নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: দুর্গাপুজোর আগে কলকাতা শহরের নাগরিক পরিকাঠামোকে আরও উন্নত করে তুলতে জোরকদমে শুরু হয়েছে রাস্তা ও ফুটপাত সংস্কারের কাজ। পুজোর সময়ে শহরে পথচারীদের সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। সেই কথা মাথায় রেখে বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাতের মেরামতি, সংস্কার, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং সৌন্দর্যায়নের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালও পুজোর আগে নাগরিক পরিষেবার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখতে একাধিক এলাকা পরিদর্শন করছেন।
পুজোর দিনগুলিতে কলকাতার রাস্তায় যেমন যানবাহনের চাপ বাড়ে, তেমনই শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের বড় অংশই মণ্ডপ পরিদর্শনে পায়ে হেঁটে যাতায়াত করেন। ফলে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন পথচারী চলাচলের জন্য ফুটপাতের পরিকাঠামো ঠিক রাখা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এই বিষয়টিকে সামনে রেখেই ফুটপাতগুলিকে চলাচলের উপযোগী করে তোলার উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের উদ্যোগে কলকাতা-সহ একাধিক শহরে পুজোর আগে রাস্তা, ফুটপাত, বাসস্টপ এবং গণশৌচাগারের মতো নাগরিক পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য পাইলট প্রকল্প নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। কলকাতা, বিধাননগর ও হাওড়ায় পুজোর আগেই এই ধরনের কাজ শুরু করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন অগ্নিমিত্রা পাল।
কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় ইতিমধ্যেই রাস্তা সংস্কার ও ফুটপাত সংক্রান্ত কাজ নিয়ে সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন মন্ত্রী। দক্ষিণ কলকাতার সাদার্ন অ্যাভিনিউ, গড়িয়াহাট ও গোলপার্ক এলাকায় পরিদর্শনের সময় ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা, বেআইনি পার্কিং বন্ধ করা, রাস্তার অসমান অংশ সমান করা এবং ম্যানহোল ও গালিপিট পরিষ্কার করার বিষয়ে আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শহরের ফুটপাতের ক্ষেত্রে শুধু সৌন্দর্যায়ন নয়, নিরাপত্তাকেও অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ফুটপাতের কোনও অংশ ভাঙাচোরা বা উঁচুনিচু হয়ে থাকলে বিশেষ করে প্রবীণ, শিশু এবং শারীরিকভাবে অসুবিধায় থাকা মানুষের চলাচলে সমস্যা তৈরি হতে পারে। পুজোর সময়ে বিপুল ভিড়ের মধ্যে এই সমস্যা আরও বড় আকার নিতে পারে। তাই ফুটপাতের মেরামতি এবং চলাচলের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
পাশাপাশি ফুটপাত দখল করে রাখা সামগ্রী, নির্মাণসামগ্রী কিংবা বেআইনি পার্কিংয়ের কারণেও পথচারীদের রাস্তায় নেমে হাঁটতে হয়। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে এবং যান চলাচলেও সমস্যা তৈরি হয়। অগ্নিমিত্রা পাল বিভিন্ন পরিদর্শনে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার বিষয়ে জোর দিয়েছেন।
পুজোর আগে শহরের সৌন্দর্যায়নের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। পরিষ্কার ফুটপাত, মেরামত করা রাস্তা এবং সুশৃঙ্খল নাগরিক পরিকাঠামো কলকাতার সামগ্রিক চেহারায় পরিবর্তন আনতে পারে। একইসঙ্গে শহরে আসা দেশ-বিদেশের পর্যটক এবং পুজো দর্শনার্থীদের কাছে কলকাতার নাগরিক পরিষেবার একটি ইতিবাচক ছবি তুলে ধরার লক্ষ্যও রয়েছে।
এদিকে, ২০২৬ সালের দুর্গাপুজোকে ঘিরে কলকাতায় ইতিমধ্যেই বিশেষ ট্রাফিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ভিড় সামলাতে একাধিক এলাকায় রাস্তা বন্ধ, যানবাহন ঘুরিয়ে দেওয়া এবং নির্দিষ্ট সময়ে পথচারী চলাচলের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে ফুটপাত ও পথচারী ব্যবস্থাপনা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের লক্ষ্য, পুজোর আগে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে প্রয়োজনীয় নাগরিক পরিকাঠামোর কাজ যতটা সম্ভব সম্পূর্ণ করা। রাস্তা ও ফুটপাতের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা, নিকাশি, ম্যানহোল, পার্কিং এবং দখলমুক্ত পরিবেশ তৈরির উপরও নজর দেওয়া হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, দুর্গাপুজোর আগে কলকাতাকে আরও পরিষ্কার, সুন্দর এবং পথচারীবান্ধব করে তুলতে ফুটপাত সংস্কারের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পুজোর ভিড়ের সময়ে নাগরিকদের নিরাপদে যাতায়াত এবং শহরের সৌন্দর্য—এই দুই দিককে সামনে রেখেই পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের এই তৎপরতা বলে জানা যাচ্ছে।