নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: হুমায়ুন কবীরকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই দুর্গাপুরে বিজেপির অভিনব প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে তৈরি হল চাঞ্চল্য। হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে বিতর্কিত মন্তব্যের অভিযোগ তুলে বিজেপি যুব মোর্চার পক্ষ থেকে দুর্গাপুরে কুশপুত্তলিকা নিয়ে প্রতিবাদ দেখানো হয়। সেই কর্মসূচিতে কুশপুত্তলিকাকে ঘিরে প্রতীকী ‘শ্রাদ্ধ’ ও পরে ‘কবর’ দেওয়ার মতো কর্মসূচি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়। স্থানীয় সংবাদ প্রতিবেদনে এই কর্মসূচির কথা উঠে এসেছে।
জানা গিয়েছে, দুর্গাপুরের সিটি সেন্টার বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় বিজেপি যুব মোর্চার কর্মী-সমর্থকেরা জমায়েত করেন। তাঁদের হাতে ছিল কালো পতাকা। এরপর হুমায়ুন কবীরের কুশপুত্তলিকাকে খাটে শুইয়ে নিয়ে এলাকায় প্রতিবাদ মিছিল করা হয়। কুশপুত্তলিকায় জুতোর মালা পরানো হয় এবং বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিজেপি কর্মীরা। পরবর্তী পর্যায়ে বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকাতেই কুশপুত্তলিকাটিকে প্রতীকীভাবে ‘কবর’ দেওয়া হয়।
এই কর্মসূচিকে ঘিরে আরও একটি অভিনব দিক সামনে আসে। মন্ত্রপাঠের মাধ্যমে প্রতীকী পারলৌকিক কাজ করার আয়োজন করা হয় বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিবাদের এমন প্রতীকী পদ্ধতি ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই এলাকায় কৌতূহল তৈরি হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে।
রেজিনগর উপনির্বাচনের প্রচারপর্বে হুমায়ুন কবীরের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করেই রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন এবং তাঁর বক্তব্যে ‘মৃত্যু কামনা’র প্রসঙ্গ উঠে এসেছিল। এই মন্তব্যের পর বিজেপির পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।
এরই প্রতিবাদে দুর্গাপুরে বিজেপি যুব মোর্চার এই কর্মসূচি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিরোধিতাকে প্রকাশ করতে কুশপুত্তলিকা নিয়ে মিছিল, জুতোর মালা এবং প্রতীকী কবর দেওয়ার মতো কর্মসূচি বেছে নেওয়া হয়।
দুর্গাপুরের কর্মসূচির সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে ওঠে প্রতীকী ‘শ্রাদ্ধ’ এবং পরে ‘কবর’ দেওয়ার আয়োজন। মন্ত্রপাঠের মাধ্যমে প্রতীকী পারলৌকিক কাজ সম্পন্ন করার পর কুশপুত্তলিকাকে প্রতীকীভাবে সমাধিস্থ করা হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রতিবাদে সাধারণত মিছিল, স্লোগান, কুশপুত্তলিকা দাহ বা অবস্থান-বিক্ষোভের মতো কর্মসূচি দেখা যায়। তার পরিবর্তে এ ধরনের প্রতীকী আচারকে প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে ব্যবহার করায় দুর্গাপুরের ঘটনাটি আলাদা করে নজর কাড়ে।
বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব ও কর্মীদের বক্তব্য অনুযায়ী, হুমায়ুন কবীরের মন্তব্যের প্রতিবাদ জানাতেই এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিকে ঘিরে এমন মন্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। সেই অবস্থান থেকেই তাঁরা প্রকাশ্যে প্রতিবাদ জানান।
অন্যদিকে, হুমায়ুন কবীরকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক ইতিমধ্যেই রেজিনগর উপনির্বাচনের প্রচারপর্বে বড় জায়গা নিয়েছিল। নির্বাচনের আগে তাঁর বক্তব্য নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে চাপানউতোর দেখা যায়।
রেজিনগর উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ইতিমধ্যেই উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। ভোটের দিন হুমায়ুন কবীরকে পুলিশ আটক করেছিল বলে একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরবর্তী সময়ে তিনি উপনির্বাচন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে দুর্গাপুরের বিজেপির প্রতিবাদ কর্মসূচি রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও আলোচনার মধ্যে নিয়ে আসে। একদিকে নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক চাপানউতোর, অন্যদিকে নেতাদের বক্তব্য নিয়ে পাল্টা অভিযোগ—সব মিলিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে হুমায়ুন কবীরকে ঘিরে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
দুর্গাপুরের কর্মসূচিতে বিজেপি কর্মীদের কালো পতাকা প্রদর্শন, কুশপুত্তলিকা নিয়ে মিছিল, জুতোর মালা পরানো এবং প্রতীকী কবর দেওয়ার দৃশ্য স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
রাজনৈতিক প্রতিবাদের ভাষা নিয়ে অবশ্য মতভেদ থাকতেই পারে। তবে এই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে হুমায়ুন কবীরকে ঘিরে বিজেপির ক্ষোভ প্রকাশ্যে উঠে এসেছে। রেজিনগর উপনির্বাচনের পরও যে এই রাজনৈতিক সংঘাত ও বক্তব্য-পাল্টা বক্তব্যের পর্ব সহজে থামছে না, দুর্গাপুরের এই অভিনব প্রতিবাদ তারই আরেকটি নজির হয়ে সামনে এসেছে।