Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে সম্পাদকিয় কলম
BREAKING NEWS
প্রযুক্তিতে ভারতের চর্চা গোটা বিশ্বে হবে   •   কলকাতার ঘোড়ার গাড়ি নিয়ে বিশেষ বৈঠক, ঐতিহ্য ও প্রাণীকল্যাণে নতুন ভাবনা অগ্নিমিত্রা পালের   •   হুমায়ুন কবীরকে ঘিরে দুর্গাপুরে বিজেপির অভিনব প্রতিবাদ, প্রতীকী কবর ও ‘শ্রাদ্ধ’ ঘিরে চাঞ্চল্য   •   কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা, বজ্রপাত ও দমকা হাওয়ার সম্ভাবনা   •   ক্ষেতি হাই স্কুলে নবম সাব-জুনিয়র রাজ্য নেটবল চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬, তরুণ খেলোয়াড়দের উৎসাহ দিলেন নিশীথ প্রামাণিক   •   প্রতিদিন নদী সাঁতরে স্কুলে যান শিক্ষক, ‘টিউব মাস্টার’ আবদুল মালিকের অনন্য কাহিনি

কলকাতার ঘোড়ার গাড়ি নিয়ে বিশেষ বৈঠক, ঐতিহ্য ও প্রাণীকল্যাণে নতুন ভাবনা অগ্নিমিত্রা পালের

07 Oct 2026
08:53 PM

নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: কলকাতার সার্বিক উন্নয়ন, নাগরিক পরিষেবার মানোন্নয়ন এবং শহরের ঐতিহ্যকে আধুনিক ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। কলকাতা পুরসভা, কলকাতা পুলিশ, প্রাণীকল্যাণ সংস্থা PETA India, CAPE Foundation এবং কলকাতার ঘোড়ার গাড়ি সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এই বৈঠকে শহরের ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার গাড়ি পরিষেবা, নাগরিক নিরাপত্তা এবং প্রাণীদের কল্যাণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

কলকাতার ময়দান ও ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল সংলগ্ন এলাকায় ঘোড়ার গাড়ি দীর্ঘদিন ধরেই শহরের ঐতিহ্য ও পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত। ফলে এই পরিষেবাকে ঘিরে যে কোনও পরিবর্তনের ক্ষেত্রে একদিকে কলকাতার ঐতিহ্য রক্ষা, অন্যদিকে নাগরিক ও প্রাণীর নিরাপত্তা—দুই বিষয়কেই গুরুত্ব দিতে হচ্ছে। বৈঠকে এই দুই দিকের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে ভবিষ্যতের ব্যবস্থা নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।

ঘোড়ার গাড়ির বদলে ই-কারেজের ভাবনা

সাম্প্রতিক বৈঠকে কলকাতার পর্যটনমূলক ঘোড়ার গাড়ির পরিবর্তে ঐতিহ্যবাহী চেহারার বৈদ্যুতিক গাড়ি বা ‘ই-কারেজ’ চালুর একটি পাইলট প্রকল্পের প্রস্তাব সামনে এসেছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে নতুন ধরনের যানগুলির নিরাপত্তা, পরিচালন খরচ, চার্জিংয়ের প্রয়োজনীয়তা এবং যাত্রী পরিষেবায় কার্যকারিতা পর্যালোচনা করা হবে। এরপর বৃহত্তর পরিসরে তা চালুর সম্ভাবনা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।

প্রস্তাবিত ই-কারেজের অন্যতম লক্ষ্য হল কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার গাড়ির দৃশ্যমান বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে প্রাণীনির্ভর পরিবহণের বিকল্প তৈরি করা। অর্থাৎ শহরের পর্যটন-আকর্ষণ এবং ঐতিহ্যকে সম্পূর্ণ বাদ না দিয়ে আধুনিক ও প্রাণীবান্ধব ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাওয়ার একটি সম্ভাব্য পথ খোঁজা হচ্ছে।

প্রাণীদের কল্যাণ নিয়েও আলোচনা

বৈঠকে ঘোড়াগুলির স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও কাজের পরিবেশের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। PETA India দীর্ঘদিন ধরেই কলকাতার ঘোড়ার গাড়ি পরিষেবায় ব্যবহৃত ঘোড়াদের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। ২০২৬ সালেও কলকাতায় অসুস্থ ও আহত ঘোড়া উদ্ধারের ঘটনা সামনে এসেছে এবং এই পরিষেবার পরিবর্তে ঐতিহ্যবাহী নকশার ই-কারেজ চালুর দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

এর আগে কলকাতা হাইকোর্টও ঘোড়ার গাড়ি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত ঘোড়াদের অবস্থা এবং গাড়ির মালিকদের পুনর্বাসনের বিষয়টি নিয়ে গুরুত্ব আরোপ করেছিল। ২০২৪ সালের একটি নির্দেশে ঘোড়ার মালিকদের বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা করার জন্য প্রস্তাব তৈরির কথা বলা হয়েছিল, যাতে কলকাতায় ঘোড়ার গাড়ি বন্ধ বা বিকল্প ব্যবস্থার সম্ভাবনা পরীক্ষা করা যায়।

মালিক ও চালকদের জীবিকার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ

ঘোড়ার গাড়ির সঙ্গে যুক্ত মালিক ও চালকদের জীবিকার বিষয়টিও বৈঠকের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কোনও পরিবর্তন কার্যকর করার ক্ষেত্রে শুধু প্রাণীকল্যাণ বা নাগরিক নিরাপত্তাই নয়, বর্তমানে এই পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত মানুষের ভবিষ্যৎ জীবিকা কীভাবে সুরক্ষিত রাখা যায়, সেটিও বিবেচনা করার প্রয়োজন রয়েছে।

এই কারণেই প্রস্তাবিত পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে বাস্তবে নতুন ব্যবস্থা কতটা কার্যকর, তা যাচাই করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। ই-কারেজ চালু হলে পুরনো পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত মালিক ও চালকদের কীভাবে নতুন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা যায়, সেই বিষয়টিও পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ঐতিহ্য বনাম আধুনিকতা নয়, সমন্বয়ের চেষ্টা

কলকাতার ঘোড়ার গাড়ি শুধু একটি যানবাহন নয়, বহুদিন ধরে শহরের ঐতিহাসিক পরিচয় ও পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত একটি দৃশ্য। তাই এই পরিষেবা নিয়ে আলোচনায় ‘ঐতিহ্য বনাম আধুনিকতা’—এমন সরল সমীকরণের বদলে ঐতিহ্যকে অন্যভাবে ধরে রাখার সম্ভাবনাও সামনে আসছে।

ই-কারেজের নকশায় যদি পুরনো ঘোড়ার গাড়ির ঐতিহ্যবাহী চেহারা বজায় রাখা যায়, তাহলে পর্যটকদের জন্য কলকাতার সেই পরিচিত অভিজ্ঞতার একটি বিকল্প সংস্করণ তৈরি হতে পারে। একইসঙ্গে ঘোড়াকে ব্যবহার না করেও পর্যটন পরিষেবা পরিচালনার সুযোগ তৈরি হবে।

নাগরিক নিরাপত্তার দিকটিও গুরুত্বপূর্ণ

ময়দান ও ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল সংলগ্ন এলাকায় পর্যটক ও সাধারণ মানুষের যাতায়াতের কারণে নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। ঘোড়ার গাড়ি এবং ব্যস্ত শহুরে যান চলাচলের মধ্যে দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়েও বিভিন্ন সময়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রাণীদের অসুস্থতা বা রাস্তায় হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঘটনাও নাগরিক নিরাপত্তার প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। PETA India তাদের সাম্প্রতিক রিপোর্টে কলকাতায় ঘোড়াদের দুর্ঘটনা ও আহত হওয়ার একাধিক ঘটনার কথা উল্লেখ করেছে।

এই পরিস্থিতিতে কলকাতা পুরসভা, পুলিশ, প্রাণীকল্যাণ সংস্থা এবং ঘোড়ার গাড়ির সঙ্গে যুক্ত প্রতিনিধিদের একসঙ্গে আলোচনায় বসা বিষয়টিকে আরও সমন্বিতভাবে দেখার সুযোগ তৈরি করেছে।

পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের উপস্থিতিতে হওয়া এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল কলকাতার নাগরিক স্বার্থ, শহরের ঐতিহ্য, জননিরাপত্তা এবং প্রাণীকল্যাণ—সবকটি বিষয়কে একই আলোচনার পরিসরে আনা। ভবিষ্যতে পাইলট প্রকল্প বাস্তবে কতটা এগোয় এবং কলকাতার ঘোড়ার গাড়ি পরিষেবায় কী ধরনের পরিবর্তন আসে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।

কলকাতার ঐতিহ্যকে অক্ষুণ্ণ রেখে যদি আধুনিক, নিরাপদ ও প্রাণীবান্ধব পরিবহণ ব্যবস্থা তৈরি করা যায়, তাহলে শহরের পর্যটন ও নাগরিক পরিষেবার ক্ষেত্রেও তার প্রভাব পড়তে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত, বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা এবং মাঠপর্যায়ের পর্যালোচনাই গুরুত্বপূর্ণ হবে।