Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে সম্পাদকিয় কলম
BREAKING NEWS
অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে নিউজিল্যান্ড দলে একাধিক নতুন মুখ   •   পাকিস্তানে ত্রিদেশীয় সিরিজে ইংল্যান্ডের নেতৃত্বে হ্যারি ব্রুক, তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার মিশেলে শক্তিশালী দল   •   ইলিশ ধরার প্রস্তুতি তুঙ্গে, সুলতানপুর মৎস্য বন্দরে ব্যস্ততা বাড়ছে   •   বর্ষা শেষের পথে, শীতকালীন সবজি চাষের প্রস্তুতি শুরু কৃষকদের   •   গান্ধী-নেতাজির আদর্শ রক্ষার ডাক, কলকাতায় বামপন্থী দলগুলির মিছিল   •   মায়াপুরের পরিকাঠামো ও নাগরিক পরিষেবা উন্নয়নে বৈঠক, ISKCON প্রতিনিধিদের সঙ্গে অগ্নিমিত্রা পালের আলোচনা

মায়াপুরের পরিকাঠামো ও নাগরিক পরিষেবা উন্নয়নে বৈঠক, ISKCON প্রতিনিধিদের সঙ্গে অগ্নিমিত্রা পালের আলোচনা

02 Oct 2026
07:49 AM

নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক:মায়াপুরের পরিকাঠামো, নাগরিক পরিষেবা এবং আগামী দিনের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করলেন পশ্চিমবঙ্গের নগরোন্নয়ন ও পৌর বিষয়ক মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। মায়াপুরে তাঁর উপস্থিতিতে Urban Development & Municipal Affairs (UDMA), Kolkata Metropolitan Development Authority (KMDA) এবং ISKCON-এর প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সরকারি নথি অনুযায়ী, অগ্নিমিত্রা পাল বর্তমানে রাজ্যের Urban Development & Municipal Affairs দফতরের মন্ত্রী-ইন-চার্জ। 

বৈঠকে মায়াপুরের বর্তমান নাগরিক পরিষেবা, পরিকাঠামোর পরিস্থিতি এবং আগামী দিনে কীভাবে আরও পরিকল্পিতভাবে উন্নয়নমূলক কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বিশেষ করে মায়াপুরে দেশ-বিদেশ থেকে আসা তীর্থযাত্রী ও পর্যটকদের কথা মাথায় রেখে যোগাযোগ ব্যবস্থা, রাস্তা, নিকাশি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, আলো এবং অন্যান্য নাগরিক পরিষেবা উন্নত করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

৭০০–৮০০ একর এলাকাকে ঘিরে বৃহত্তর উন্নয়ন পরিকল্পনা

প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গিয়েছে, মায়াপুরের ISKCON মন্দির সংলগ্ন প্রায় ৭০০–৮০০ একর এলাকা এবং পার্শ্ববর্তী শহরাঞ্চলকে কেন্দ্র করে একটি সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে ভাবা হচ্ছে। পরিকল্পনার আওতায় রাস্তা, ড্রেনেজ, গণপরিবহণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, আলো এবং পর্যটক ও তীর্থযাত্রীদের জন্য বিভিন্ন আধুনিক নাগরিক সুবিধার উন্নয়নের কথা রয়েছে। 

এই বৃহত্তর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সরকারি দফতর ও সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে KMDA-র আধিকারিক, প্রশাসনের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি ISKCON-এর প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আধ্যাত্মিক পরিবেশ বজায় রেখেই উন্নয়নের ভাবনা

মায়াপুর শুধু একটি গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান নয়, ISKCON-এর অন্যতম প্রধান আন্তর্জাতিক কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত। ফলে এখানকার উন্নয়ন পরিকল্পনার ক্ষেত্রে সাধারণ শহরাঞ্চলের পরিকাঠামোগত চাহিদার পাশাপাশি মায়াপুরের আধ্যাত্মিক পরিবেশ, ঐতিহ্য এবং ধর্মীয় গুরুত্বকেও বিবেচনায় রাখার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

অগ্নিমিত্রা পালের সঙ্গে ISKCON-এর প্রভুদের মতবিনিময়ের সময় মায়াপুরের বিভিন্ন সমস্যা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়। স্থানীয় মানুষের প্রয়োজনের পাশাপাশি দেশ-বিদেশ থেকে আসা দর্শনার্থীদের সুবিধা বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে মায়াপুরকে আরও উন্নত করার উদ্যোগ

মায়াপুরে প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক দেশি-বিদেশি দর্শনার্থী আসেন। সেই কারণে এই তীর্থনগরীর নাগরিক পরিকাঠামোকে আরও উন্নত করার প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে। রাজ্য সরকারের প্রস্তাবিত পরিকল্পনার লক্ষ্য মায়াপুরকে আরও সুসংগঠিত ও আধুনিক তীর্থ-পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে অগ্নিমিত্রা পাল মায়াপুরের উন্নয়নকে অন্যান্য শহরের পরিকল্পিত সৌন্দর্যায়ন ও পরিকাঠামো উন্নয়নের সঙ্গে তুলনা করে একটি সামগ্রিক পরিকল্পনার কথা বলেছেন। এই পরিকল্পনা তৈরিতে জাতীয় স্তরের অভিজ্ঞ পরিকল্পনাবিদ ও স্থপতিদের সাহায্য নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। 

নাগরিক পরিষেবায় জোর

মায়াপুরের উন্নয়ন পরিকল্পনায় শুধু বড় পরিকাঠামো নয়, দৈনন্দিন নাগরিক পরিষেবার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। রাস্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার পাশাপাশি নিকাশি, আবর্জনা পরিষ্কার, পর্যাপ্ত আলো এবং গণপরিবহণের মতো বিষয়গুলি একটি পর্যটন ও তীর্থকেন্দ্রের সামগ্রিক পরিষেবার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

নগরোন্নয়ন ও পৌর বিষয়ক দফতরের আওতায় নাগরিক পরিষেবা ও পরিকাঠামো উন্নয়নের বিভিন্ন কাজ পরিচালিত হয়। দফতরের সরকারি ওয়েবসাইটেও নাগরিক অভিযোগ ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন পৌর পরিষেবাকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগের উল্লেখ রয়েছে। 

মায়াপুরের উন্নয়নের ক্ষেত্রে পঞ্চায়েত দফতর-সহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করেও কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। 

সব মিলিয়ে, মায়াপুরের ঐতিহ্য ও আধ্যাত্মিক পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রেখে আধুনিক নাগরিক পরিকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই বৈঠককে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগামী দিনে প্রস্তাবিত পরিকল্পনা কীভাবে বাস্তবে রূপ পায় এবং মায়াপুরের সাধারণ মানুষ, তীর্থযাত্রী ও পর্যটকদের জন্য নাগরিক পরিষেবায় কতটা পরিবর্তন আসে, সেদিকেই নজর থাকবে।