নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: ইলিশ ধরার মরশুমকে সামনে রেখে সুলতানপুর মৎস্য বন্দরে শুরু হয়েছে জোরকদমে প্রস্তুতি। সমুদ্রে যাওয়ার আগে মাছ ধরার নৌকা, জাল ও অন্যান্য সরঞ্জাম পরীক্ষা করে দেখছেন মৎস্যজীবীরা। দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার পর ফের সমুদ্রে পাড়ি দেওয়ার প্রস্তুতিতে এখন বন্দরে ব্যস্ততা চোখে পড়ছে।
সুলতানপুর মৎস্য বন্দর দক্ষিণ ২৪ পরগনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মৎস্যকেন্দ্র। এই বন্দরকে কেন্দ্র করে বহু মৎস্যজীবী ও তাঁদের পরিবারের জীবিকা নির্ভরশীল। ইলিশের মরশুম শুরু হওয়ার আগে তাই বন্দরের চেনা ছবিও ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করেছে। সারি সারি মাছ ধরার ট্রলার ও নৌকায় চলছে মেরামতি এবং রং করার কাজ।
সমুদ্রে যাওয়ার আগে ট্রলারের ইঞ্জিন, জ্বালানি ব্যবস্থা, আলো, নেভিগেশন সরঞ্জাম এবং অন্যান্য যন্ত্রপাতি পরীক্ষা করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন সমুদ্রে না থাকায় অনেক ট্রলারে ছোটখাটো মেরামতির প্রয়োজন পড়েছে। কোথাও চলছে কাঠের কাজ, কোথাও আবার ইঞ্জিন ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম পরীক্ষা করা হচ্ছে।
একইসঙ্গে মাছ ধরার জালও প্রস্তুত করছেন মৎস্যজীবীরা। ছেঁড়া জাল মেরামত করার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন জাল তৈরি বা কেনার কাজ চলছে। সমুদ্রে দীর্ঘ সময় কাটানোর জন্য বরফ, খাবার, পানীয় জল ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য সামগ্রীও মজুত করার প্রস্তুতি চলছে।
ইলিশ মাছের সঙ্গে বাংলার মানুষের আবেগ ও খাদ্যসংস্কৃতি গভীরভাবে জড়িত। মরশুমে ভালো ইলিশ পাওয়া গেলে মৎস্যজীবীদের পাশাপাশি বাজার, আড়ত এবং মাছ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বহু মানুষের আর্থিক লাভের সুযোগ তৈরি হয়।
সুলতানপুর বন্দরের মৎস্যজীবীদেরও এবার ভালো ইলিশের আশায় বুক বাঁধছেন। তাঁদের আশা, সমুদ্রে মাছের জোগান ভালো থাকলে পরিশ্রমের বিনিময়ে ভালো আয় হবে। তবে সমুদ্রে মাছ ধরার ক্ষেত্রে আবহাওয়া এবং সমুদ্রের পরিস্থিতি বড় ভূমিকা পালন করে। তাই রওনা দেওয়ার আগে আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও প্রশাসনিক নির্দেশিকার দিকেও নজর রাখছেন তাঁরা।
মৎস্যজীবীদের পাশাপাশি ট্রলার মালিক, জাল মেরামতকারী, বরফ ব্যবসায়ী, মাছের আড়তদার এবং পরিবহণের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের মধ্যেও ব্যস্ততা বেড়েছে। একটি ট্রলার সমুদ্রে যাওয়ার প্রস্তুতির সঙ্গে বহু মানুষের কর্মসংস্থান ও আয় জড়িয়ে থাকে।
বন্দরে তাই সকাল থেকেই দেখা যাচ্ছে কর্মচাঞ্চল্যের ছবি। কেউ ট্রলারে মালপত্র তুলছেন, কেউ জাল গোছাচ্ছেন, আবার কেউ ইঞ্জিন পরীক্ষা করছেন। মৎস্যজীবীদের অনেকেই শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সেরে দ্রুত সমুদ্রে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।
সমুদ্রে মাছ ধরার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ট্রলারে পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং জরুরি সরঞ্জাম রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আবহাওয়ার পরিস্থিতি খারাপ হলে যাতে দ্রুত সতর্কতা পাওয়া যায় এবং প্রয়োজনে ট্রলার নিরাপদে ফিরে আসতে পারে, সেই ব্যবস্থাও নিশ্চিত করার প্রয়োজন রয়েছে।
সুলতানপুর মৎস্য বন্দরে এখন তাই একদিকে ইলিশ ধরার প্রস্তুতি, অন্যদিকে জীবিকার নতুন আশায় অপেক্ষা। ট্রলারগুলি সমুদ্রে পাড়ি দেওয়ার পর কেমন ইলিশ ওঠে, তার ওপরই তাকিয়ে রয়েছেন মৎস্যজীবী থেকে শুরু করে মাছ ব্যবসায়ীরাও।