Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে সম্পাদকিয় কলম
BREAKING NEWS
EZCC-তে মহানায়ক উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষ উদযাপন, উপস্থিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী   •   মেসি ম্যাচে বঞ্চিত দর্শকদের জন্য ২২ হাজার ফ্রি টিকিট, ভারত-উরুগুয়ে ম্যাচে বড় ঘোষণা শুভেন্দুর   •   মানুষকে সর্বস্বান্ত করা হচ্ছে, কেড়ে নেওয়া হচ্ছে ন্যূনতম অধিকার’, সরকারের বিরুদ্ধে সরব মহম্মদ সেলিম   •   মুর্শিদাবাদে দলীয় জেলা দপ্তরে হামলার অভিযোগ, প্রতিবাদে বহরমপুরে বামফ্রন্টের মিছিল   •   অভিষেক-তিলকের দুর্দান্ত ইনিংস, এশিয়ান গেমসে ক্রিকেটে সোনার মুকুট ভারতের   •   ভারতীয় সংগ্রহালয়ে ‘স্বস্তিকা’ পুস্তিকার শুভ উন্মোচন, উপস্থিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

ধানের গোড়া পচা ও খোলা পচা রোগের আক্রমণ প্রতিরোধে কৃষকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ

04 Oct 2026
03:15 AM

নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: ধান চাষে ফলন কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ বিভিন্ন ধরনের ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগের আক্রমণ। বর্ষাকাল ও অতিরিক্ত আর্দ্র পরিবেশে ধানের জমিতে রোগের প্রকোপ আরও বেড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে ধানের গোড়া পচা এবং খোলা পচা রোগ দেখা দিলে গাছ দুর্বল হয়ে পড়ে, ধীরে ধীরে আক্রান্ত অংশ পচতে শুরু করে এবং গুরুতর ক্ষেত্রে ধানের ফলন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। তাই রোগের লক্ষণ শুরুতেই শনাক্ত করে দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

কীভাবে বুঝবেন ধানের গোড়া পচা রোগ হয়েছে?

ধান গাছের গোড়ায় কালচে বা বাদামি দাগ, পচন এবং নরম হয়ে যাওয়া এই রোগের অন্যতম প্রধান লক্ষণ। আক্রান্ত গাছের নিচের পাতাগুলি প্রথমে হলদে হতে শুরু করে। পরে গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে গাছ সহজেই মাটি থেকে উঠে আসে। রোগ বাড়তে থাকলে গোড়ার অংশে পচন স্পষ্ট হয়ে ওঠে এবং গাছের খাদ্য ও জল পরিবহণে সমস্যা তৈরি হয়।

জমিতে যদি দীর্ঘ সময় জল জমে থাকে, মাটিতে অতিরিক্ত আর্দ্রতা থাকে অথবা জমিতে বায়ু চলাচল কম হয়, তাহলে রোগের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হতে পারে। অতিরিক্ত নাইট্রোজেন সার প্রয়োগ করলেও কিছু রোগের ক্ষেত্রে গাছ নরম ও রোগপ্রবণ হয়ে পড়তে পারে।

খোলা পচা রোগের লক্ষণ

ধানের খোলা বা পাতার আবরণে পচন দেখা দিলে তা দ্রুত শনাক্ত করা দরকার। আক্রান্ত অংশে বাদামি, ধূসর বা কালচে দাগ দেখা দিতে পারে। পরে সেই অংশ দুর্বল হয়ে পচে যেতে পারে। রোগের প্রকোপ বেশি হলে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং শিষ বের হওয়ার সময়ও সমস্যা দেখা দিতে পারে।

অনেক সময় আক্রান্ত জমিতে রোগাক্রান্ত গাছের সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। তাই একটি-দুটি গাছে অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা গেলেও কৃষকদের পুরো জমি ভালোভাবে পরীক্ষা করা উচিত।

রোগের আক্রমণ প্রতিরোধে কী করবেন?

১. জমিতে জল জমতে দেবেন না
ধানের জমিতে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত সময় জল ধরে রাখা এড়ানো উচিত। জমির পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ভালো রাখতে হবে। বিশেষ করে ভারী বৃষ্টির পর জমিতে অতিরিক্ত জল থাকলে দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা জরুরি।

২. সুষম সার ব্যবহার করুন
ধানের জমিতে শুধুমাত্র ইউরিয়া বা নাইট্রোজেন সার বেশি মাত্রায় ব্যবহার না করে মাটির প্রয়োজন অনুযায়ী সুষম সার প্রয়োগ করা উচিত। অতিরিক্ত নাইট্রোজেন গাছের কোমল বৃদ্ধি ঘটিয়ে কিছু রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। মাটি পরীক্ষা করে সার প্রয়োগ করা সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি।

৩. আক্রান্ত গাছ দ্রুত সরিয়ে ফেলুন
জমিতে আক্রান্ত গাছ শনাক্ত হলে সেগুলি সাবধানে তুলে জমি থেকে দূরে সরিয়ে ফেলতে হবে। আক্রান্ত গাছ বা উদ্ভিদের অংশ জমিতে ফেলে রাখলে রোগের বিস্তার বাড়তে পারে। তবে রোগের ধরন নিশ্চিত না করে নির্বিচারে গাছ তুলে ফেলা বা নষ্ট করা উচিত নয়।

৪. পরিষ্কার ও সুস্থ বীজ ব্যবহার করুন
রোগমুক্ত ও প্রত্যয়িত বীজ ব্যবহার করলে অনেক রোগের প্রাথমিক সংক্রমণের ঝুঁকি কমানো যায়। বীজ সংরক্ষণের আগে ভালোভাবে পরীক্ষা করা এবং কৃষি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী বীজ শোধন করা উপকারী।

৫. জমি ও আগাছা পরিষ্কার রাখুন
জমিতে আগাছা বেশি থাকলে বাতাস চলাচল কমে যেতে পারে এবং জমিতে আর্দ্রতা দীর্ঘ সময় ধরে থাকতে পারে। তাই নিয়মিত আগাছা পরিষ্কার করা এবং জমির পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা দরকার।

৬. একই জমিতে রোগের ইতিহাস থাকলে সতর্ক থাকুন
যে জমিতে আগের মরশুমে রোগের প্রকোপ ছিল, পরবর্তী মরশুমে সেই জমিতে আরও সতর্কতা প্রয়োজন। আক্রান্ত গাছের অবশিষ্টাংশ যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা করতে হবে এবং পরবর্তী চাষের আগে জমি প্রস্তুত করার সময় কৃষি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

রাসায়নিক ও জৈব নিয়ন্ত্রণে সতর্কতা

ধানের রোগ দেখা দিলে অনেক কৃষক দ্রুত ছত্রাকনাশক বা অন্যান্য কৃষি রাসায়নিক ব্যবহার করেন। কিন্তু রোগের প্রকৃতি নিশ্চিত না করে কোনও ওষুধ ব্যবহার করা উচিত নয়। কারণ সব রোগের জন্য একই ধরনের ছত্রাকনাশক কার্যকর নয়। ভুল ওষুধ বা ভুল মাত্রায় প্রয়োগ করলে খরচ বাড়ার পাশাপাশি ফসলের ক্ষতি হতে পারে।

রোগের লক্ষণ দেখা দিলে স্থানীয় কৃষি দফতর, কৃষি বিশেষজ্ঞ বা কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের পরামর্শ নিয়ে অনুমোদিত কীটনাশক/ছত্রাকনাশক নির্বাচন করা উচিত। লেবেলে উল্লেখিত মাত্রা, মিশ্রণের নিয়ম, প্রয়োগের সময় এবং নিরাপত্তা নির্দেশিকা অবশ্যই মেনে চলতে হবে।

জৈব পদ্ধতির ক্ষেত্রেও কৃষি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গুরুত্বপূর্ণ। উপকারী অণুজীবভিত্তিক জৈব উপাদান বা ট্রাইকোডার্মা-ভিত্তিক পণ্য কিছু রোগ ব্যবস্থাপনায় ব্যবহার করা হয়, তবে কোন রোগে, কোন পর্যায়ে এবং কী মাত্রায় ব্যবহার করা হবে তা স্থানীয় কৃষি পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারণ করা উচিত।

রোগ প্রতিরোধে সমন্বিত ব্যবস্থাপনাই গুরুত্বপূর্ণ

শুধু ওষুধ প্রয়োগ করে ধানের রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সবসময় কার্যকর নয়। রোগ প্রতিরোধের জন্য সুস্থ বীজ, সঠিক জমি ব্যবস্থাপনা, জল নিষ্কাশন, সুষম সার প্রয়োগ, আগাছা নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত জমি পর্যবেক্ষণ—সবকিছুকে একসঙ্গে গুরুত্ব দিতে হবে।

বিশেষ করে ধান গাছের গোড়া, পাতার খোলা এবং নিচের পাতাগুলি নিয়মিত পরীক্ষা করা দরকার। কোনও অস্বাভাবিক দাগ, পচন, দুর্গন্ধ, গাছের গোড়া নরম হয়ে যাওয়া বা হঠাৎ গাছ হলুদ হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।

কৃষকদের জন্য বিশেষ পরামর্শ

কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, রোগ দেখা দেওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাই বেশি কার্যকর। জমিতে অতিরিক্ত জল, অতিরিক্ত সার এবং ঘন গাছের কারণে তৈরি আর্দ্র পরিবেশ এড়িয়ে চলা দরকার। পাশাপাশি আবহাওয়ার পরিবর্তনের দিকেও নজর রাখতে হবে। টানা বৃষ্টি ও উচ্চ আর্দ্রতার সময় জমি আরও ঘন ঘন পর্যবেক্ষণ করা উচিত।

ধানের রোগের লক্ষণ অনেক সময় একে অপরের সঙ্গে মিল থাকতে পারে। তাই শুধুমাত্র চোখে দেখে রোগের নাম নির্ধারণ করে ওষুধ ব্যবহার না করে প্রয়োজনে আক্রান্ত গাছের নমুনা কৃষি দফতর বা বিশেষজ্ঞের কাছে দেখানো উচিত।

সঠিক সময়ে রোগ শনাক্তকরণ, জমিতে জল ও সার ব্যবস্থাপনার নিয়ন্ত্রণ এবং বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করলেই ধানের গোড়া পচা ও খোলা পচা-সহ বিভিন্ন রোগের ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব। ফলে ফসলের স্বাস্থ্য ভালো থাকবে এবং কৃষকরাও কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়াতে পারবেন।