নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: শীতের আমেজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। ভোর ও রাতের দিকে তাপমাত্রা কমতে থাকায় মুরগি পালনের ক্ষেত্রেও বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছেন খামারিরা। বিশেষ করে সদ্য জন্মানো মুরগির বাচ্চাদের জন্য নির্দিষ্ট উষ্ণ পরিবেশ বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণেই শীত পড়তেই মুরগির বাচ্চার বুডার ঘরে কৃত্রিমভাবে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
মুরগির বাচ্চা জন্মের পর প্রথম কয়েক সপ্তাহ তাদের শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা পুরোপুরি তৈরি হয় না। ফলে পরিবেশের তাপমাত্রা কমে গেলে বাচ্চাদের শরীরে ঠান্ডাজনিত চাপ তৈরি হতে পারে। এই সময়ে পর্যাপ্ত উষ্ণতা না থাকলে বাচ্চাদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি নানা ধরনের অসুস্থতার আশঙ্কাও দেখা দিতে পারে। তাই শীতের মরসুমে বুডার ঘরে নির্দিষ্ট তাপমাত্রা বজায় রাখার দিকে বিশেষ নজর দিচ্ছেন খামারিরা।
বুডার ঘরে সাধারণত বৈদ্যুতিক বাল্ব, হিট ল্যাম্প, গ্যাস বা অন্যান্য উপযুক্ত তাপের উৎস ব্যবহার করে কৃত্রিমভাবে উষ্ণ পরিবেশ তৈরি করা হয়। বাচ্চাদের সংখ্যা, ঘরের আকার এবং বাইরের তাপমাত্রার উপর নির্ভর করে তাপের ব্যবস্থা পরিবর্তন করা হয়। লক্ষ্য থাকে, যাতে বাচ্চারা অতিরিক্ত ঠান্ডা বা অতিরিক্ত গরম—কোনও পরিস্থিতির মুখেই না পড়ে।
খামারিদের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, শীতের সময় বাচ্চারা যদি ঠান্ডা অনুভব করে, তাহলে তারা সাধারণত এক জায়গায় গাদাগাদি করে থাকতে শুরু করে। এতে বাতাস চলাচল ব্যাহত হতে পারে এবং একসঙ্গে বেশি বাচ্চা থাকার কারণে অসুস্থতা ছড়ানোর ঝুঁকিও বাড়তে পারে। আবার অতিরিক্ত তাপ হলে বাচ্চারা তাপের উৎস থেকে দূরে সরে গিয়ে হাঁপাতে পারে। তাই শুধু হিটার বা বাল্ব জ্বালালেই হবে না, বাচ্চাদের আচরণ দেখে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করাও গুরুত্বপূর্ণ।
বুডার ঘরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থাও রাখতে হয়। শীতের কারণে ঘর সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিলে উষ্ণতা কিছুটা বজায় থাকলেও ভিতরে আর্দ্রতা এবং ক্ষতিকর গ্যাসের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। ফলে বাচ্চাদের শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই উষ্ণতার পাশাপাশি পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল নিশ্চিত করার উপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন খামারিরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মুরগির বাচ্চার বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের প্রয়োজনীয় তাপমাত্রাও ধীরে ধীরে কমানো যায়। একেবারে ছোট বাচ্চাদের তুলনায় কিছুটা বড় বাচ্চা নিজের শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে বেশি সক্ষম হয়। ফলে বয়স অনুযায়ী বুডার ঘরের পরিবেশ সামঞ্জস্য করা জরুরি।
শীতকালে শুধু তাপমাত্রা নয়, বিছানার উপকরণ বা লিটার ব্যবস্থাপনাতেও নজর দিতে হয়। মেঝেতে আর্দ্রতা জমে থাকলে ঠান্ডার প্রভাব আরও বাড়তে পারে। তাই শুকনো ও পরিষ্কার লিটার ব্যবহার এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার উপর জোর দেওয়া হয়। একই সঙ্গে পরিষ্কার পানীয় জল ও সুষম খাবার সরবরাহ করাও বাচ্চাদের সুস্থ বৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
মুরগির বাচ্চার প্রথম দিকের পরিচর্যা সরাসরি পরবর্তী বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত। ফলে শীতের মরসুমে বুডার ঘরে কৃত্রিম তাপ দেওয়া শুধু ঠান্ডা থেকে বাচ্চাদের রক্ষা করার ব্যবস্থা নয়, বরং তাদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও খামারের উৎপাদনশীলতা বজায় রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
শীত যত বাড়বে, ততই খামারিদের এই ব্যবস্থাপনার উপর নজর বাড়াতে হবে। বিদ্যুৎচালিত তাপের উৎস ব্যবহার করলে নিরাপত্তার বিষয়টিও মাথায় রাখা জরুরি। বৈদ্যুতিক তার, বাল্ব বা হিটারের সংযোগে ত্রুটি থাকলে অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই তাপ দেওয়ার সরঞ্জাম নিরাপদ দূরত্বে রাখা এবং নিয়মিত নজরদারি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে, শীতের শুরুতেই মুরগির বাচ্চার বুডার ঘরে কৃত্রিমভাবে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ খামারিদের নিয়মিত শীতকালীন পরিচর্যারই অংশ। আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সঠিক তাপমাত্রা, পরিচ্ছন্নতা, বায়ু চলাচল, খাবার ও পানীয় জলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারলেই সুস্থভাবে মুরগির বাচ্চা বড় করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।