Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে সম্পাদকিয় কলম
BREAKING NEWS
আয়রন ও ম্যাগনেসিয়াম সাপ্লিমেন্ট একসঙ্গে খাওয়া যায়? সময়ের ব্যবধান কেন গুরুত্বপূর্ণ   •   মোদীর জনসেবার ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে কোচবিহারে ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’, বক্তব্য রাখলেন শমীক ভট্টাচার্য   •   বাথরুম ব্যবহারের পরেও ফের প্রস্রাবের বেগ? কারণ হতে পারে সংক্রমণ থেকে মানসিক চাপ   •   দুর্গাপুজোর আগে নতুন রূপে কলকাতার ফুটপাত, মেরামতি ও সৌন্দর্যায়নে জোর অগ্নিমিত্রা পালের   •   নেতাজি ইন্ডোরে ‘বিকশিত ভারত সংকল্প সভা ও সেবা জ্যোতি যাত্রা’, আত্মনির্ভর ভারতের বার্তা   •   মেদিনীপুরে ‘বিকশিত ভারত সংকল্প সভা’, ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’ ঘিরে বিশেষ কর্মসূচি

কৃষিকাজে আধুনিক প্রযুক্তির নতুন দিশা, মথুরাপুরে ড্রোনের ব্যবহারিক প্রদর্শন

07 Oct 2026
06:09 AM

নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক:  কৃষিক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে চাষাবাদকে আরও সহজ, দ্রুত, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ করার লক্ষ্যে দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুরে অনুষ্ঠিত হল কৃষিকাজে ড্রোনের ব্যবহারিক প্রদর্শন শিবির। ডায়মন্ড হারবার মহকুমা কৃষি দফতরের উদ্যোগে মথুরাপুর-১ নম্বর ব্লকের বীজ খামারে এই বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। শিবিরে মথুরাপুর-১, মথুরাপুর-২ এবং মন্দিরবাজার ব্লকের প্রায় ৭০ জন কৃষক অংশগ্রহণ করেন।

কৃষিক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার ক্রমশ বাড়ছে। সেই ধারাবাহিকতায় জমিতে সার ও কীটনাশক প্রয়োগের কাজে ড্রোন কীভাবে ব্যবহার করা যায়, তা হাতেকলমে কৃষকদের সামনে তুলে ধরা হয় এই শিবিরে। নির্দিষ্ট উচ্চতা ও নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে ড্রোনের মাধ্যমে জমিতে সার এবং কীটনাশক সুষমভাবে স্প্রে করার প্রক্রিয়া দেখানো হয়। এর ফলে অল্প সময়ের মধ্যে তুলনামূলক বেশি জমিতে স্প্রে করা সম্ভব হবে বলে কৃষি দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

কৃষিক্ষেত্রে বর্তমানে অন্যতম বড় সমস্যা হল শ্রমিকের অভাব এবং শ্রমের ক্রমবর্ধমান খরচ। অনেক ক্ষেত্রেই জমিতে শ্রমিক না পাওয়ার কারণে সময়মতো সার বা কীটনাশক প্রয়োগ করা সম্ভব হয় না। আবার হাতে বা প্রচলিত পদ্ধতিতে স্প্রে করতে গেলে বেশি সময় ও শ্রমের প্রয়োজন হয়। সেই জায়গায় ড্রোন প্রযুক্তি কৃষকদের জন্য কার্যকর বিকল্প হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা।

ড্রোন ব্যবহারের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হল সার ও কীটনাশকের অপচয় কমানো। নির্দিষ্ট পরিমাণে এবং তুলনামূলকভাবে সমানভাবে জমির বিভিন্ন অংশে স্প্রে করা সম্ভব হওয়ায় প্রয়োজনের অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহারের সম্ভাবনা কমতে পারে। এর ফলে একদিকে যেমন কৃষকের উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে, অন্যদিকে পরিবেশের উপরেও অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহারের চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।

শুধু সময় ও খরচ কমানো নয়, কৃষকদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে জমিতে কীটনাশক স্প্রে করতে গিয়ে কৃষকদের নানা ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে হয়। জল জমে থাকা বা ঘন আগাছায় ঢাকা জমিতে কাজ করার সময় সাপের কামড়ের আশঙ্কাও থাকে। ড্রোনের মাধ্যমে দূর থেকে স্প্রে করা সম্ভব হলে কৃষককে সরাসরি জমিতে নেমে রাসায়নিক প্রয়োগ করতে হবে না। ফলে সর্পদংশনসহ বিভিন্ন শারীরিক ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।

শিবিরে উপস্থিত কৃষকদের ড্রোনের কার্যপ্রণালী, জমিতে স্প্রে করার পদ্ধতি এবং প্রযুক্তিটির সম্ভাব্য ব্যবহার সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে বোঝানো হয়। কৃষকদের উদ্দেশে জানানো হয়, কৃষিক্ষেত্রে যন্ত্রায়নের প্রসার ঘটাতে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থাও রয়েছে।

কৃষি যন্ত্রায়ন প্রকল্পের আওতায় ড্রোন কেনার ক্ষেত্রে ৫০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত সরকারি ভর্তুকির সুযোগ রয়েছে বলে কৃষি দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কৃষক ও কৃষির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা আধুনিক প্রযুক্তিকে নিজেদের চাষাবাদ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করতে পারবেন। ড্রোন কেনার জন্য ৬ অক্টোবর থেকেই আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে বলেও শিবিরে জানানো হয়।

কৃষি দফতরের মতে, ভবিষ্যতে কৃষিক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়বে। শ্রমিকের ঘাটতি, সময়ের সাশ্রয়, উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষকদের নিরাপত্তা—একাধিক দিক থেকে ড্রোন প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। বিশেষ করে বড় জমিতে দ্রুত সার বা কীটনাশক প্রয়োগের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তির ব্যবহার কৃষকদের কাজকে অনেকটাই সহজ করে দিতে পারে।

মথুরাপুরের এই ব্যবহারিক প্রদর্শন শিবিরে কৃষকদের অংশগ্রহণও প্রযুক্তি সম্পর্কে তাঁদের আগ্রহের বিষয়টি সামনে এনেছে। কৃষিকাজের প্রচলিত পদ্ধতির পাশাপাশি আধুনিক যন্ত্র ও প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে চাষের খরচ ও সময় কমানো যায়, সেই বিষয়ে কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যেই এই ধরনের প্রদর্শনীর আয়োজন বলে কৃষি দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার কৃষিপ্রধান এলাকাগুলিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো গেলে ভবিষ্যতে কৃষিকাজে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হতে পারে। মথুরাপুরে ড্রোনের এই ব্যবহারিক প্রদর্শন সেই প্রযুক্তিনির্ভর কৃষির দিকেই একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কৃষি দফতরের আধিকারিকদের আশা, সরকারি ভর্তুকির সুযোগ এবং প্রযুক্তির সুবিধা সম্পর্কে কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়লে আগামী দিনে আরও বেশি কৃষক ড্রোন-নির্ভর কৃষিকাজের দিকে আগ্রহী হবেন।