Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে সম্পাদকিয় কলম
BREAKING NEWS
ঘাটালের বীরসিংহ গ্রামে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ২০৭তম জন্মবার্ষিকী, শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী   •   অষ্টম শ্রেণি থেকেই পড়ুয়াদের বিনামূল্যে সাইকেল, মেদিনীপুরে ‘সারথি’ প্রকল্পের সূচনা   •   কলকাতায় বেঙ্গল ব্রিক ফিল্ড ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক সভা, উপস্থিত পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ   •   ওয়ানডে ব্যাটিং র‍্যাঙ্কিংয়ে কোহলির উত্থান, শীর্ষস্থানের আরও কাছে ভারতীয় তারকা   •   ইলিশ সংরক্ষণে সচেতনতা কর্মসূচি সুলতানপুর মৎস্য বন্দরে, উদ্যোগ দ্য নিওটিয়া ইউনিভার্সিটি ও রাজ্যের মৎস্য দপ্তরের   •   মাছ নষ্ট হবে না! পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে মাছ সংরক্ষণে বড় গবেষণা

ইলিশ সংরক্ষণে সচেতনতা কর্মসূচি সুলতানপুর মৎস্য বন্দরে, উদ্যোগ দ্য নিওটিয়া ইউনিভার্সিটি ও রাজ্যের মৎস্য দপ্তরের

30 Sep 2026
08:04 AM

নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক:  ইলিশ মাছের সংরক্ষণ, টেকসই উৎপাদন এবং মৎস্যজীবীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সুলতানপুর মৎস্য বন্দরে অনুষ্ঠিত হল বিশেষ ইলিশ মাছ সচেতনতা কর্মসূচি। দ্য নিওটিয়া ইউনিভার্সিটির স্কুল অফ ফিশারিজ সায়েন্স এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মৎস্য দপ্তরের সহযোগিতায় এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

ইলিশ শুধু বাঙালির খাদ্যসংস্কৃতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ নয়, রাজ্যের উপকূলবর্তী এলাকার বহু মৎস্যজীবী পরিবারের জীবিকা ও অর্থনীতির সঙ্গেও এই মাছের প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে। ফলে ইলিশের প্রজনন, সংরক্ষণ এবং মৎস্যসম্পদকে দীর্ঘমেয়াদে টিকিয়ে রাখার জন্য সচেতনতা তৈরির প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয় এই কর্মসূচিতে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন দ্য নিওটিয়া ইউনিভার্সিটির স্কুল অফ ফিশারিজ সায়েন্সের ডিন ড. বি. এন. পাল। ইলিশের জীবনচক্র, প্রজননকাল, মাছের আকার অনুযায়ী সংরক্ষণের গুরুত্ব এবং মৎস্যসম্পদের উপর অতিরিক্ত চাপ কমানোর মতো বিষয়গুলি নিয়ে সচেতনতা তৈরির উপর গুরুত্ব দেন তিনি।

ইলিশের প্রজনন ও সংরক্ষণ নিয়ে আলোচনা

কর্মসূচিতে ইলিশের প্রজনন প্রক্রিয়া এবং মাছের প্রাকৃতিক উৎপাদন বজায় রাখার ক্ষেত্রে নদী ও মোহনার পরিবেশের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে প্রজননক্ষম ইলিশ এবং ছোট আকারের ইলিশ সংরক্ষণের বিষয়টি মৎস্যসম্পদের ভবিষ্যতের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত বলে তুলে ধরা হয়।

মৎস্যজীবীদের উদ্দেশে সচেতনতা বার্তায় বলা হয়, ইলিশের প্রাকৃতিক প্রজনন যাতে ব্যাহত না হয়, সেজন্য সরকারি নিয়ম ও নিষেধাজ্ঞা মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্দিষ্ট সময়ে মাছ ধরা বন্ধ রাখা এবং ছোট ইলিশ বা জাটকা রক্ষার মতো পদক্ষেপ ইলিশের ভবিষ্যৎ উৎপাদন ধরে রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

মৎস্যজীবীদের অংশগ্রহণে গুরুত্ব

সুলতানপুর মৎস্য বন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ মৎস্য অবতরণকেন্দ্রে এই ধরনের সচেতনতা কর্মসূচির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। কারণ মৎস্যজীবীরা সরাসরি নদী ও সমুদ্রের সঙ্গে যুক্ত থাকেন এবং মাছের প্রাকৃতিক পরিবর্তন সম্পর্কে তাঁদের বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে।

সচেতনতা কর্মসূচিতে মৎস্যজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে ইলিশ ধরার ক্ষেত্রে তাঁদের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা ও সমস্যার বিষয়ও গুরুত্ব পায়। মাছ ধরার সময়, আবহাওয়া, নদী ও সমুদ্রের পরিস্থিতি এবং ইলিশের গতিবিধির মতো বিষয়গুলি নিয়েও আলোচনা করা হয় বলে জানা যায়।

গবেষণা ও বাস্তব অভিজ্ঞতার সমন্বয়

দ্য নিওটিয়া ইউনিভার্সিটির স্কুল অফ ফিশারিজ সায়েন্সের পক্ষ থেকে ইলিশ সংক্রান্ত গবেষণালব্ধ তথ্য সাধারণ মৎস্যজীবী ও সংশ্লিষ্ট মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা এবং মৎস্যজীবীদের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতার মধ্যে সমন্বয় তৈরি করা গেলে ইলিশ সংরক্ষণের উদ্যোগ আরও কার্যকর হতে পারে বলে মত উঠে আসে।

ইলিশের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদকে দীর্ঘমেয়াদে রক্ষা করাও যে সমান গুরুত্বপূর্ণ, সেই বার্তাই এই কর্মসূচির মাধ্যমে তুলে ধরা হয়।

সরকারি নিয়ম মেনে চলার আহ্বান

ইলিশ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে মৎস্যজীবীদের সরকারি নির্দেশিকা ও নির্ধারিত নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়। প্রজনন মরশুমে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকা এবং ছোট আকারের ইলিশ রক্ষায় সহযোগিতা করার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র সরকারি উদ্যোগে ইলিশ সংরক্ষণ সম্ভব নয়। মৎস্যজীবী, মাছ ব্যবসায়ী, গবেষক, প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতার মাধ্যমেই এই মাছের প্রাকৃতিক সম্পদকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ধরে রাখা সম্ভব।

ইলিশের সঙ্গে জড়িত অর্থনীতিও গুরুত্বপূর্ণ

ইলিশের সঙ্গে শুধু খাদ্যসংস্কৃতিই নয়, একটি বড় অর্থনৈতিক পরিকাঠামোও জড়িয়ে রয়েছে। মৎস্যজীবী থেকে শুরু করে মাছ পরিবহণ, আড়তদার, বিক্রেতা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পেশার মানুষের জীবিকা ইলিশের উপর নির্ভরশীল। ফলে ইলিশের সংখ্যা কমে গেলে তার প্রভাব পড়তে পারে গোটা মৎস্য অর্থনীতির উপর।

এই কারণেই ইলিশ সংরক্ষণকে শুধু একটি মাছের সংরক্ষণ হিসেবে না দেখে বৃহত্তর মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে দেখার প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে আসে সচেতনতা কর্মসূচিতে।

সুলতানপুর মৎস্য বন্দরে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচির মাধ্যমে ইলিশের টেকসই সংরক্ষণ এবং মৎস্যজীবীদের মধ্যে বৈজ্ঞানিক সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ আরও এক ধাপ এগোল। বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাজ্যের মৎস্য দপ্তরের এই ধরনের যৌথ উদ্যোগ ভবিষ্যতে মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে গবেষণা ও মাঠপর্যায়ের কাজের মধ্যে আরও নিবিড় যোগাযোগ তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।