্র করে উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। পুজোর উদ্বোধন ঘিরে উদ্যোক্তা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে দেখা যায় উৎসাহ ও উদ্দীপনা।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর, সোনারপুর ও গড়িয়া অঞ্চলে দুর্গাপুজোকে ঘিরে প্রতি বছরই মানুষের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ দেখা যায়। পাড়ার ক্লাব ও সর্বজনীন পুজো কমিটিগুলির উদ্যোগে তৈরি হয় বিভিন্ন থিমের মণ্ডপ, আকর্ষণীয় আলোকসজ্জা এবং প্রতিমা দর্শনের ব্যবস্থা।
এবারও বিভিন্ন পুজো কমিটির উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছে শারদোৎসবের। বারুইপুরের অজেয় সংঘ থেকে শুরু করে ফুলতলা, পিয়ালী টাউন বিধান স্মৃতি সংঘ এবং ৭ ও ৮-এর পল্লী সার্বজনীন—একাধিক পুজোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মানুষের মধ্যে উৎসবের আনন্দ ছড়িয়ে পড়েছে। একইভাবে নরেন্দ্রপুর গ্রীন পার্ক সার্বজনীন এবং গড়িয়া আমরা কজনের পুজোও এলাকার শারদোৎসবের আবহকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে।
দুর্গাপুজো বাংলার মানুষের কাছে শুধুমাত্র ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি সামাজিক মিলন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং পারস্পরিক সম্প্রীতিরও প্রতীক। পুজোর আয়োজনকে সফল করে তুলতে ক্লাবের সদস্য, স্থানীয় বাসিন্দা, স্বেচ্ছাসেবক এবং বিভিন্ন স্তরের মানুষের সম্মিলিত ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
এই পুজোগুলির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও পুজো উদ্যোক্তা ও এলাকার অধিবাসীদের উপস্থিতি উৎসবের সামাজিক গুরুত্বকে তুলে ধরে। মা দুর্গার আরাধনাকে কেন্দ্র করে মানুষের এই সক্রিয় অংশগ্রহণ আগামী দিনে আরও বৃহত্তর সামাজিক সংযোগ ও সম্প্রীতির পরিবেশ গড়ে তুলতে সাহায্য করবে বলে আশা করা যায়।
বারুইপুর, সোনারপুর ও গড়িয়া সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকার বিভিন্ন পুজোকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা ও উৎসাহের সঞ্চার হয়েছে। পুজোর আয়োজন ক্রমশ আরও বর্ণময় হয়ে উঠছে। প্রতিমা, মণ্ডপসজ্জা, আলোকসজ্জা এবং সাংস্কৃতিক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে উৎসবের আনন্দ পৌঁছে যাচ্ছে বিভিন্ন প্রজন্মের মানুষের কাছে।
পুজো উদ্যোক্তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং এলাকার মানুষের সহযোগিতায় এই উৎসব আরও সুন্দর ও সুশৃঙ্খল হয়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা। একই সঙ্গে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা, ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাও পুজোর দিনগুলিতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
উদ্বোধনী কর্মসূচিকে ঘিরে উঠে এসেছে সমাজের সার্বিক উন্নয়ন ও মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ভাবনাও। একটি উন্নত সমাজ গড়ে তুলতে শুধু উৎসব উদযাপন নয়, সামাজিক দায়িত্ব পালন, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সমাজ সংস্কারের লক্ষ্যে একজোট হয়ে কাজ করাও জরুরি।
সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষ একসঙ্গে এগিয়ে এলে এমন একটি বাংলা গড়ে তোলা সম্ভব, যার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও উন্নয়ন নিয়ে প্রত্যেকে গর্ববোধ করতে পারবেন। দুর্গাপুজোর মতো সর্বজনীন উৎসব মানুষের মধ্যে সেই ঐক্য ও সহযোগিতার মনোভাবকে আরও দৃঢ় করার সুযোগ এনে দেয়।
শারদোৎসবের এই আনন্দঘন মুহূর্তে সকলের জন্য শান্তি, সুস্বাস্থ্য, সুখ ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়েছে। মানুষে মানুষে বিভেদ ভুলে একসঙ্গে উৎসব উদযাপন এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রাখার বার্তাও উঠে এসেছে।
বারুইপুর, সোনারপুর ও গড়িয়া সংলগ্ন এলাকার বিভিন্ন দুর্গাপুজোর শুভ উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে যে উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে, তা আগামী দিনগুলিতেও মানুষের মধ্যে আনন্দ ও সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও মজবুত করবে বলে প্রত্যাশা।
সব মিলিয়ে, একাধিক পুজো মণ্ডপের উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ ২৪ পরগনার এই বিস্তীর্ণ এলাকায় শারদোৎসবের আনন্দ নতুন মাত্রা পেয়েছে। মা দুর্গার আশীর্বাদে সকলের জীবন আনন্দময় হোক, সবাই মিলেমিশে থাকুন, ভালো থাকুন—এই কামনাতেই শুরু হয়েছে উৎসবের দিনগুলি।