নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী, যিনি মহাত্মা গান্ধী নামে সারা বিশ্বে পরিচিত, তাঁর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে দেশজুড়ে শ্রদ্ধার সঙ্গে তাঁকে স্মরণ করা হচ্ছে। জন্মজয়ন্তীতে গান্ধীজির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর সত্য, অহিংসা ও আত্মত্যাগের আদর্শের কথা তুলে ধরা হয়েছে।
১৮৬৯ সালের ২ অক্টোবর গুজরাটের পোরবন্দরে জন্মগ্রহণ করেন মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী। পরবর্তীকালে তিনি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দেন। সত্যাগ্রহ ও অহিংস আন্দোলনের মাধ্যমে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ইতিহাসে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
গান্ধীজির দর্শনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি ছিল সত্য ও অহিংসা। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে তিনি অহিংস প্রতিরোধের পথকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে অসহযোগ আন্দোলন, আইন অমান্য আন্দোলন এবং ভারত ছাড়ো আন্দোলনের মতো ঐতিহাসিক কর্মসূচি স্বাধীনতা সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে ওঠে।
জন্মজয়ন্তীর এই বিশেষ দিনে গান্ধীজির জীবন ও কর্মের বিভিন্ন দিক নতুন করে স্মরণ করা হয়। তাঁর চিন্তাধারায় সামাজিক সম্প্রীতি, স্বনির্ভরতা, সাধারণ মানুষের অধিকার এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব ছিল।
গান্ধীজির জন্মদিন ভারতে ‘গান্ধী জয়ন্তী’ হিসেবে পালিত হয়। দিনটি আন্তর্জাতিক অহিংসা দিবস হিসেবেও পরিচিত। বিশ্বজুড়ে শান্তি, অহিংসা এবং সংঘাতের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই দিনের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে।
জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে শ্রদ্ধা জানিয়ে বলা হয়েছে, গান্ধীজির জীবন ও আদর্শ আজও সমাজে শান্তি, সহিষ্ণুতা এবং মানবিকতার বার্তা বহন করে। তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি সত্য ও অহিংসার পথ অনুসরণ এবং মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি বজায় রাখার বার্তাও উঠে এসেছে।
মহাত্মা গান্ধীর জন্মজয়ন্তীতে তাঁর স্মৃতির প্রতি জানাই সশ্রদ্ধ প্রণাম।